অর্গানন অব মেডিসিন (তৃতীয় বর্ষ)
অষ্টম অধ্যায়
সবিরাম জ্বর (Intermittent Fever)-(২৩৫-২৪৪)
বিক্ষিপ্তভাবে বা মহামারীরূপে যে সকল সবিরাম জ্বরও প্রাদুর্ভূত হয় সেগুলোর প্রত্যেকটিতেই দুটি পর্যায়শীল অবস্থা দেখতে পাওয়া যায়। এই দুটি পর্যায়শীল অবস্থা দেখতে পাওয়া যায়। এই দুটি পর্যায়শীল অবস্থা হচ্ছে শীত উত্তাপ অথবা উত্তাপ শীত। অবশ্য যে সকল রোগ জলাভূমিতে হয় সেগুলো এই শ্রেণীর মধ্যে পড়ে না। লক্ষ্য করলে দেখা যায় বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে তিনটি শীত, উত্তাপ, ঘাম, এই অবস্থা থাকে। সুতরাং যে ঔষধ সুস্থ মানবদেহে দুটি বা তিনটি সদৃশ সদৃশ পর্যায়ক্রমিক অবস্থা সৃষ্টি করতে পারে অথবা যে ঔষধ হোমিওপ্যাথিক বিধান অনুযায়ী লক্ষণ সাদৃশ্যে সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী, পরিস্ফুট ও একান্ত উদ্ভূত প্রকৃতির পর্যায়শীল অবস্থা উৎপন্ন করতে পারে পরীক্ষিত ঔষধসমূহের সাধারণ বিভাগ হতে সেই ঔষধই এই সকল রোগের জন্য নির্বাচন করতে হবে। তবে ঔষধটির নির্বাচন অবশ্যই এন্টিসোরিক গ্রুপ হতে হবে না এবং ঔষধ টিস্যু নির্বাচিত হতে হবে। যে আনুসাঙ্গিক লক্ষণগুলো বিশেষভাবে লক্ষ্য করতে হবে তা হচ্ছে শীততাপ বা ঘাম প্রত্যেকটির মধ্যে যার পর্যায়শীল অবস্থা সর্বাপেক্ষা প্রবল ও অসাধারণ প্রকৃতির সেটাকেই অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। কিন্তু জ্বর মুক্ত অবস্থায় রোগীর লক্ষণাবলীই হোমিওপ্যাথিক ঔষধ সুনির্বাচিত করার প্রধান পথ নির্দেশ বা সহায়ক।
অনুচ্ছেদ নং- ২৩৬
রোগের তীব্রতা কমে যাওয়ার সংগে সংগে বা স্বল্পকাল পরে রোগী যখন কিছুটা স্বস্তিবোধ করতে থাকে এই সকল ক্ষেত্রে তখনই রার সর্বাপেক্ষা যথার্থ ও উপযুক্ত সময়। স্বাস্থ্য পুনরায় প্রতিষ্ঠা করার জন্য ঔষধটি তখন দেহতন্ত্রে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সাধন করার সময় পায়। তাতে বিশেষ কোন গোলযোগ বা প্রচন্ড প্রতিক্রিয়া হয় না। পরন্তু রোগের পুণরাক্রমণের ঠিক পূর্বে যথার্থ সুনির্বাচিত ঔষধও প্রয়োগ করা হলে ঔষধের ক্রিয়া এবং স্বাভাবিকভাবে পুনরাবর্তিত রোগ এক সংগে মিলিত হয়। ফলে শরীরতন্ত্রে তখন প্রচন্ড বিক্ষোভের সৃষ্টি হয় যে জীবন সংশয় হয়ে উঠে। প্রাণহানী না হলেও রোগী মর্মান্তিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু রোগের তীব্রতা কমে যাবার সঙ্গে সঙ্গে অর্থাৎ জ্বরমুক্ত অবস্থা আরম্ভ হবার সময়ে এবং পরবর্তী পুনরাক্রমনের অবস্থা আসার দীর্ঘ সময় আগে ঔষধ প্রয়োগ করা হলে জীবনীশক্তি ঔষধের দ্বারা শান্তভাবে পরিবর্তিত হবার সর্বোত্তম সুযোগ পায় এবং স্বাস্থ্য এইভাবে আবার প্রতিষ্ঠিত হয়।
