নেট্রাম মিউর - NATRUM MUR

 নেট্রাম মিউর

NATRUM MUR

 




রাসায়নিক চিহ্ন:- নেট্রাম মিউরের রাসায়নিক চিহ্ন nacl.

প্রতিশব্দ : নেট্রাম মিউরের প্রতিশব্দ- সোডি ক্লোরিডাম, সোডিয়াম ক্লোরাইড, নেট্রাম মিউরিয়েটিক, কমনভল্ট, টেবলন্ট।

উৎস ও বর্ণনা ঃ নেট্রাম মিউরের উৎস ও বর্ণনা- পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে শিলা লবণ, খনিজ লবণ বা সৈন্ধব লবণ হিসাবে ইহা দৃষ্ট হয়, সমুদ্র জল হইতেও ইহা নিষ্কাশন করা হয়। ইহা লবনাক্ত স্বাদযুক্ত বর্ণ গন্ধহীন ঘন দানাকারে বা সানা স্ফটিক চূর্ণকারে পাওয়া যায়। ৩ ভাগ জলে ইহা দ্রবীভূত হয় কিন্তু সুরাপানে দ্রবীভূত হয় না । সিলভার নাইট্রেটের দ্রবণের সহিত ইহা সাদা বর্ণের তলানি সৃষ্টি করে।

প্রস্তুতের ফরমূলা: নেট্রাম মিউরের প্রস্তুতের ফরমূলা- এ-৫-এ (তরল), বিচূর্ণ-৭।

প্রস্তুত প্রণালী ঃ নেট্রাম মিউরের প্রস্তুত প্রণালী- ক্লোরাইড অব সোডিয়াম আর্থাৎ সাধারণ লবণ, সুগার অব মিল্কের সহিত প্রথম বিচূর্ণ প্রস্তুত হয়। পরিশ্রুত বদলে দ্রব করিয়া পরে সুরাসার সহযোগে তরল ক্রম প্রস্তুত হয়।

ক্রিয়াস্থান ঃ নেট্রাম মিউরের ক্রিয়াস্থান- ইহা রক্ত, পরিপাক পথের শৈষিত ঝিলী এবং যকৃতের উপর ক্রিয়া প্রকাশ করিয়া রক্তের মন্দাবস্থা আনয়ন করে। শরীরের রস, রক্ত, শুক্র ইত্যাদি। 

মানসিক লক্ষণ :   
১) মানসিক কারণে রোগ, শোক, ভয়, ক্রোধ প্রভৃতি হইতে পারে। 
২) অবসাদগ্রস্ত, পুরাতন রোগে। সান্তনা দিলে বৃদ্ধি। ক্রোধপ্রবণ, অতি সামান্য কারণেই ক্রোধান্ধ হয়। 
৩) নির্জনে বিলাপ করার ইচ্ছা, বিনা কারনে অশ্রুত্যাগ।  
৪) স্নায়বিক দুর্বলতা বশতঃ হাত হইতে জিনিস পড়িয়া যায়। 
৫) চোর ডাকাতের স্বপ্নদেখে, জাগিবার পর বাড়ী ভাল করিয়া যতক্ষণ তলাশ করিয়া না দেখা যায় ততক্ষণ ঐ স্বপ্ন যে সত্য নয় তাহা তাহার বিশ্বাস হয় না।

