পালসেটিলা
PULSATILLA
প্রাকৃতিক অবস্থা:- রেনানকুলেসিয়া ।
প্রতিশব্দ:- অ্যানেমুন, প্রাটেন্সিস, হারবাডেন্টি, পাসসেটিলা, নাইগ্রীকেন্স, পালসেটিলা প্রাটেন্সিস, বায়ুকুল, মিডোএনেমন, উইন্ড ফ্লাওয়ার।
উৎস ও বর্ণনা:- ইহা এক প্রকার বর্ষজীবি পত্রমোচী গাছড়া, মূল টাকুর আকৃতির বিশিষ্ট ও বহু মাথাধারী। ইহা সাধারণতঃ ঘণ বাদামী বর্ণের হইয়া থাকে। পত্রসমূহ রৈখিক খণ্ড দ্বারা দ্বিপক্ষ বিশিষ্ট। মার্চ হইতে মে মাসে এই গাছে হালকা নীল হইতে ঘন বেগুনী বর্ণের ঘন্টাকৃতি ফুল ফুটিয়া থাকে। সমগ্র গাছড়াটি সিল্কের ন্যায় লম্বা চুলে ভূষিত, ইউরোপের বিভিন্ন স্থানের খোলা মাঠে ও সমতল ভূমিতে, তিব্বতের পশ্চিমাংশে, উত্তর এশিয়ার আর্মেনিয়া হইতে বৈকাল হ্রদ পর্যন্ত স্থানে এই সকল গাছড়া জন্মিয়া থাকে।
ঔষধ প্রস্তুতি:- এফ-৩ (আমেরিকান), এফ-১ (জার্মানী)।
প্রুভার:- ডাঃ হ্যানিমান প্রুভ করেন।
ক্রিয়াস্থান
প্রধান ক্রিয়াস্থান
- পাকস্থলী ও অন্ত্র।
- চোখ, কান ও নাক।
- মূত্রযন্ত্র।
- জননেন্দ্রিয়, জরায়ু ও সন্তান উৎপাদনকারী অঙ্গ।
- শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী ও শিরাসমূহ।
ধাতুপ্রকৃতি
মানসিক প্রকৃতি
- অত্যন্ত অভিমানী, শান্ত ও কোমল স্বভাবের।
- সামান্য কারণে সহজেই কেঁদে ফেলে।
- সাধারণত রাগী নয়; মাঝে মাঝে খিটখিটে হতে পারে।
- মন-মেজাজ পরিবর্তনশীল—কখনও আনন্দ, কখনও বিষাদ।
- আবেগপ্রবণ ও অশ্রুপাতের প্রবণতা থাকে।
শারীরিক ধাতু
- শ্লেষ্মা-প্রধান ধাতুর ব্যক্তি।
- পরিবর্তনশীলতা পালসেটিলা ধাতুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
- বাহ্যিক চেহারা দেখে রোগের তীব্রতা বোঝা যায় না।
পালসেটিলা (Pulsatilla) – মানসিক বা স্বভাবগত লক্ষণ
১। পরিবর্তনশীল মানসিক অবস্থা
- মনের অবস্থা দ্রুত পরিবর্তনশীল।
- কখনও আনন্দ, কখনও বিষাদ।
- এই হাসে, এই কাঁদে।
২। কোমল ও শান্ত স্বভাব
- অত্যন্ত শান্ত, নম্র ও ভদ্র প্রকৃতির।
- সহজে রাগ করে না।
- বিশেষ কারণে মাঝে মাঝে খিটখিটে হতে পারে।
৩। কান্নাপ্রবণ ও অভিমানী
- সামান্য কারণেই কান্না করে।
- অত্যন্ত অভিমানী।
- কষ্ট পেলেও নীরবে সহ্য করে।
- নিজের দুঃখ সহজে কাউকে বলতে চায় না।
৪। আবেগপ্রবণতা
- অতিমাত্রায় আবেগপ্রবণ।
- আনন্দ ও দুঃখ—উভয় অনুভূতিই গভীরভাবে প্রকাশ পায়।
- মনের অনুভূতি দ্রুত পরিবর্তিত হয়।
৫। সান্ত্বনায় উপশম
- সামান্য সান্ত্বনা ও সহানুভূতিতে মন শান্ত হয়ে যায়।
- ভালোবাসা ও সহমর্মিতা কামনা করে।
৬। রাগের বৈশিষ্ট্য
- কখনও হঠাৎ রাগ বা অভিমান হয়।
- কিছুক্ষণের মধ্যেই রাগ চলে যায়।
- পুনরায় নম্র, শান্ত ও বিনয়ী হয়ে পড়ে।
৭। একাকী দুঃখবোধ
- মনে করে তার দুঃখের কথা শোনার কেউ নেই।
- একা একাই কষ্ট সহ্য করে।
- সংসার ও আপনজনের প্রতি গভীর মায়া থাকে।
৮। ধর্মীয় চিন্তাধারা
- ধর্মীয় বিষয় নিয়ে ভাবতে ও আলোচনা করতে ভালোবাসে।
- নিজেকে আধ্যাত্মিকভাবে খুব পবিত্র অথবা কখনও অপরাধবোধে ভোগে।
মূল বৈশিষ্ট্য (Keynote)
"নম্র, শান্ত, কোমল, অভিমানী, কান্নাপ্রবণ, পরিবর্তনশীল মেজাজ এবং সান্ত্বনায় উপশম—এগুলোই পালসেটিলা রোগীর প্রধান মানসিক বৈশিষ্ট্য।"
চরিত্রগত লক্ষণ:-
(১) রোগ লক্ষণের পরিবর্তনশীলতা ইহার প্রকৃতিগত বিশেষ লক্ষণ ।২) রোগী সর্বদাই খোলাবাতাসে থাকিতে ইচ্ছা করে এবং তাহাতে সুস্থবোধ করে।
৩) ক্রমাগত পরিবর্তনশীল বেদনা, বেদনা প্রায় শরীরে একধারে হয়।