অনুচ্ছেদ নং- ২৩৭
অনেকগুলো দুষ্ট প্রকৃতির জ্বরে দেখা যায় যে- জ্বরযুক্ত অবস্থা খুবই অল্পক্ষণ স্থায়ী হয়। এমনও দেখা গেছে পূর্ববর্তী আক্রমণের অবশিষ্ট যন্ত্রণাসমূহ জ্বর মুক্ত অবস্থাকে আরো গোলযোগপূর্ণ করে তোলে এমতাবাস্থায় ঘাম কমতে আরম্ভ করলে অথবা ক্ষয়িষ্ণু তীব্রতার পরবর্তী অবস্থা সমূহ হ্রাস পেতে আরম্ভ হলেই হোমিওপ্যাথিক ঔষধ প্রয়োগ করা উচিত।
অনুচ্ছেদ নং- ২৩৮
সুনির্বাচিত ঔষধের একটি মাত্রাতেই এই প্রকার রোগের কতিপয় আক্রমণ বন্ধ করে দিয়েছে এবং স্বাস্থ্যও প্রায় পুনরায় ফিরে আসছে এমন ঘটনা বিরল নয়। কিন্তু বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই প্রতিবার আক্রমণের পর আর একটি করে মাত্রা প্রয়োগ করা উচিত। অবশ্য পূর্বের পরিবর্তন না হলে সেই একই ঔষধের পরবর্তী মাত্রা অনায়াসে প্রয়োগ করা যায়। কিন্তু মাত্রা পুনঃপ্রয়োগের নবতর নিয়ম অনুসারে প্রতিটি পরবর্তী মাত্রা প্রয়োগ করার পূর্বে শিশিকে ১০/১২ বার ঝাঁকি দিয়ে ঔষধকে শক্তি মন্ডিত করে প্রয়োগ করতে হবে। বিরল হলেও তথাপি কোন কোন ক্ষেত্রে কিছুদিন সুস্থ থাকার পর সবিরাম ফিরে আসতে দেখা যায়। প্রথম যে কারণে জ্বর হয়েছিল আরোগ্য উন্মুক্ত অবস্থাতেও সে ক্ষতিক্ষর কারণটি সক্রিয় হওয়ার কিছুকাল সুস্থ থাকার পর আবার একই জ্বরের প্রত্যাবর্তন সম্ভবপর হয়েছে। জলাভূমিতে এরূপ হয়ে থাকে। উত্তেজক কারণকে (causative factor) দূর করতে পারলে এগুলোর হাত হতে প্রায়ই স্থায়ীভাবে নিষ্কৃতি পাওয়া যায়। আর্দ্র অঞ্চলে সৃষ্ট জ্বরের কবল হতে মুক্ত করতে হলে রোগীকে পার্বত্য অঞ্চলে স্থানান্তরিত করতে হবে।
অনুচ্ছেদ নং- ২৩৯
প্রায় প্রত্যেকটি ঔষধের যথার্থ ক্রিয়ার দ্বারা এক বিশেষ বিচিত্র প্রকৃতির জ্বর সৃষ্টি হয়। এমন কি পর্যায়ক্রমিক অবস্থাযুক্ত সবিরাম জ্বরও উহার দ্বারা সৃষ্টি হয়, অপরাপর ঔষধ দ্বারা সৃষ্টি জ্বরের সহিত এদের সাদৃশ্য নেই। সুতরাং বিশাল ঔষধ রাজ্যের মধ্যে নানা প্রকার স্বাভাবিক সবিরাম জ্বর আরোগ্যের জন্য সদৃশ ঔষধের অভাব হতে পারে না। সুস্থ মানবদেহে ইতিপূর্বে পরীক্ষিত সীমিত ঔষধরাজীর দ্বারাও ঐ ধরনের বহু জ্বরের চিকিৎসা হতে পারে।
অনুচ্ছেদ নং- ২৪০