চরিত্রগত লক্ষণ-
১) প্রচুর ক্ষুধা ও আহার সত্ত্বেও শরীরের মাংসক্ষয় হয়, গ্রীষ্মকালীন উদরাময়ে ভূগিয়া শিশুদের ঘাড় ও গলা শীর্ণ হইয়া আসে।
২) উত্তম ক্ষুধা কিন্তু খাইতে অনিচ্ছা।
৩) প্রচণ্ড শিরঃপীড়া যেন কেহ মাথায় হাতুড়ি মারিতেছে, বাম পার্শ্বগত শিবেনা, উহা সূর্যোদয় হইতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বৃদ্ধি ।
৪) শিশুর উত্তেজিত ভাব, আবদার করিলেও রাগিয়া উঠে, সামান্য কারণে চীৎকার করিয়া কাঁদে, বয়স্কগণ-বিমর্ষ, রোদন পরায়ন, সান্তনা করিলে দুঃখবেগ উপলিয়া উঠে।
৫) জ্বরে মর্ম হইলেই ধীরে ধীরে মাথা ব্যথার উপশম।
৬) জিহ্বায় যেন চুল জড়াইয়া আছে এইরূপ অনুভব।
৭) অত্যন্ত অবসাদ ও বুক ধড়ফড়ানি, শয়নে বৃদ্ধি ।
৮) আহারের পর বুক জ্বালা।
৯) তিক্ত দ্রব্য, লবণ কিংবা লবণাক্ত দ্রব্য আহারে অত্যন্ত ইচ্ছা, রুটিতে বিতৃষ্ণা।
১০) কোষ্ঠবদ্ধ, বোধহয় যেন মলদ্বার সংকুচিত মল শুষ্ক, অতিকষ্টে বাহির হয়, গুঁড়াইয়া যায়, রক্ত পড়ে।
১১) হাতের তালুতে আঁচিল।
১২) নখ আলগা হয়, নখের নীচের চর্ম ফাটে।
১৩) মলদ্বারের ও হাঁটুর ভাঁজের মধ্যে হার্পিস নামক চর্মরোগ। 
১৪) চলিতে হাঁটিতে কাশিতে কাশিতে অসাড়ে প্রস্রাব নির্গমন।
১৫) নিদ্রিত অবস্থায় শয্যা হইতে উঠিয়া বেড়ায়।
১৬) স্ত্রীলোকদের ঋতুস্রাব কালীন ও ঋতু স্রাবের পূর্বে বা পরে মাথাব্যথা। তাহার সাথে মস্তিষ্ক গরমবোধ ও বমি, গা বমি। সকাল ভেলায় নিদ্রাভঙ্গের পর মাথা ব্যথা । 
১৭) স্ত্রী সহবাসের পরেও স্বপ্ন দোষ, অত্যন্ত কামেচ্ছা। কিন্তু ইন্দ্রিয়ের দুর্বলতা, ধ্বজভঙ্গ।
১৮) যোনীর উপরের চুল উঠে যাওয়া।
১৯) সবুজ রঙ্গের প্রদর স্রাব।
২০) রোগীর হাত পা খুব ঠাণ্ডা, আগুনেও যেন গরম করা যায় না। 

রক্তহীনতায় লক্ষণ:- রক্তহীনতায় নেট্রাম মিউর -উত্তম ঔষধ। শরীরের রক্ত যখন কমিয়া যায় ও সেই জন্য সর্বাঙ্গের পুষ্টি সাধনের ব্যাঘাত ঘটে, রোগী যখন ক্রমশঃ দুর্বল ও জীর্ণ শীর্ণ হইয়া পড়ে। সামান্য মানসিক বা শারীরিক পরিশ্রমেই ক্লান্তি বোধ করে ও বুক ধড়ফড় করে তখন নেট্রাম মিউর ব্যবস্থেয়। শরীর হইতে তেজস্কর তরল পদার্থের ক্ষয় হইয়া রক্তহীনতা পীড়া হইলে অর্থাৎ পুরুষদের অতিরিক্ত বীর্য্য ক্ষয় হেতু ও স্ত্রীলোকদের ঋতু সংক্রান্ত পীড়া বশতঃ রক্তহীনতা রোগ হইলে ও দুর্বলতা আসিলে নেট্রাম মিউর সমধিক উপকারী। মাড়ী হইতে সর্বদা রক্ত চুয়াইয়া পড়িতে থাকিলে, মুখে, জিহ্বায়, দাঁতের গোড়ায় ঘা হইলে, শ্বাস-প্রশ্বাসে অত্যন্ত দুর্গন্ধ বাহির হইলে এবং জিহ্বার মানচিত্রের ন্যায় দাগ পড়িলে নেট্রাম মিউর ভাল ফল করে। কোন পুরাতন পীড়ায় রক্ত হীনতার ফলে যখন স্নায়বিক পীড়া দেখিতে যায়, তখন কতকগুলি মানসিক লক্ষণের উপর লক্ষ্য রাখিয়া নেট্রাম মিউর প্রয়োগ করিলে সুফল পাওয়া যায়। যেমন- রোগীর মন সর্বদা বিষণ্ণ থাকে, সামান্য কারণেই কাঁদিয়া ফেলে, সান্তনা দিলে দুঃখ উপলিয়া উঠে, এইরূপ কাঁদার সহিত বুক ধড়ফড় করে ও নাড়ী মাঝে মাঝে থামিয়া যায়, কোন কোন সময় আবার খুব রাগও হয়। কেবল রক্তহীনতা ও দুর্বলতা হেতুই এইরূপ হইয়া থাকে বলিয়া উপরোক্ত লক্ষণসমূহে নেট্রাম মিউর উপকারী।