৪) কর্ণে বেদনা, তৎসহ বধিরতা, যেন কান বৃদ্ধ হইয়া গিয়াছে।
৫) দত্ত বেদনায় মুখে ঠাণ্ডা জল রাখিলে উপশন হয়। গরম ঘরে গেলে বেদনার বৃদ্ধি ও মুক্ত বায়ু সেবনে উপশম বোধ ।
৩) ক্রমাগত পরিবর্তনশীল বেদনা, বেদনা প্রায় শরীরে একধারে হয়।
৪) কর্ণে বেদনা, তৎসহ বধিরতা, যেন কান বৃদ্ধ হইয়া গিয়াছে।
৫) দত্ত বেদনায় মুখে ঠাণ্ডা জল রাখিলে উপশন হয়। গরম ঘরে গেলে বেদনার বৃদ্ধি ও মুক্ত বায়ু সেবনে উপশম বোধ ।
৬) আধ কপালে মাথা ধরা, তৎসহ মুখে বিশ্বাস এবং তৃষ্ণার অভাব ভালভাবে রজঃস্রাব না হইলে মাথা ধরা।
৭) শীতল দ্রব্য খাইলে পীড়া লক্ষণের উপশম ও গরম দ্রব্য ভক্ষণে বৃদ্ধি। প্রাতঃকালে মুখে বিশ্বাস, কোন প্রব্যেরই ভাল স্বাদ পাওয়া যায় না।
৮। ঘৃত গড় ও চর্বিযুক্ত খাদ্যাদি আহার করিয়া উদরাময়, বমন অজীর্ণ ইত্যাদি পীড়ার উৎপত্তি। উদরাময়ে প্রতিবারই মলের রঙ পরিবর্তনশীল। রাত্রিতে উদরাময়ের বৃদ্ধি।
৯) সকল লক্ষণ সন্ধ্যাকালে প্রকাশ পায়।
১০) আমাশয়ে রক্ত ও আম মিশ্রিত বাহা, সন্ধ্যাকালে শীত শীত বোধ ।
১১) অসাড়ে প্রস্রাব নির্গত হয় বিশেষ করিয়া শিশুদের শযায় প্রস্রাব।
১২) অনিয়মের ফলে রজস্রাব পীড়া, রজঃস্রাব অত্যন্ত বিলম্বে ও অম্ল পরিমাণে হয়। পা জলে ভিজিলে রজঃস্রাব বন্ধ হয় বা থাকিয়া হয়। তৎসহ সন্ধাকালে শীত শীত বোধ ।
১৩) শ্বেতপ্রদর, ঘন মাখনের মত, রজঃস্রাবের পর উহার বৃদ্ধি।
১৪) শিশু স্তন্য পান করিলে মাতার বুকের ভিতর বেদনা বোধ, ঘাড়ে পিঠে টনটনানি। এই বেদনা একস্থান হইতে অন্যস্থানে পরিচালিত হয়।
৭) শীতল দ্রব্য খাইলে পীড়া লক্ষণের উপশম ও গরম দ্রব্য ভক্ষণে বৃদ্ধি। প্রাতঃকালে মুখে বিশ্বাস, কোন প্রব্যেরই ভাল স্বাদ পাওয়া যায় না।
৮। ঘৃত গড় ও চর্বিযুক্ত খাদ্যাদি আহার করিয়া উদরাময়, বমন অজীর্ণ ইত্যাদি পীড়ার উৎপত্তি। উদরাময়ে প্রতিবারই মলের রঙ পরিবর্তনশীল। রাত্রিতে উদরাময়ের বৃদ্ধি।
৯) সকল লক্ষণ সন্ধ্যাকালে প্রকাশ পায়।
১০) আমাশয়ে রক্ত ও আম মিশ্রিত বাহা, সন্ধ্যাকালে শীত শীত বোধ ।
১১) অসাড়ে প্রস্রাব নির্গত হয় বিশেষ করিয়া শিশুদের শযায় প্রস্রাব।
১২) অনিয়মের ফলে রজস্রাব পীড়া, রজঃস্রাব অত্যন্ত বিলম্বে ও অম্ল পরিমাণে হয়। পা জলে ভিজিলে রজঃস্রাব বন্ধ হয় বা থাকিয়া হয়। তৎসহ সন্ধাকালে শীত শীত বোধ ।
১৩) শ্বেতপ্রদর, ঘন মাখনের মত, রজঃস্রাবের পর উহার বৃদ্ধি।
১৪) শিশু স্তন্য পান করিলে মাতার বুকের ভিতর বেদনা বোধ, ঘাড়ে পিঠে টনটনানি। এই বেদনা একস্থান হইতে অন্যস্থানে পরিচালিত হয়।
১৫) প্রমেহ স্রাব বন্ধ হইয়া অণ্ডকোষ, স্পার্মাটিক কর্ড ইত্যাদির স্ফীতি ও বেদনা।
১৬) নাসিকা হইতে পাকা সর্দি নির্গমন ও নাসিকায় কোন বস্তুর গন্ধ না পাওয়া।
১৭) পিপাসা শূন্য সবিরাম জ্বর-বৈকাশে ও সন্ধ্যাকালে জ্বর, জ্বরে শীতই প্রবল ।
১৬) নাসিকা হইতে পাকা সর্দি নির্গমন ও নাসিকায় কোন বস্তুর গন্ধ না পাওয়া।
১৭) পিপাসা শূন্য সবিরাম জ্বর-বৈকাশে ও সন্ধ্যাকালে জ্বর, জ্বরে শীতই প্রবল ।
প্রয়োগক্ষেত্র:- রমনীদের যাবতীয় পীড়া, যেমন- বাধক বেদনা, শ্বেতপ্রদর, প্রসব বেদনা, ভ্যাঁদাল ব্যথা, ফুল আটকান, সুতিকা স্ত ভু, ঋতু বন্ধ হইয়া অন্যস্থান হইতে রক্তস্রাব, গর্ভাবস্থায় নানা প্রকার পীড়া, প্রভৃতিতে ইহা ব্যবহৃত হয়। ইহা ছাড়া অজীর্ণ, উদরাময়, অণ্ডকোষ প্রদাহ, প্রমেহ, অণ্ডকোষে জল সঞ্চয়, কর্ণের পীড়া নাসিকার পীড়া, সর্দিকাশি, চক্ষুপীড়া, জ্বর, সবিরাম জ্বর, কোষ্ঠবদ্ধতা, বাত, শিরঃপীড়া, স্ফোটক, প্রভৃতি ক্ষেত্রেও ইহা প্রয়োগ হয়।
