অর্গানন অব মেডিসিন (তৃতীয় বর্ষ)
সপ্তম অধ্যায়
সবিরাম ও পর্যায়ক্রমিক রোগ (২৩১-২৩৪)
সবিরাম রোগসমূহের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া বাঞ্চনীয়। অসংখ্য প্রকার অবিরাম জ্বর সবিরাম জ্বরের মত কিছু কাল পর পর দেখা দেয়। এরূপ আপাত জ্বরমুক্ত রোগসমূহ এবং অনির্দিষ্টকাল পর পর কোন রোগ অন্য প্রকার রোগের সংগে পর্যায়ক্রমে আসতে দেখা যায়। এই ধরনের রোগসমূহ কোন নির্দিষ্ট সময়ে পুনঃপুনঃ আত্মপ্রকাশ করে। এগুলোর প্রতিও বিশেষ লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন।
অনুচ্ছেদ নং- ২৩২
পূর্বোক্ত পর্যায়ক্রমিক রোগ সমূহের প্রকৃতি ও বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। কিন্তু সবগুলোই চির রোগের অন্তর্ভুক্ত। সেগুলো সাধারণত সোরারই পূর্ন বিকাশ। কখনো কখনো সিফিলিসের সংগে যুক্ত হয়ে জটিলতার সৃষ্টি করে। সুতরাং প্রথমোক্ত রোগীরা এন্টিসোরিক ঔষধেই আরোগ্য লাভ করে কিন্তু শেষোক্ত ক্ষেত্রে আমার ক্রনিক ডিজিজেস নামক পুস্তকের নির্দেশ অনুসারে এন্টিসোরিক ঔষধের সংগে পর্যায়ক্রমে এন্টিসোরিক ঔষধ ও প্রয়োগ করা দরকার।
অনুচ্ছেদ নং- ২৩৩
রোগীর আপাত সুস্থ অবস্থায় যে সকল রোগ একইভাবে প্রায় নির্দিষ্ট সময় পুনরাগমন করে এবং সেরূপ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই চলে যায় তাদেরকেই যথার্থ সবিরাম রোগ বলে। বাহ্যিকভাবে জ্বর বিহীন রুগ্ন অবস্থায় পর্যায়ক্রমে একটি নির্দিষ্ট সময়ে ইহারা আসা যাওয়া করে।
তুমি যুক্ত অর্থাৎ বহুবিধ সবিরাম জ্বরের ক্ষেত্রেও এই একই অবস্থা দেখা যায়।
অনুচ্ছেদ নং- ২৩৪
উপরে বর্ণিত ঐ সকল আপাত জ্বরবিহীন যথার্থ প্রত্যাবর্তনশীল রোগসমূহ একই রোগীকে পুনঃপুনঃ আক্রমণ করতে দেখা যায় কিন্তু ইহারা প্রধাণতঃ এবং সর্বদাই পুরাতন রোগের অন্তর্ভুক্ত। ইহাদের বেশীর ভাগ সোরা হতে উৎপন্ন হয়। কদাচিৎ কখনো সিফিলিসের সহিত সংযুক্ত হয়ে জটিলতার সৃষ্টি করে। একই নিয়মে সাফল্যের সহিত ইহাদের চিকিৎসা করতে হয়। তথাপি ইহাদের পুনরায় গমন সম্পূর্ণ দূর করার জন্য কোন কোন সময় মধ্যবর্তী ঔষধ হিসাবে (intermediate remedy) সিনকোনা ছালের (চায়না) শক্তিকৃত ক্ষুদ্রমাত্রা প্রয়োগ করার প্রয়োজন হয়।
১। প্রশ্ন: সবিরাম রোগ কি? সবিরাম রোগের শ্রেণীবিভাগ কর। ১১ সবিরাম রোগ এর সংজ্ঞা:
যে সকল রোগ কতগুলি সুষ্পষ্ট, সুনির্দিষ্ট ও অপরিবর্তনীয় লক্ষণসমষ্টি নিয়ে একটি নিদিষ্ট সময়ের ব্যবধানে পুনঃপুনঃ আক্রমণ বা উপস্থিত হয়, তাকে সবিরাম রোগ বলে।