শিরঃপীড়ায় : শিরঃপীড়ায় নেট্রাম মিউরের লক্ষণ- পুরাতন শিরঃপীড়া, আধকপালে মাথাব্যথা এবং শিরঃশূলে নেট্রাম মিউর একটি মহৌষধ। স্নায়বিক দুর্বলতা ও মাথার ব্রহ্মতালুর ভয়ানক বেদনা ও দপদপ করে। অনেক সময় প্রাতঃকালে ঘুম ভাঙ্গিবার পর হইতেই মাথার দপদপানি ব্যথা আরম্ভ হয়, সঙ্গে পিপাসা থাকে, রোগী যন্ত্রনায় পাগলের মত হইয়া উঠে। নেট্রামে সম্মুখ রগে ভয়ানক বেদনা হয়, তাহাতে মনে হয় যেন কপাল ফাটিবে, কেহ যেন হাতুড়ি মারিতেছে। মাথার ব্রহ্মতালুর বেদনায় মাথা ভারী বোধ হয়, চাপ দিলে যেন যন্ত্রনা একটু কমে। রোগীর মুখ চোখ রক্তহীন ও ফ্যাকাশে বর্ণের। মাথা বেথার সঙ্গে রোগীর দৃষ্টি ঝাপসা হইয়া আসে। স্ত্রীলোকদের ঋতু স্রাবের পর মাথাব্যথার বৃদ্ধি হইলে ইহা উৎকৃষ্ট ঔষধ। বিদ্যালয়ের বালক বালিকাদের শিরঃপীড়ায়ও নেট্রাম মিউর একটি অতি ফলদায়ক ঔষধ। নেট্রাম মিউরের শিরঃপীড়ার একটি বিশেষত্ব এই যে সূর্য উঠার সঙ্গে সঙ্গে শিরঃপীড়া আরম্ভ হইয়া দুই প্রহরে বেদনা অত্যন্ত বৃদ্ধি পায় এবং সুর্যাস্তের সঙ্গে বেদনা কমিয়া যায়। বালক বালিকাদের শিরঃপীড়ায় ক্যাম ফস ও খুব উপকারী।
 