স্ত্রীপীড়ায় লক্ষণ:-
- বাধক বেদনা (Dysmenorrhoea)
- শ্বেতপ্রদর (Leucorrhoea)
- প্রসব বেদনা
- ভ্যাদাল ব্যথা (False labour pain)
- ফুল/অমরা আটকানো (Retained placenta)
- সূতিকা স্তম্ভ (Puerperal disorders)
- ঋতু বন্ধ হয়ে অন্য স্থান থেকে রক্তস্রাব
- গর্ভাবস্থার বিভিন্ন সমস্যা
- ডিম্বাশয়ের প্রদাহ (Oophoritis)
- স্তনদুগ্ধের স্বল্পতা
৪। আবেগগত বৈশিষ্ট্য
- মনে করে তার দুঃখের কথা শোনার কেউ নেই।
- সংসারের প্রতি গভীর মায়া ও ভালোবাসা থাকে।
- জীবন ত্যাগের চিন্তা সাধারণত করে না।
- সহানুভূতি ও স্নেহ কামনা করে।
বাধক বেদনায় লক্ষণ:-
প্রসব বেদনায় লক্ষণ:-
১। প্রসব বেদনার প্রকৃতি
- প্রসব বেদনা নিয়মিত নয়।
- কখনও বেশি, কখনও কম, আবার কখনও সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
- বেদনার শক্তি দুর্বল ও পরিবর্তনশীল।
২। জরায়ুর অবস্থা
- জরায়ু যেন ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
- রোগী পর্যাপ্ত প্রসব বেগ (Bearing down) দিতে পারে না।
- জরায়ুর সংকোচন দুর্বল হয়ে যায়।
৩। প্রসবের অগ্রগতি
- জরায়ুমুখ সম্পূর্ণভাবে প্রসারিত হতে চায় না।
- শিশুর অগ্রগতি ধীর বা বাধাগ্রস্ত হয়।
- প্রসবের প্রথম স্তর দীর্ঘস্থায়ী হয়।
৪। বেদনার বৈশিষ্ট্য
- বেদনা পিঠ থেকে উপরের দিকে উঠে।
- পরে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হয়ে নিচের দিকে নেমে আসে।
- বেদনা অল্পক্ষণ স্থায়ী হয় এবং পুনরায় পরিবর্তিত হয়।
৫। মানসিক লক্ষণ
- রোগী শান্ত, নম্র ও কোমল স্বভাবের।
- অতিরিক্ত উত্তেজিত বা ক্রুদ্ধ নয়।
- মানসিকভাবে সহানুভূতি ও সান্ত্বনা কামনা করে।
৬। কখন পালসেটিলা বেশি প্রযোজ্য
- প্রসব বেদনা অনিয়মিত হলে।
- জরায়ুর সংকোচন দুর্বল হলে।
- জরায়ুমুখ ধীরে প্রসারিত হলে।
- প্রসব দীর্ঘায়িত হলে।
- রোগী শান্ত, নম্র ও কান্নাপ্রবণ প্রকৃতির হলে।
শ্বেতপ্রদর:- কোমর বেদনা ও যোনীদেশ ফুলিয়া উঠে। স্রাব দুধের সরের মত ঘন এবং রক্ত মিশ্রতি। এই স্রাবে জ্বালা থাকে।
ফুল আটকানো:- প্রসবের পর যদি ফুল আটকাইয়া থাকে। তাহা হইলে পালসেটিলা প্রয়োগে ফুল অবশ্যই নিষ্ক্রান্ত হইবে এবং জরায়ু বলবর্তী হওয়ার ফলে আর অধিক রক্তস্রাব হইতে পারিবে না।
সূতিকা:- প্রসবের পর সূতিকা পীড়া দেখা দেয়। ইহাতে শরীরে খুব বেদনা হয়, প্রস্রাব কমিয়া যায় এবং কিছু কাল পর পায়ের কোন স্থান ফুলিয়া যায়। এই ফোলা উপরে ও নিচে বিস্তৃত হইয়া ক্রমশঃ সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ফুলিয়া যায়। রোগিনী ফ্যাকাশে স্নান ও মোমের মত সাদা হয়। ফোলাস্থানে অল্প বেদনা থাকিলে পালসেটিলা এবং অধিক বেদনা থাকিলে হ্যামামেলিস আভ্যন্তরীণ ও বাহ্য প্রয়োগ করা উচিত। ঋতু বন্ধ হইয়া অন্যস্থান হইতে রক্তস্রাব ঋতু বন্ধ হইয়া মুখ, নাক বা পাকস্থলী হইতে রক্তস্রাব হইলে পালসেটিলা উপযোগী ।
পালসেটিলা (Pulsatilla) – গর্ভাবস্থায় প্রধান লক্ষণ
১। গর্ভাবস্থায় পেটের ব্যথা
- মধ্যে মধ্যে টান ধরা (Drawing pain) বা টাটানি বেদনা।
- গর্ভাবস্থার অস্বস্তির সঙ্গে পরিবর্তনশীল ব্যথা।
২। জরায়ুর বৃদ্ধি
- জরায়ুর বৃদ্ধি অসম বা একদিকে বেশি হওয়ার প্রবণতা।
- জরায়ুর স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সহায়ক বলে বর্ণিত।
৩। ভ্রূণের অবস্থান