সবিরাম রোগের শ্রেণীবিভাগ:
সবিরাম রোগ দুই প্রকার। যথা-
১। জ্বরযুক্ত সবিরাম রোগ ও ২। জ্বরবিহীন সবিরাম রোগ।
১। জ্বরযুক্ত সবিরাম রোগ জনিত সবিরাম জ্বর। যেমন ক) বিক্ষিপ্ত সবিরাম জ্বর খ) জলবায়ু বিভিন্ন প্রকারের সবিরাম জ্বর।
২। জ্বরবিহীন সবিরাম রোগ যে রোগে জ্বর ছাড়া বিভিন্ন লক্ষণাবলী real বার ৫জ ফিরে আসে, তাকে জ্বরবিহীন সবিরাম রোগ বলে। যেমন-May 11, 2026 at 9:52 আখা, ঋতুকালীন উদরাময় ও বমি প্রভৃতি।
২। প্রশ্ন: সবিরাম রোগ কি? সবিরাম রোগের ঔষধ প্রয়োগের উপযুক্ত সময়কাল কখন? ১১
বা, সবিরাম রোগ বলিতে কি বুঝ? ১৩, ১৬
সবিরাম রোগ এর সংজ্ঞা:
যে সকল রোগ কতগুলি সুষ্পষ্ট, সুনির্দিষ্ট ও অপরিবর্তনীয় লক্ষণসমষ্টি নিয়ে একটি নিদিষ্ট সময়ের ব্যবধানে পুনঃপুনঃ আক্রমণ বা উপস্থিত হয়, তাকে সবিরাম রোগ বলে।
সবিরাম রোগের ঔষধ প্রয়োগের উপযুক্ত সময়কাল:
উপযুক্ত ঔষধের একমাত্রা সেবনেই সচরাচর অনেক সবিরাম জ্বরের পুনঃপুনঃ আক্রমণ বন্ধ হয় এবং স্বাস্থ্য পুনঃসংস্থাপতি হয়। কিন্তু অধিকাংশ সবিরাম জ্বরের ক্ষেত্রেই প্রত্যেক আক্রমণের পর একবার করে ঔষধ প্রয়োগের প্রয়োজন হয়। যদি দেখা যায় রোগের পুনরাক্রমন হয়েছে কিন্তু রোগ লক্ষণের কোন পরিবর্তন হয় নাই তবে পূর্বের ঔষধটি শক্তি সমন্বিত করে প্রত্যেক পরবর্তী মাত্রা প্রয়োগ করা যায়। তথাপি কোন কোন ক্ষেত্রে বহুদিন ভাল থাকার পর সবিরাম জ্বর ফিরে আসতে দেখা যায়। যে কারণে প্রথমে সবিরাম জ্বর হয়েছিল সেই অস্বাস্থ্যকর কারণটি সবে মাত্র রোগমুক্ত দুর্বল শরীরে প্রভাব বিস্তার করে পুনরায় আক্রমণ করে থাকে। সাধরণত জলাভূমি বা ম্যালেরিয়াদুষ্ট অস্বাস্থ্যকর বাসস্থানেই এই প্রকার পুনরাক্রমণ হয়ে থাকে। কাজেই এরূপ ক্ষেত্রে রোগী যদি অস্বাস্থ্যকর সেই স্থান ত্যাগ করে শুষ্ক স্বাস্থ্যকর স্থানে চলে যায় তবে পূর্ব স্বাস্থ্য ফিরে আসে। সুস্থ মানবদেহে আজ পর্যন্ত যে সকল ঔষধ পরীক্ষা করা হয়েছে সেসকল পরীক্ষিত ঔষধ হতেই অধিকাংশ অধিকাংশ সবিরাম জ্বরের সুচিকিৎসার জন্য ঔষধ নির্বাচন করা যায়।
৩। প্রশ্ন: সবিরাম রোগ বলতে কি বুঝ? সবিরাম রোগ কি প্রকার রোগ? আলোচনা কর।
সবিরাম রোগের সংজ্ঞা:
যে সকল রোগ কতগুলি সুষ্পষ্ট, সুনির্দিষ্ট ও অপরিবর্তনীয় লক্ষণসমষ্টি নিয়ে একটি নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে পুনঃপুনঃ আক্রমণ বা উপস্থিত হয়, তাকে সবিরাম রোগ বলে।
সবিরাম রোগ চিররোগের অন্তর্ভূক্ত রোগ:
যে সবিরাম রোগ অনির্দিষ্ট সময় পরপর পর্যাক্রমে অন্যান্য রোগের সাথে এসে উপস্থিত হয় এবং প্রকৃতিও বিভিন্ন হতে ধরনের হতে থাকে। এ প্রকারের রোগসমূহ চির রোগের অন্তর্ভুক্ত। সেগুলো সাধারণত সোরারই পরিপূর্ণ প্রকাশ। কখনো কখনো সিফিলিসের সংগে যুক্ত হয়ে জটিলতার সৃষ্টি করে। সুতরাং প্রথমোক্ত রোগীরা এন্টিসোরিক ঔষধেই আরোগ্য লাভ করে কিন্তু শেষোক্ত ক্ষেত্রে ডাঃ হ্যানিম্যানের ক্রনিক ডিজিজ নামক পুস্তকের নির্দেশ অনুসারে এন্টিসোরিক ঔষধের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে এন্টিসিফিলিটিক ঔষধও প্রয়োগ করতে হবে।
৪। প্রশ্ন: যথার্থ সবিরাম রোগের লক্ষণসমূহ লিখ।
যথার্থ সবিরাম রোগের লক্ষণ সমূহ:
রোগীর আপাত সুস্থ অবস্থায় যে সকল রোগ একইভাবে প্রায় নির্দিষ্ট সময় পুনরাগমন করে এবং সেরূপ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই চলে যায় তাদের কেই যথার্থ সবিরাম রোগ বলে। বাহ্যিকভাবে জ্বর বিহীন রুগ্ন অবস্থায় পর্যায়ক্রমে একটি নির্দিষ্ট সময়ে এরা আসা যাওয়া করে।
জ্বর যুক্ত অর্থাৎ বহুবিধ সবিরাম জ্বরের ক্ষেত্রেও এই একই অবস্থা দেখা
৫। প্রশ্ন: জ্বরহীন সবিরাম রোগের চিকিৎসা কিভাবে করতে হবে?
জ্বরহীন সবিরাম রোগের চিকিৎসা:
জ্বরবিহীন সবিরাম রোগ চির রোগের অন্তর্ভূক্ত। এ রোগের মূলকারণ সোরা, কখনও সোরার সাথে সিফিলিস এবং সাইকোসিস সংমিশ্রন দেখা দেয়। এ রোগ সাধারণত সংক্রামকভাবে অর্থাৎ একই সময়ে অনেক ব্যক্তিকে আক্রমণ করে না, তা শুধু ব্যক্তি বিশেষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। ব্যক্তি যদি স্বাস্থ্যবিধি লংঘণ করে জীবিকা নির্বাহ করে, নিজে রোগাক্রান্ত হয় অর্থাৎ সে ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সোরাই রোগের মূলকারণ হয়। সে ক্ষেত্রে লক্ষণসমষ্টির উপর ভিত্তি করে এন্টিসোরিক ঔষধ রোগীকে প্রয়োগ করতে হবে।
আর যদি সোরার সাথে সিফিলিস বা সাইকোসিসের সংমিশ্রন পাওয়া যায় এবং অধিকতর সোরার লক্ষণ প্রকাশ পায় এবং পরের মায়াজমগুলি প্রছন্ন অবস্থায় থাকে। প্রথমে এন্টিসোরিক ঔষধ প্রয়োগ করতে হবে। কারণ সোরা প্রকোপ অবস্থায় থাকে। তাই প্রথমে এন্টিসোরিক ঔষধ প্রয়োগ করার পর পর্যায়ক্রমে এন্টিসিফিলিটিক ও এন্টিসাইকোটিক ঔষধ প্রয়োগ করতে হবে। কারণ সোরার প্রশমিত হলে বাকিগুলি প্রকট হয়ে দেখা দেখ। তখন ঔষধ প্রয়োগ করতে সুবিধা হয়। রোগীর পুনরাক্রমন নিবারনের জন্য ডাঃ হ্যানিম্যান শক্তিকৃত চায়নার ২/১ মাত্রা অর্ন্তবর্তী ঔষধরূপে প্রয়োগ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
৬। প্রশ্ন: পর্যায়শীল রোগ কাকে বলে?