অপুষ্টি ও শীর্ণতায় : অপুষ্টি ও শীর্ণতায় নেট্রাম মিউরের লক্ষণ- যে সকল যুবক ও শিশু পরিপোষক খাদ্য আহার করিয়াও দিন দিন শুকাইয়া যাইতে থাকে সেক্ষেত্রে নেট্রাম মিউর বিশেষ ফলদায়ক। রোগী বেশ খায় দায় কিন্তু শুকাইয়া যায়, গলা ও ঘাড়ের দিকটাই অধিক শীর্ণ হইতে থাকে। শরীরও শুকাইয়া যায়, চামড়াতে ভাঁজ পড়ে, সেই সঙ্গে সর্বদাই পিপাসা থাকে প্রভৃতি লক্ষণে নেট্রাম মিউর ব্যবস্থেয়। এই লক্ষণে কয়েকটি ঔষধের সহিত ইহার তুলনা হইতে পারে। এব্রোটেনামে নীচের দিক অর্থাৎ পা দুইটির অধিক শীর্ণ হইতে থাকে।  
মিউরে উপরের দিক অর্থাৎ গলা ও ঘাড় অধিক শীর্ণ হয়। সার্সাপ্যারিলাতে- নেট্রাম মিউরের ন্যায় ঘাড়ের দিক শুকায় কিন্তু নেট্রাম মিউরের ন্যায় উত্তম উত্তম আহার করা সত্ত্বেও শরীর শুকাইয়া যাওয়া লক্ষণটি সার্সাপ্যারিলাতে নাই। আর সার্সাতে তত ক্ষুধা থাকে না ও শিশুকে বৃদ্ধের ন্যায় দেখায়। আয়োডিয়ামে- রোগীর খুব ক্ষুধা থাকে, খায়ও খুব তথাপি সমস্ত শরীর শুকাইতে থাকে। আর আয়োডিয়ামের রোগী আহারের পর সুস্থ বোধ করে কিন্তু নেট্রাম মিউরের রোগীর আহারের পর অলস ভাব, তন্দ্রা, পেটে উদ্বেগ প্রভৃতি লক্ষণগুলি উপস্থিত হয়, নেট্রামে- রোগী লবণ ও লবণাক্ত দ্রব্য এবং তিক্ত পদার্থ আহার করিতে ভালবাসে।

জ্বরে : জ্বরে নেট্রাম মিউরের লক্ষণ- নেট্রাম মিউর সবিরাম ম্যালেরিয়া জ্বরের একটি মহৌষধ। বিশেষতঃ যে সকল ক্ষেত্রে সবিরাম জ্বর কুইনাইন সেবন দ্বারা চাপা পড়িয়া পুরাতন জ্বরে পরিণত হয় সেখানে নেট্রাম মিউর অতি উৎকৃষ্ট ঔষধ। জ্বরের সময় প্রায় বেলা ১০/১১টা, কখনও কখনও অপরাহ্নে জ্বর আসে। নেট্রামে জ্বর আসার ঠিক পূর্বে মাথার হাতুড়ী মারার মত ব্যথা ও অত্যন্ত পিপাসা থাকে। এই পিপাসা দেখিয়া রোগী বুঝিতে পারে যে এই বার তাহার জ্বর আসিবে। তাহার পর খুব শীত হইয়া কম্প হয় (হাত বা পা হইতে কম্প আরম্ভ হয়), কম্প প্রায় ১ ঘন্টা কাল স্থায়ী হয়। এ সময়েও রোগীর অত্যন্ত পিপাসা থাকে। ভয়ংকর শিরঃপীড়া- তজ্জন্য রোগী অজ্ঞান ভাবে পড়িয়া থাকে। সে কোথায় আছে কিছুই বুঝিতে পারে না। শীতাবস্থায় অতি অল্প পরিমাণে ঘন ঘন জলপান করে। কিন্তু পানীয় জল বমি হইয়া উঠিয়া যায়। উত্তাপাবস্থায় ভয়ানক পিপাসা, অসহ্য মাথা ব্যথা, যেন মাথা ভাঙ্গিয়া যায়, রোগী চক্ষুতে অন্ধকার দেখে, ঘর্ম হইলে শিরঃপীড়া ধীরে ধীরে কমিয়া যায়। ধর্মাবস্থায়- খুব পিপাসা, জ্বরের সকল উপসর্গ (মাথার ও শরীরের বেদনা) প্রচুর পরিমানে ধর্ম হইলে উপশম হইয়া থাকে। জ্বর বিচ্ছেদ হইলে রোগীর অত্যন্ত দুর্বলভাব আসে ও তজ্জন্য নিঝুম হইয়া পড়িয়া থাকে। রোগীর লিভার ও পীহা বর্ধিত হয় এবং তাহাতে সুঁচ ফোটান ব্যথা থাকে। সাদা বর্ণের ঘোলা প্রস্রাব হয়। ঠোঁটের কোণ ফাটে ও ঠোঁটে জ্বর ঠোঁটো বাহির হয়। জ্বর বিরাম কালে অধিক পরিমাণে তরল বাহ্য, অনিয়মিত নাড়ীর গতি, কোমর বেদনা, লিভারের সূঁচ ফোটান ব্যথা, মুখে স্নায়ুশূল বেদনা প্রভৃতি লক্ষণ দৃষ্ট হয়।