- ভ্রূণের অস্বাভাবিক অবস্থান (Malposition)-এর প্রবণতায় বিবেচিত।
- ভ্রূণকে স্বাভাবিক অবস্থানে রাখতে ঐতিহ্যগতভাবে উল্লেখ করা হয়।
৪। শারীরিক লক্ষণ
- পরিবর্তনশীল ব্যথা।
- জরায়ুর পেশীর দুর্বলতা।
- গর্ভাবস্থায় মাঝে মাঝে অস্বস্তি ও টান অনুভব।
৫। মানসিক লক্ষণ
- শান্ত, নম্র ও কোমল স্বভাব।
- সহজেই কান্না আসে।
- সান্ত্বনা ও সহানুভূতিতে আরাম বোধ করে।
- মানসিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন হয়।
পালসেটিলা (Pulsatilla) – স্ত্রীলোকদের সঙ্গমেচ্ছা সংক্রান্ত লক্ষণ
প্রধান লক্ষণ
- সঙ্গমেচ্ছা (Libido) অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়া।
- প্রবল কামোত্তেজনা বা কামোন্মাদনার অনুভূতি।
- যৌন চিন্তা বারবার মনে আসা।
- সঙ্গমেচ্ছা দমন করতে অসুবিধা হওয়া।
- ডিম্বাশয় (Ovary)-এ প্রদাহের প্রবণতা।
- জরায়ু (Uterus)-এ প্রদাহের লক্ষণ।
মূল বৈশিষ্ট্য (Keynote)
"অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়া সঙ্গমেচ্ছা, যৌন চিন্তার আধিক্য এবং ডিম্বাশয় ও জরায়ুর প্রদাহের সঙ্গে মিলিত লক্ষণে Pulsatilla বিবেচিত হয়।"
পালসেটিলা (Pulsatilla) – পাকাশয়িক (পাকস্থলী) ও উদরগত লক্ষণ
১। হজমের সমস্যা
- হজম ধীরে ধীরে হয়।
- খাবারের কয়েক ঘণ্টা পরও পাকস্থলীতে ভারী ও পূর্ণ অনুভূতি।
- মনে হয় পাকস্থলীতে একটি পিণ্ড পড়ে আছে।
২। উপশম ও বৃদ্ধি (Modalities)
- খোলা ও শীতল বাতাসে ধীরে হাঁটলে আরাম।
- গরম ঘরে সব লক্ষণ বৃদ্ধি পায়।
- আহারের পর অধিকাংশ উপসর্গ বেড়ে যায়।
৩। যে খাবারে সমস্যা বাড়ে
- ঘি ও চর্বিযুক্ত খাবার।
- লুচি, পিঠা, ক্ষীর।
- চর্বিযুক্ত মাংস।
- বড় মাছের পেটি।
- আইসক্রিম খাওয়ার পর উদরাময় হতে পারে।
৪। পাকস্থলীর লক্ষণ
- বমিভাব ও বমি।
- বমিতে শ্লেষ্মা ও পিত্ত।
- মুখে তিক্ত বা পিত্তের স্বাদ।
- মুখে জল ওঠা।
- ঢেকুরে খাওয়া খাবারের স্বাদ।
- বুকজ্বালা।
৫। উদরের লক্ষণ
- পেটে টানধরা ব্যথা।
- গ্যাস জমে পেট ফেঁপে যায়।
- বিশেষ করে রাতের খাবারের প্রায় ১ ঘণ্টা পরে সমস্যা শুরু হয়।
৬। উদরাময়ের লক্ষণ
- মলের রং বারবার পরিবর্তিত হয়।
- কখনও সবুজ, কখনও হলুদ বা অন্য রঙের মল।
- মলের পরিমাণও পরিবর্তনশীল।
- অনেক সময় শ্লেষ্মাযুক্ত মল।
- মলত্যাগের আগে পেট মোচড়ায়, শব্দ হয় এবং কোমরব্যথা থাকে।
- ভয়ের পর উদরাময় হতে পারে।
- রাতের দিকে, বিশেষ করে মধ্যরাতের পরে উদরাময় বৃদ্ধি পায়।
৭। মলত্যাগের প্রকৃতি
- কখনও কোষ্ঠকাঠিন্য।
- কখনও উদরাময়।
- একই রোগীর মধ্যে দুই অবস্থাই পর্যায়ক্রমে দেখা যেতে পারে।
৮। জিহ্বার লক্ষণ
- জিহ্বা মোটা।
- সাদা আবরণযুক্ত (White coated tongue)।
- কখনও ফাটা ফাটা।
- জিহ্বা শুষ্ক।
- তৃষ্ণা কম বা অনুপস্থিত।
মূল বৈশিষ্ট্য (Keynote)
"চর্বিযুক্ত খাবারে অজীর্ণ, খাবারের পর অস্বস্তি, খোলা বাতাসে আরাম, গরমে বৃদ্ধি, পরিবর্তনশীল মল, তৃষ্ণাহীনতা ও সাদা আবরণযুক্ত জিহ্বা—পালসেটিলার প্রধান পাকস্থলী ও উদরগত লক্ষণ।"
"চর্বিযুক্ত খাবারে অজীর্ণ, খাবারের পর অস্বস্তি, খোলা বাতাসে আরাম, গরমে বৃদ্ধি, পরিবর্তনশীল মল, তৃষ্ণাহীনতা ও সাদা আবরণযুক্ত জিহ্বা—পালসেটিলার প্রধান পাকস্থলী ও উদরগত লক্ষণ।"
শ্লৈষ্মিক ঝিল্লীর পীড়ায় লক্ষণ
প্রধান বৈশিষ্ট্য
- শ্লৈষ্মিক ঝিল্লীতে প্রদাহের পর ঘন, হলুদ বা হলুদাভ-সবুজ শ্লেষ্মা স্রাব হয়।
- স্রাব সাধারণত অবিদাহী (জ্বালা কম থাকে)।
চক্ষুতে