কিন্তু সবিরাম জ্বরের ব্যাপক মহামারী চিকিৎসায় কোন ঔষধ সদৃশ বিধানমতে সুনির্বাচিত হলেও তা যদি কোন কোন রোগীকে সম্পূর্ণ আরোগ্য করতে ব্যর্থ হয় এবং জলাভূমির প্রভাব সেই আরোগ্যের পথে বাধা না সৃষ্টি করে। তা হলে নিশ্চিত ভাবেই আভ্যন্তরীণ সোরাই ইহার পিছনে আছে বলে বুঝতে হবে। এই সকল ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আরোগ্য না হওয়া পর্যন্ত এন্টিসোরিক ঔষধ দ্বারা চিকিৎসা করতে হবে।
অনুচ্ছেদ নং- ২৪১
স্থানীয় কারণ হতে উৎপন্ন না হলে সবিরাম জ্বরের মহামারীসমূহের প্রকৃতি চিররোগের মতই হয়ে থাকে। একটি মাত্র তরুণ উচ্ছ্বাস নিয়ে এরা আগমন করে। প্রত্যেকটি মহামারী একই বিশেষ ধরনের একই প্রকৃতিতে আক্রান্ত ব্যক্তিগনের মধ্যে পরিদৃষ্ট হয় এবং সকল ক্ষেত্রের সাধারণ লক্ষণ সমষ্টির মধ্যে যখন ঐ প্রকৃতি দৃষ্ট হয় তখন উহা এই মহামারীর পূর্বে যারা এক প্রকার সুস্থই ছিল অর্থাৎ উদ্দীপ্ত সোরাজনিত চির রোগ ভোগ করে নাই তাদের সকলের পক্ষে সর্বতোভাবে প্রায় অমোঘ সমলক্ষণ সম্পন্ন ঔষধ আবিষ্কারের পথ প্রদর্শন করে।
অনুচ্ছেদ নং- ২৪২
কিন্তু যদি এরূপ ব্যাপক সবিরাম জ্বরের রোগীদের প্রথম আক্রমণের সময়েই আরোগ্য করা যায় বা অনুপযোগী এ্যালোপ্যাথি চিকিৎসায় তাদের দুর্বল করে রাখা হয় তা হলে অনেকের মধ্যেই যে সহজাত সোরা (inherent psora) সুপ্ত অবস্থায় ছিল তা সক্রিয় হয়ে উঠে এবং সবিরাম জ্বরের প্রকৃতি গ্রহন করে এবং সর্বতোভাবে ব্যাপক প্রকৃতির সবিরাম জ্বরের রূপ গ্রহণ করে। অতএব প্রথম আক্রমনের সময়ে যে ঔষধ উপযোগী ছিল বর্তমানে সে ঔষধ উপযোগী ও ফলপ্রদ হয় না। এখন আমাদের সোরা জাত সাবিরাম জ্বরের চিকিৎসা করতে হবে। উচ্চশক্তির সালফার বা হিপার সালফারের ক্ষুদ্র মাত্রাতেই তা সাধারণত আরোগ্য হয়ে যাবে। কদাচিৎ মাত্রা পুনঃপ্রয়োগের প্রয়োজন হয়।
অনুচ্ছেদ নং- ২৪৩
জলাভূমিতে বাস না করেও কোন ব্যক্তি মারাত্মক প্রকৃতির সবিরাম জ্বরে আক্রান্ত হলে প্রথম দিকে, সোরাজনিত নতুন রোগ ক্ষেত্রে সাধারণতঃ যেমন করা হয় কয়েকদিন অন্য শ্রেণীর (অগভীর not antipsoric) পরীক্ষিত ঔষধসমূহ হতে সেই বিশেষ রোগীর জন্য সদৃশ ঔষধ প্রয়োগ করতে হবে এবং তাতে কি ফল হয় তা দেখতে হবে। কিন্তু এতে আরোগ্য ক্ষেত্রে বিলম্ব ঘটলে বুঝতে হবে এক্ষেত্রে সোরা বিকশিত হবার উপক্রম করছে। কাজেই সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র এন্টিসোরিক ঔষধই যথার্থ আরোগ্য বিধান করতে পারে।
অনুচ্ছেদ নং- ২৪৪