জিহ্বায় : জিহ্বায় নেট্রাম মিউরের বিচিত্র লক্ষণ- মানচিত্রের ন্যায় হিজিবিজি রেখাযুক্ত জিহ্বা এই ঔষধের আর একটি বিচিত্র লক্ষণ। নেট্রানে আরও একটি চরিত্রগত লক্ষণ এই যে, রোগী মনে করে যেন তাহার জিহ্বার একগাছি চুল লাগিয়া রহিয়াছে।

সর্দি : নেট্রাম মিউরের সর্দি লক্ষণ- প্রচুর পরিমাণে ঠাণ্ডা জলের মত কাঁচা তরুন সর্দি নাসিকা নিয়া নিঃসরণ उসহ হাঁচি, সর্দি স্রাব কখনও তরল কখনও তছ, একটু ঠাণ্ডা লাগিলেই সর্দি হয়, সর্দি স্রাব যেখানে লাগে তথায় হাজিয়া যায়। ইহার সর্দি আর একটি বিশেষত্ব এই যে, রোগী কোন বস্তুর আমাণ পায় না, কাশিতে গলা সুড় সুড় করে ও স্বরভঙ্গ হইয়া পড়ে, তাহার সহিত ভয়ংকর মাথাব্যথা থাকে।

উদরাময় : নেট্রাম মিউরের উদরাময় লক্ষণ- স্ট্রোমের উদরাময়ে মল জলের মত তরল। মলের বর্ণ কাग, কখনও রক্ত মিশ্রিত, কখনও হাঁসের ডিমের শ্বেতাংশের মত হড়হড়ে, কখনও মলের কোন চিহ্ন থাকে না, বাহ্য কখনও অসাড়ে হয়, কখনও বা খুব জোরে বেগে নির্গত হইতে থাকে, কখনও কখনও উদরাময় ও কোষ্ঠবদ্ধতা পর্যায় ক্রমে দেখা দেয়। বাহ্যের পূর্বে অত্যন্ত পেট ডাকে এবং বায়ু নিঃসরণ কালে অসাড়ে মল নিঃসরণ হইয়া পড়ে। রোগীর মেজাজ অত্যন্ত খিটখিটে হয় ও ক্রুদ্ধ হইয়া উঠে, মুখ শুষ্ক কিংবা তেল চকচকে দেখায়, ইহার সহিত মুখে ঠোঁটে ঘা, ঠোঁট ফোলাফোলা, উদরাময়ের সহিত অত্যন্ত ক্ষুধা, ইত্যাদি লক্ষণগুলিও থাকে। রোগীর গলা ঘাড় অত্যন্ত শীর্ণ ও মাংসহীন হয়। শিশুদের পুরাতন উদরাময়ে এবং গ্রহণী রোগে উপরোক্ত লক্ষণগুলি থাকিলে নেট্রাম বিশেষ উপকারী।
 