- চোখের প্রদাহে ঘন হলুদ বা হলুদাভ-সবুজ স্রাব।
- চোখ থেকে পুঁজের মতো কিন্তু কম জ্বালাযুক্ত স্রাব বের হয়।
নাসিকায়
- নাকের সর্দি ঘন, পুঁজময় ও হলুদ/হলুদাভ-সবুজ হয়।
- সর্দি পেকে গেলে এই ধরনের স্রাব দেখা যায়।
কর্ণে
- কানের প্রদাহে একই ধরনের ঘন হলুদাভ স্রাব থাকলে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্নায়ুশূল বেদনায় লক্ষণ:- নিউরালজিয়া বা স্নায়ুশূলে চিড়িকমারা স্থান পরিবর্তনশীল বেদনা, এই বেদনা থাকিয়া থাকিয়া উপস্থিত হইলে এবং বেদনা যতই অধিক্ষণ থাকে ততই উহার আতিশয্য ও অসহ্যতা জন্মিলে পালসেটিলা ব্যবহৃত হয়।
উপদংশ ক্ষতে লক্ষণ:- ক্ষত সারিবার মুখে আহার বিহারের অনিয়মে বা অত্যাচারে যদি উহা আবার বাড়িয়া যায় এবং লিঙ্গের অগ্রভাগের চামড়ার ভিতরে ও বাহিরে চুলকায় ও জ্বালা করে, অণ্ডকোষে জ্বালা করে কিন্তু থাকে না তবে পালসেটিলা উপকার।
সর্দি স্রাবে লক্ষণ:- সর্দি যখন বেশ পাকিয়া যায় অর্থাৎ হলদে বা সবুজ বর্ণ হয় কিন্তু উহাতে নাক ঠোঁট হাজিয়া যায় না তখন পালসেটিলা বেশ উপকারী। পুরাতন সর্দিতে রোগী মুখে কোন স্বাদ পায় না, নাকেও ঘ্রাণ পায় না।
দাঁতের ব্যথায় লক্ষণ:- মুখে ঠাণ্ডা পানি রাখিলে দাঁত ব্যথার উপশম বোধ হয়। দাঁতের ব্যথা চলিয়া যাইবার পরও যদি গালের ফুলা থাকে এবং দাঁতে ব্যথার সময় মার্ক বা ক্যামো দেওয়া থাকে তবে পালসেটিলায় ফুলা দূর হয়।
অর্শ রোগের লক্ষণ:- অর্শের সহিত ভয়ানক কোষ্ঠবদ্ধতা থাকে। অর্শের বলিতে ভয়ানক ব্যথা হয়, শুইলে ও বিছানার গরমে ব্যথা বাড়ে। ধীরে ধীরে পায়চারি করিলে ব্যথার উপশম হয়। বায়ু জমিয়া পেট ফুলিয়া উঠে ও ঘড়ঘড় শব্দ হয়। অর্শ হইতে সহজেই রক্তস্রাব হয়, বিশেষতঃ মলত্যাগের পর।
হাম পীড়ায় লক্ষণ:- পালসেটিলা হামের শ্রেষ্ঠ ঔষধ। রাত্রে এত শুষ্ক কাশি হয় যে রোগী বিছানায় বসিয়া থাকিতে বাধ্য হয়। ঐ সঙ্গে কানে ব্যথা থাকে। জ্বর কমিয়া যাইবার পরে ইহার প্রয়োগ হয়। ইহা হামের উৎকৃষ্ট প্রতিষেধক।
অণ্ডকোষ লক্ষণ
- অণ্ডকোষ ফুলে বড় হয়ে যায়, লাল বর্ণ ধারণ করে।
- অণ্ডকোষে তীব্র ব্যথা; স্পর্শ করাও কষ্টকর।
- রেতঃরজ্জু (Spermatic cord) ফুলে মোটা হয়।
- টান ধরার মতো তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়।
- সঙ্গে শীতভাব, বমি ভাব ও কোমর ব্যথা থাকতে পারে।
- ঐতিহ্যগত বর্ণনায় প্রদাহের অবস্থায় স্রাব পুনরায় প্রকাশ ও ব্যথা কমার উল্লেখ আছে।
পুংজননেন্দ্রিয়ের লক্ষণ
- অপরিমিত যৌনাচারের পর মাথা, পিঠ ও সারা শরীরে ভারীভাব ও ব্যথা।
- মূত্রনালী থেকে ঘন হলুদ স্রাব নির্গত হওয়া।
- প্রস্রাবে কষ্ট; মূত্রনালী সংকুচিত মনে হওয়া।
- প্রস্রাব ফোঁটা ফোঁটা বের হওয়া বা মাঝপথে ধারা বন্ধ হয়ে যাওয়া।
- কুঁচকিতে ব্যথা, যা কখনও উপরের পাঁজর পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে।
- ঐতিহ্যগত বর্ণনায় প্রমেহের দীর্ঘস্থায়ী বা শেষ পর্যায়ে ব্যবহারের উল্লেখ রয়েছে।
কর্ণপীড়ায় লক্ষণ
কানের প্রধান লক্ষণ
- কানের প্রদাহ ও বাইরের অংশ লাল, ফুলে যাওয়া।
- কানে তীব্র ধপধপানি ও খোঁচা ধরনের ব্যথা।
- রাতে ব্যথা বৃদ্ধি পায়।
- কানের ভিতর থেকে ঘন হলুদ বা সবুজাভ-হলুদ পুঁজ বের হওয়া।
- স্রাবে দুর্গন্ধ, কখনও রক্ত মিশ্রিত হতে পারে।
- মধ্যকর্ণের প্রদাহ (Otitis media) ও ফোঁড়া।
- কানে ভারী বা বন্ধ অনুভূতি।
- বধিরতা বা কম শোনা।
- কানে সোঁ সোঁ/ভোঁ ভোঁ শব্দ (Tinnitus) হওয়া