পর্যায়শীল রোগ:
যে সকল রোগ পর্যায়ক্রমে ২/৩ টি অবস্থা অনিয়মিত সময়ের র্যায়ক্রমে দেখা দেয়। অর্থাৎ একটি রোগ অন্তর্হিত হওয়ার টি রোগের উপসর্গ দেখা দেয়, তাকে পর্যায়শীল রোগ বলে।
যেমন- পর্যায়ক্রমে কোষ্ঠবদ্ধতা ও উদরাময়, পর্যায়ক্রমে চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্ট।
এ প্রকারের রোগগুলি একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর একই প্রকার লক্ষণ নিয়ে প্রকাশিত হয় এবং একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর আবার অন্তর্হিত হয়। অর্থাৎ রোগীর ২/৩ টি লক্ষণ পর্যায়ক্রমে বার বার দেখা দেয়।
৭। প্রশ্ন: সবিরাম ও অল্টারনেট (পর্যায়শীল) রোগের মধ্যকার পার্থক্য নির্ণয় কর। ০৮
সবিরাম ও অল্টারনেট (পর্যায়শীল) রোগের মধ্যকার পার্থক্য:
সবিরাম
১। সবিরাম রোগ একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর আক্রমণ করে।
২। একই প্রকার রোগ লক্ষণ বার বার প্রকাশ পায়।
৩। সবিরাম রোগে বিরতির সময় রোগী নিজেকে সুস্থৗ মনে করে।
৪। ইহাতে রোগের বিরতির সময় রোগীকে ঔষধ প্রয়োগ করতে হয়।
৫। উদাহরণ- জ্বর নির্দিষ্ট সময় পর পর বার বার দেখা দেয়।
১। পর্যায়শীল রোগের নির্দিষ্ট সময় নাই। অনিয়মিতভাবে আক্রমণ করে।
একই প্রকারের রোগ লক্ষণ বার বার প্রকাশ করে।
২। অবস্থার পরিবর্তন করে ভিন্ন ভিন্ন রূপে আত্মপ্রকাশ করে।
সবিরাম রোগে বিরতির সময় রোগী নিজেকে সুস্থ্য মনে করে।
৩। ইহাতে রোগী খুব দুর্বল হয়ে পড়ে।
ইহাতে রোগের বিরতির সময় রোগীকে ঔষধ প্রয়োগ করতে হয়।
৪। ইহাতে যখন যে লক্ষণ আসে সেভাবে ঔষধ প্রয়োগ করতে হয়।
সবিরাম রোগে বিরতির সময় রোগী নিজেকে সুস্থ্য মনে করে।
৩। ইহাতে রোগী খুব দুর্বল হয়ে পড়ে।
ইহাতে রোগের বিরতির সময় রোগীকে ঔষধ প্রয়োগ করতে হয়।
৪। ইহাতে যখন যে লক্ষণ আসে সেভাবে ঔষধ প্রয়োগ করতে হয়।
৫। উদাহরণ- প্রথমে কোষ্ঠবদ্ধতা পরে আবার উদরাময় দেখা দেয়।
0 মন্তব্যসমূহ