কোষ্ঠবদ্ধতার : নেট্রাম মিউরের কোষ্ঠবদ্ধতার লক্ষণ- কোষ্ঠবদ্ধতায় মল অত্যন্ত শুষ্ক, সহজে নির্গত হয় না। তজ্জন্য রোগীকে এত জোরে বেগ দিতে হয় যে, মলদ্বার ফাটিয়া নির্গত হয়। নেট্রামে বড় বড় ন্যাড় বাহ্য নির্দিষ্ট। গুহ্যদ্বারের ক্রিয়াহীনতা জনিত কোষ্ঠবন্ধে এলুমিনা, ভিরেট্রাম, ও সাইলিসিয়া উপযোগী। নেট্রামে কোষ্ঠবদ্ধতা থাকিলে রোগীর মনের অবস্থা খুব খারাপ থাকে। অত্যন্ত শিরঃপীড়া থাকে, মুখে আস্বাদ কটু ও বিশ্বাস হয়। কোষ্ঠশুদ্ধি থাকিলে মনটিও ভাল থাকে।

ঠোঁটের লক্ষণ- নিম্ন ঠোঁটের মধ্যস্থানে ফাটা ইহা নেট্রামের বিশেষত্ব হইলেও ইহাতে মুখের কোণও ফাটা ফাটা ও ক্ষতযুক্ত হইয়া থাকে। সবিরাম জ্বরে ওঠে জ্বর এঁটো হইলে প্রথমেই ইহা ব্যবহার্য্য।

প্রস্রাবের পীড়ায়
: প্রস্রাবের পীড়ায় নেট্রাম মিউরের লক্ষণ প্রস্রাব পরিমানে বেশী এবং সামান্য ফিকে রঙের হয়। বহুমুত্র, হাঁচি কাশির সহিত এবং চলাফেরা করিতে অসাড়ে প্রস্রাব নিঃসরণ। প্রস্রাবের সময় নিকটে কোন লোক থাকিলে শীঘ্র প্রস্রাব নির্গত হয় না অনেকক্ষণ বসিয়া থাকিতে হয়, মূত্র নিঃসরণের পর জ্বালা ও কুটকুট করা নেট্রাম মিউরের বিশিষ্ট লক্ষণ।
জননেন্দ্রিয় পীড়ায় : জননেন্দ্রিয় পীড়ায় (প্রেমেহ পীড়া) নেট্রাম মিউরের লক্ষণ- নিদ্রিতাবস্থায় স্বপ্নদোষ, স্ত্রীসহবাসের পরও কখন কখন স্বপ্নদোষ। সহবাস কালে লিঙ্গোদ্রেক না হওয়ায় ধ্বরভঙ্গ, স্বপ্নদোষ জনিত কোমরে ব্যথা। প্রমেহ রোগের পুরাতন অবস্থাতে প্রস্রাব জলের ন্যায় তরল কিংবা প্রায় হরিদ্রাবর্ণের হইলে এবং প্রস্রাবের পর মূত্রনালীতে টনটনানি ও কাটা ছেঁড়ার মত বেদনা (প্রস্রাবের পূর্ব্বে বা সময়ে নহে) থাকিলে এই ঔষধ উপকারী। নূতন প্রদেহে ইহা উপকারী নয়।

হৃৎপিণ্ডের পীড়ায় : হৃৎপিণ্ডের পীড়ায় নেট্রাম মিউরের লক্ষণ- রোগী হৃৎপিণ্ডটিকে অতিশয় দুর্বল মনে করে। শুইলে বিশেষতঃ বামদিক চাপিয়া শুইলে বুক ধড়ফড়ানি ও দুর্বলতা যেন আরও বৃদ্ধি পায়, হাত পা অসাড় ও ঠাণ্ডা হয়, হৃৎপিণ্ড কখনও কখনও অত্যন্ত জোরে স্পন্দিত হয়, তাহাতে সমস্ত শরীর যেন কাঁপিয়া উঠে। হৃৎপিতের ভিতর যেন পাখার মত ঝটপট করে, হৃৎপিণ্ডের আঘাত অসমান ও মধ্যলোপী- অর্থাৎ চলিতে চলিতে মধ্যে মধ্যে একেবারে থামিয়া যায়। নড়াচড়ায় বৃদ্ধি পায়। দুর্বল ও রক্তহীন ব্যক্তিগন যাহারা মানসিক শোক সন্তাপে ক্লিষ্ট হইয়াছে কিংবা রস-রক্ত বা শুক্রাদি ক্ষয় হেতু অত্যন্ত দুর্বল হইয়া পড়িয়াছে তাহাদের এই প্রকার হৃৎপিণ্ডের পীড়ায় নেট্রাম উপকারী।
 