নাসিকার পীড়ায় লক্ষণ
নাকের প্রধান লক্ষণ
- সর্দি ও নাক বন্ধ থাকা।
- নাকের মূলদেশে চাপ ও ব্যথা অনুভূত হওয়া।
- ঘ্রাণশক্তি কমে যাওয়া।
- নাকের ভিতরে বড়, সবুজাভ ও দুর্গন্ধযুক্ত সর্দি/শুকনো জমাট পদার্থ।
- সন্ধ্যায় নাক বেশি বন্ধ থাকে।
- হলদে সর্দি; সকালে স্রাব বেশি হয়।
- নাকের হাড়ে টাটানি বা ব্যথা।
বিশেষ লক্ষণ
- ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার পর নাক দিয়ে অল্প অল্প রক্ত পড়া।
- রক্তের রং খুব উজ্জ্বল নয় এবং দীর্ঘক্ষণ অল্প পরিমাণে চলতে পারে।
সর্দি-কাশিতে লক্ষণ
সর্দির লক্ষণ
- সর্দি ঘন ও জমাট ধরনের হয়।
- নাকের স্রাব হলুদ বা সবুজাভ হলুদ বর্ণের হয়।
- সর্দি পেকে ঘন হয়ে যায়।
কাশির লক্ষণ
- কাশির সঙ্গে ঘন কফ উঠে।
- কফের রং হলুদ বা সবুজাভ হলুদ হতে পারে।
- প্রদাহ বা ফোলা না থাকলেও ঘন সর্দি-কফের অবস্থা দেখা যায়।
চক্ষু পীড়ায় প্রধান লক্ষণ
চোখের প্রধান লক্ষণ
- সর্দিজনিত চোখের প্রদাহ (Conjunctivitis)।
- চোখ থেকে ঘন, হলুদ বা সবুজাভ পুঁজ-মিশ্রিত মিউকাস নির্গত হয়।
- সকালে ঘুম থেকে উঠলে চোখের পাতা লেগে যায়।
- চোখের পাতা, চোখের গোলক বা কনীনিকায় ছোট পুঁজযুক্ত ফোঁড়া হতে পারে।
- চোখের পাতা ফুলে যাওয়া ও চোখে ঘা হতে পারে।
- নিচের চোখের পাতায় অঞ্জনি (Stye) হওয়ার প্রবণতা।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য
- ঠাণ্ডা সেঁক ও খোলা বাতাসে আরাম লাগে।
- হামের পর বা ঠাণ্ডা লাগার পর হওয়া চোখের প্রদাহে উপযোগী বলে বর্ণিত।
অন্যান্য লক্ষণ
- আলোর প্রতি অতিসংবেদনশীলতা (Photophobia)।
- চোখে ছোট ছোট গুটি হতে পারে।
- ঝাপসা বা দ্বৈত দৃষ্টি।
- মাথা ঘোরা ও বমি ভাব।
- চোখের সামনে তারা, আগুনের গোলা বা কল্পিত দৃশ্য দেখা।
জ্বরের লক্ষণ
জ্বরের সময়
- স্বল্প বিরাম জ্বরে বিকাল বা সন্ধ্যায় জ্বর বৃদ্ধি পায়।
- সারারাত জ্বর থাকে এবং সকালে কমে যায়।
জ্বরের শুরু
- প্রথমে পিপাসা হয়।
- এরপর শীত করে।
- তারপর জ্বর আসে।
পিপাসার বৈশিষ্ট্য
- শীতাবস্থায় পিপাসা থাকে না।
- উত্তাপাবস্থাতেও পিপাসা থাকে না।
- মাথা গরম ও ঠোঁট শুকিয়ে গেলেও পানি পান করতে চায় না।
প্রধান লক্ষণ
- চোখে জ্বালাপোড়া।
- হাত ও পায়ে জ্বালাপোড়া।
- মাথা গরম অনুভূত হয়।
- ঠোঁট শুষ্ক থাকে।
- রোগী বারবার জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে রাখে।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য
- রোগী খোলা বাতাসে থাকতে চায়।
- ঘরের দরজা-জানালা খুলে দিতে বলে।
- তাজা বাতাসে আরাম অনুভব করে।
সবিরাম জ্বরের লক্ষণ
জ্বরের সময়
- সর্দি বা পৈত্তিক জ্বর বিকাল বা সন্ধ্যায় শুরু হয়ে সারারাত থাকে এবং সকালে কমে যায়।
- সাধারণত দুপুর ১টা–৪টা বা বিকাল ৪–৫টার মধ্যে আসে।
- কখনও সকাল ৮টা বা ১০টাতেও দেখা দিতে পারে।
কারণ
- অজীর্ণতা।
- অতিরিক্ত গরম মশলাযুক্ত, চর্বিযুক্ত বা ঘৃতপক্ব খাদ্য গ্রহণ।
- খাদ্যজনিত কারণে জ্বর পুনরায় ফিরে আসা।
জ্বর আসার আগে
- বমি ভাব বা বমি।
- পিপাসা।
- উদরাময়।
- অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব।
শীতাবস্থা
- গরম ঘরেও শীত কমে না।
- হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যায়।
- শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা।
- সাধারণত শীতের সময় পিপাসা থাকে না।
উত্তাপাবস্থা
- শরীরের এক অংশ গরম, অন্য অংশ ঠাণ্ডা।
- গাত্রদাহ ও অস্থিরতা।