দুর্বলতা ও দৃষ্টিশক্তি হ্রাসে : চোখের দুর্বলতা ও দৃষ্টিশক্তি হ্রাসে নেট্রামের লক্ষণ- চোখের প্রায় সমস্ত মাংসপেশীগুলিই দুর্বল হইয়া পড়ে, চোখের পাতা নাড়িবার সময় মাংসপেশীর দুর্বলতা বশত উহা আড়ষ্ট বোধ হয়। পড়িবার সময় অক্ষরগুলি অস্পষ্ট দেখায়, মনে হয় যেন ঐগুলি একসঙ্গে জড়াইয়া গিয়াছে। ঐ সঙ্গে মেরুদণ্ড দুর্বল ও উপদাহযুক্ত হয়। ভাল ঘুম হয় না, দৃষ্টির ব্যঘাত ঘটে।

চক্ষুপীড়ায় ঃ চক্ষুপীড়ায় নেট্রাম মিউরের লক্ষণ- কর্নিয়ার ক্ষত ও কৃষ্ণলা ধাতুর চক্ষু উঠার নেট্রাম বিশেষ উপযোগী। চক্ষুর কোণেও মুখের কোণে ফাটা ফাটা দেখা যায়। চক্ষুতে অভ্যন্ত জ্বালা, বেঁধা ফোঁড়ার মত অব্যক্ত যন্ত্রনা, এত কর কর করে যে মনে হয় চোখে বালি পড়িয়া রহিয়াছে। অত্যন্ত জল পড়ে ঐ জল যে স্থানে লাগে হাজিয়া চক্ষু যেন বুজিয়া যায়, চক্ষু খুলিতে কষ্ট হয়। ইহার রোগ লক্ষণ প্রাতে বৃদ্ধি হয়। চক্ষুর ছানি হইলেও ফসফোরাস প্রভৃতির ন্যায় নেট্রাম উপকারী।
 
চর্মরোগে : চর্মরোগে নেট্রাম মিউরের লক্ষণ- নেট্রাম মিউর ও তাহার পরিপূরক সিরিয়ার শুরু নাতীর একজিমা ও নানা প্রকার চর্মপীড়া পরিস্ফুট এইতে প্রায়ই দেখা যায়, তবে সিপিয়ার চর্মপীড়া অত পরিসর, কিন্তু নেট্রাম মিটবে তাহা সুবিস্তৃত আকারে বিকাশ লাভ করে। নেট্রাম মিউরের যাবতীয় চর্ম লক্ষণ গ্রীষ্মকালেই বৃদ্ধি পায়। আর সিপিয়ার বৃদ্ধি গ্রীষ্ম অপেক্ষা বর্ষাকালেই বেশী। নেট্রামের চর্মোপরি শুদ্ধতার অনুভূতিটি ঠাণ্ডাজল প্রয়োগে উপশমিত হয়।
নেট্রামের একজিমায় সর্বদা রস ও পূঁজ ঝরে, মামড়ি পড়ে তাহাতে চুল জড়াইয়া যায়। সবিরাম জ্বর সহ আমবাত, তাহাতে অত্যন্ত চুলকানি থাকিলে ইহা উপকারী। হাতের কনুই এর নীচে, হাঁটুর নীচে ও অণ্ডকোষের একজিমার ইহার অধিক উপকারী। জল লাগিলে ইহার চর্মপীড়ার বৃদ্ধি পায় ও চুলকানি বাড়ে। আঙ্গুলের চামড়া শুষ্ক ও ফাটা তজ্জন্য সেলাইয়ের কার্যাদি করিতে পারে না।