- হাত, পা, মুখ ও চোখে জ্বালাপোড়া।
- ঠোঁট শুকিয়ে যায়।
- পিপাসা সাধারণত কম থাকে।
- অনেক সময় শরীরের ডান দিক গরম হলে বাম দিক ঠাণ্ডা থাকে বা তার বিপরীত।
ঘর্মাবস্থা
- ঘাম খুব কম হয়।
- হলে মাথা, মুখ বা শরীরের বাম পাশে বেশি হয়।
- ঘুম ভাঙলে ঘাম বন্ধ হয়ে যায়।
- সাধারণত রাতে ঘাম হয়।
জ্বর ছাড়ার সময়
- শীত শীত ভাব।
- মাথাব্যথা।
- কাশি।
- মুখে তিক্ত স্বাদ।
- বুকে ভারী অনুভূতি।
- টক ঢেঁকুর।
- বমি ভাব।
- উদরাময়।
- প্লীহার স্থানে ব্যথা।
অন্যান্য লক্ষণ
- জিহ্বা সাদা বা হলদে আবরণযুক্ত।
বাত পীড়ায় লক্ষণ
বাতের প্রধান লক্ষণ
- অজীর্ণতার পর গেঁটে বাতের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
- সন্ধিস্থান ফুলে যায় ও তীব্র ব্যথা হয়।
- রাতে ব্যথা বৃদ্ধি পায়।
- ব্যথার স্থানে হুল ফোটানোর মতো অনুভূতি।
- ব্যথা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবর্তিত হয়।
- টাটানি ও টান ধরার মতো ব্যথা থাকে।
ব্যথার বৈশিষ্ট্য
- সন্ধ্যাকাল থেকে ব্যথা বাড়ে।
- কখনও চাপ দিলে আরাম অনুভূত হয়।
- আক্রান্ত স্থান ফুলে যেতে পারে।
শিরঃপীড়ায় লক্ষণ
• অজীর্ণতা, বাত অথবা স্নায়ুর উত্তেজনার কারণে মাথাব্যথায় উপকারী।
• সন্ধ্যাকালে বা মানসিক পরিশ্রমে ব্যথা বৃদ্ধি পায়।
• অজীর্ণতার কারণে সকালে মাথাব্যথা বেশি হতে পারে।
• ব্যথা মাথার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছড়িয়ে যায়।
• ঋতু বন্ধ হয়ে মাথা গরম ও ব্যথা হলে এবং খোলা বাতাসে আরাম অনুভূত হলে পালসেটিলা উপকারী ঔষধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
• অজীর্ণতা, বাত অথবা স্নায়ুর উত্তেজনার কারণে মাথাব্যথায় উপকারী।
• সন্ধ্যাকালে বা মানসিক পরিশ্রমে ব্যথা বৃদ্ধি পায়।
• অজীর্ণতার কারণে সকালে মাথাব্যথা বেশি হতে পারে।
• ব্যথা মাথার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছড়িয়ে যায়।
• ঋতু বন্ধ হয়ে মাথা গরম ও ব্যথা হলে এবং খোলা বাতাসে আরাম অনুভূত হলে পালসেটিলা উপকারী ঔষধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
নিদ্রা লক্ষণ:- রোগী চিৎ হইয়া মাথার উপর হাত দিয়া ঘুমায়। বিশৃঙ্খল ভীতিজনক, উৎকণ্ঠার স্বপ্ন দেখে। নিদ্রা দেরীতে আসে। অথচ সন্ধ্যার সময়ই রোগী ঘুমে কাতর হয়। অত্যন্ত গরম বোধ হয় এবং বিছানায় ছটফট করে। গাত্রবস্ত্র ফেলিয়া দেয় এবং হাত পা ঠাণ্ডা হইবার জন্য বাহিরে রাখে।
প্রান্তদেশের (Extremities) প্রধান লক্ষণ
প্রান্তদেশ বলতে শরীরের হাত-পা বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের শেষভাগ (Extremities) বোঝায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর মধ্যে সাধারণত অন্তর্ভুক্ত থাকে—
- ✋ হাত
- 🤚 আঙুল
- 🦵 পা
- 🦶 পায়ের আঙুল
জ্বরের সময়
- হাত-পা ও চোখে জ্বালাপোড়া।
- মাথা গরম, ঠোঁট শুষ্ক; বারবার জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভেজায়।
- শীতাবস্থায় হাত-পা খুব ঠাণ্ডা, শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা।
- গরম ঘরেও শীত অনুভূত হয়।
উত্তাপাবস্থা
- শরীরের এক অংশ গরম, অন্য অংশ ঠাণ্ডা।
- হাত, পা, মুখ ও চোখে তীব্র জ্বালাপোড়া।
- গাত্রদাহ ও অস্থিরতা।
- ঠোঁট শুষ্ক।
- ডান ও বাম অঙ্গের তাপমাত্রায় পার্থক্য থাকতে পারে।
ঘাম
- ঘাম কম হয়।
- হলে মাথা, মুখ বা শরীরের বাম পাশে বেশি হয়।
অন্যান্য লক্ষণ
- জিহ্বায় সাদা বা হলদে আবরণ।
- অজীর্ণতার কারণে গেঁটে বাত বা সন্ধিবাত; আক্রান্ত স্থান ফুলে যায়।
- মাথাব্যথা এক পাশ থেকে অন্য পাশে ছড়িয়ে যায়।
- ঋতুস্রাব বন্ধ হলে মাথাব্যথা ও মাথা গরম হতে পারে।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য
- মাথার উপর হাত রেখে চিৎ হয়ে ঘুমাতে পছন্দ করে।
- অতিরিক্ত গরম অনুভব করে, অস্থির থাকে।
- গায়ের কাপড় সরিয়ে দেয় এবং হাত-পা ঠাণ্ডা রাখতে বাইরে বের করে রাখে।
পালসেটিলার রমনী
মানসিক লক্ষণ
- অত্যন্ত ভদ্র, শান্ত ও মৃদু স্বভাবের।
- খুব অভিমানী; সামান্য কারণে কান্না পায়।
- মন-মেজাজ পরিবর্তনশীল—কখনও আনন্দ, কখনও বিষাদ।
- সাধারণত রাগী নয়, তবে মাঝে মাঝে খিটখিটে হতে পারে।
- নিজের কষ্ট প্রকাশ না করে মনে মনে সহ্য করে।
- সামান্য সান্ত্বনা বা সহানুভূতিতে সহজেই শান্ত হয়।
- ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক বিষয়ে আগ্রহ বেশি।
নারীদের বৈশিষ্ট্য
- ঋতুস্রাব অল্প, অনিয়মিত ও বিরতি দিয়ে হয়।
- ঋতুস্রাবের আগে পেটব্যথা ও অন্যান্য ব্যথা বৃদ্ধি পায়।
- জরায়ুতে ব্যথা বা খামচে ধরা অনুভূতি।
- কোমর ব্যথা ও মাথাব্যথা থাকতে পারে।
- যৌন ইচ্ছা বা কামপ্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে।
শারীরিক লক্ষণ
- খোলা ও নির্মল বাতাস পছন্দ করে, যদিও সহজেই শীত অনুভব করে।
- যন্ত্রণার সময় শীত বেশি লাগে, কিন্তু অন্য সময় গরম সহ্য করতে কষ্ট হয়।
- নাক, মুখ বা পাকস্থলী থেকে রক্তস্রাবের প্রবণতা থাকতে পারে।
গ্রাফাইটিসের রমণী:- গ্রাফাইটিসের রোগিনী গৌরবর্ণ স্থূলদেহ ও মেদপূর্ণ অর্থাৎ Fair, Flabby, Fatty গ্রাফাইটিসের রোগিনী তিনটি F নির্দেশক লক্ষণ। রোগিনীর নখসমূহ পুরু পুরু ও বিবর্ণ। রোগিনী ক্রমেই মোটা হওয়ার প্রবণতা। যদিও দেখিতে মোটা কিন্তু রক্তশূন্য, হলুদ, পাণ্ডু ও রোগগ্রস্তা । রোগিনী ভাবপ্রবণ, বিষণ্ণতা ও নৈরাশ্যের মনটি নানা দুশ্চিন্তায় আন্দোলিত। পালসের সহিত ইহার বিভিন্নতা এই যে, পালসে চর্মরোগ প্রবণতা নাই, আর গ্রাফাইটিসে চর্মপীড়া ব্যতীত ইহার চিন্তাই করা যায় না। পালসেটিলাকে তিরস্কার করিলে কাঁদিয়া ফেলে আর গ্রাফাইটিস তিরস্কারে হাসিতে থাকে। ইহার ঋতু বিলম্বে প্রকাশিত হয়, পারিমাণে অল্প ও যন্ত্রণা থাকে। গ্রাফাইটিসের রমণীর মুখে ফুস্কুড়ির নায় একপ্রকার উদ্ভেদ থাকে। জরায়ু ও ডিম্বকোষে স্পর্শসহিষ্ণু বেদনা। গ্রাফাইটিস রক্তোচ্ছাসের অনুভূতির সময় গরম কাতর কিন্তু অন্য সকল সময়েই শীতকাতর।
উপচয় বা বৃদ্ধি:- উত্তাপে, গুরুপাক দ্রব্যে, ঘৃত ও চর্বিযুক্ত খাদ্যে, আহারের পর, সন্ধ্যাকালে, গরম ঘরে, বামদিকে শয়নে পা ঝুলাইয়া রাখিলে ।
উপশম:- মুক্ত বাতাসে, নড়াচড়ায়, শীতল স্থানে, শীতলদ্রব্য পানাহারে, ব্যথাযুক্ত পার্শ্বে শয়নে, ধীরে ধীরে অঙ্গ সঞ্চালনে ।
সম্বন্ধযুক্ত ঔষধ:- পালসেটিলার পূর্বে বা পরে কেলি মিউর ফলপ্রদ। ক্রন্দনশীলতায় নেট্রাম মিউর ও সিপিয়া তুল্য। চক্ষুপ্রদাহে আর্জেন্ট নাইট, ঋতুবন্ধে সিপিয়া এবং স্তনদুগ্ধ শূন্য হওয়ায় এগ্লাস তুল্য ।
অনুপূরক ঔষধ:- লাইকোপোডিয়াম, সাইলিসিয়া, আর্জেন্ট নাইট, স্ট্যানাম, ক্যামোমিলা, সালফার।
পরবর্তী ঔষধ:- সিপিয়া, সালফার, কেলি মিউর ।
ক্রিয়ানাশক ঔষধ:- কফিয়া, ক্যামোমিলা, নাক্স ভূমিকা, ইগ্নেশিয়া, স্ট্যানাম, এসাফিটিডা।
স্থিতিকাল:- ৪০ দিন।
শক্তি বা ক্রম:- ৩ হইতে ২০০ এবং তদুর্ধ শক্তি।

0 মন্তব্যসমূহ