স্ত্রীপীড়ায় : চর্মরোগে নেট্রাম মিউরের লক্ষণ- স্ত্রীলোকদের নানা প্রকার পীড়াতেও নেট্রাম মিউর উপযোগীতার সহিত ব্যবহৃত হয়। নেট্রাম মিউর ব্যবহারকালীন রোগীর মানসিক লক্ষণের প্রতি ও ধাতুর উপর দৃষ্টি রাখিতে হইবে। রোগিনী সর্বদাই বিমর্ষ মনমরা ও দুঃখিত ও সামান্য কারনে রাগিয়া উঠে। যে সকল স্ত্রী লোক জীর্ণ শীর্ণ, শুষ্ক দুর্বল, রক্তহীন ও যাহাদের প্রায় বুক ধড়ফড় করে তাহাদের ক্ষেত্রে স্বল্পরজঃ বাধক বেদনা, জবায়ু বাহির হইয়া পড়া, যোনি দ্বারে টাটানি বেদনা, যোনী প্রদেশে চুলকানি, উহাতে জল লাগিলে কষ্টবোধ, প্রস্রাবের পর জ্বালা, হাজনশীল প্রদর ও স্বামী সহবাসে কষ্ট প্রভৃতি পীড়ায় প্রথমেই নেট্রাম মিউর ব্যবস্থেয়। অধিক বয়সে প্রথম রজঃশালা হওয়া নেট্রাম মিউরের আর একটি চরিত্রগত লক্ষণ।

প্রান্তদেশে : প্রান্তদেশে নেট্রাম মিউরের কার্যকারিতা পৃষ্ঠদেশে বেদনা, রোগী শক্ত কিছুর উপর ভর দিয়া থাকিতে চায়। বাহু ও পদদ্বয় বিশেষতঃ হাঁটু দুইটি দুর্বলবোধ হয়। নখের গোড়ার মাংস খসিয়া যায়। আঙ্গুলের নখগুলি শুষ্ক ও ফাটা ফাটা। আঙ্গুল ও নিম্নাঙ্গে অবশতা ও ঝিনঝিন করে। জন্মদ্বয় দুর্বল ও সহজেই বাঁকিয়া যায়। উরুদ্বয়ের বান্ধনীগুলি সংকুচিত হইয়া বেদনা করে। চলিতে গেলে সর্দিগুলি কটকট করে। পদদ্বয়ের শীতলতা সহ মস্তকে ও বক্ষে রক্ত সঞ্চয়। A
 
বৃদ্ধি ঃ নেট্রাম মিউরের উপচয় বা বৃদ্ধি- সান্তনা ও সহানুভূতি প্রদর্শনে, মানসিক পরিশ্রমে, সর্বপ্রকার গরমে, গরম মনে, গ্রীষ্মের দিনে, সূর্যতাপে, সমুদ্রতীরে, সঙ্গম কার্যে, ঋতুস্রাবের পর, বেলা ১০ টা হইতে ১১ টা মধ্যে, পূর্ণিমায়, রুটি অম্ল প্রভৃতি লক্ষণে ।

উপশম  ঃ নেট্রাম মিউরের উপশম - নির্মল বায়ুতে, ডানপার্শ্বে শয়নে, উপবাসে, শক্তভাবে আঁটিয়া কাপড় পরিলে শীতলজলে পানে ও মানে, দীর্ঘ নিঃশ্বাস ত্যাগে, অন্ধকারে, নির্জনে, বিশ্রামে, অভুক্ত অবস্থায়, মর্দনে ।

অনুপূরক : অনুপূরক ঔষধ - এপিস, সিপিয়া, থুজা, নাক্স

ক্রিয়ানাশক : নেট্রাম মিউরের ক্রিয়ানাশক ঔষধ - নাক্স ভম, আর্সেনিক, ফস্কোরাস, নাইট্রিম্পিরি ডলসিস, সিপিয়া।

ক্রিয়া স্থিতিকাল : ৪০ হইতে ৫০ দিন।

ব্যবহারের শক্তি বা ক্রম - ৩০ হইতে ১০০০ শক্তি।






একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