যে সকল সবিরাম জ্বর জলাভূমি ও বারবার বন্যা প্লাবিত অঞ্চলে স্থানীয়ভাবে দেখা দেয় সে সব জ্বরের চিকিৎসার জন্য প্রাচীনপন্থী চিকিৎসকদের অত্যন্ত কর্ম তৎপর হতে দেখা যায়। তথাপি নির্দোষ জীবন-যাত্রা যাপন করতে পারলে এবং অভাব অভিযোগ ক্লান্তি বা দুষ্ট প্রবৃত্তির দ্বারা শারীরিক অবনতি না ঘটলে সুস্থ ব্যক্তি যৌবনকালে জলাভূমিতে থাকতে অভ্যস্ত হয়েও স্বাস্থ্যবান থাকতে পারেন। কোন ব্যক্তি প্রথম সে অঞ্চলে আগমণ করলে স্থানীয় সবিরাম জ্বরও বড়জোর তাকে একটু আক্রমণ করতে পারে। কিন্তু উচ্চশক্তির সিনকোনা ছালের মিশ্রন হতে এক বা দুটি ক্ষুদ্রতম মাত্রা প্রয়োগ করলে ও জীবন-যাপন প্রণালীকে সুনিয়ন্ত্রিত করা হলে তাকে দ্রুতভাবে রোগমুক্ত করে। কিন্তু প্রয়োজন মতো শারীরিক ব্যায়াম এবং সুষ্ঠুভাবে মানসিক ও দেহচর্চা করেও যে সকল লোক জলাভূমি অঞ্চলের সবিরাম জ্বরের সময় সিনকোনার ঐরূপ একাধিক ক্ষুদ্রমাত্রার আরোগ্য লাভ করে না, সে ক্ষেত্রে ঝুঝতে হবে সোরা ইহার মূলে রয়েছে এবং বিকশিত হবার চেষ্টা ন্টিসোরিক চিকিৎসা ব্যতিত তাঁদের সবিরাম জ্বর আরোগ্য হতে পারে না। রোগস্তর এখনো গভীর না হলে অর্থাৎ সোরা পরিপূর্ণ ভাবে বিকশিত না হলে কোন কোন ক্ষেত্রে দেখা যায়, অবিলম্বে আর্দ্র অঞ্চল হতে পার্বত্য অঞ্চলে স্থান পরিবর্তন করলে ব্যাহত আরোগ্যের সূত্রপাত হয় এবং (জ্বর বিশ্রাম হয়ে যায়)। সোরাও আবার ফিরে যেতে পারে সুপ্ত অবস্থায় কিন্তু এন্টিসোরিক চিকিৎসা ব্যতিত সেসব রোগী কখনো পরিপূর্ণ স্বাস্থ্য লাভ করতে পারে না।
১। প্রশ্ন: সবিরাম জ্বর কি?
সবিরাম জ্বর:
যে জ্বর একই রকম বৈশিষ্ট্য নিয়ে অপরিবর্তিত অবস্থায় রোগীকে নির্দিষ্ট সময় বিরতি দিয়ে বারবার আক্রমন করে তাকে সবিরাম জ্বর বলে। জ্বর বিরতিকালে রোগী সুস্থ রোধ করে।
৩। প্রশ্নঃ সবিরাম জ্বর সম্বন্ধে ডাঃ হ্যানিম্যানের অভিমত বর্ণনা কর। সবিরাম জ্বর সম্বন্ধে ডাঃ হ্যানিম্যানের অভিমত বর্ণনা:
সবিরাম জ্বরের ক্ষেত্রে সদৃশ বিধানে নির্বাচিত ঔষধটি রোগের বৃদ্ধিকাল বাদ দিয়ে রোগ আক্রমন প্রশমিত হওয়ার পর পরই প্রয়োগ করতে হয়। জ্বরের উপশম প্রাপ্তির প্রথম অবস্থায় এবং পরবর্তী আক্রমনের পূর্বে ঔষধ প্রয়োগ করলে রোগী আরোগ্য লাভ করে।
সবিরাম জ্বরে ঔষধ নির্বাচন:
যে সকল সবিরাম জ্বর (জলাভূমিতে সৃষ্ট পৌনঃপুনিক জ্বর নয়) বিক্ষিপ্ত বা মহামারীরূপে দেখা দেয় সে সকল কতক সবিরাম জ্বরের আক্রমণকালে দুইটি বিপরীত লক্ষণ প্রকাশ পেয়ে থাকে (যথাঃ শীত-উত্তাপ অথবা উত্তাপ-শীত) এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তিনটি বিপরীত লক্ষণ (যথাঃ শীত-উত্তাপ-ঘর্ম) প্রকাশ পায়। এই প্রকার জ্বরের চিকিৎসা করতে হলে সাধারণ শ্রেণীর পরীক্ষিত ঔষধরাজি হতে এমন একটি ঔধষ নির্বাচন করতে হবে যা সুস্থ মানবদেহে প্রয়োগ করলে ঐ প্রকার বিপরীত লক্ষণদ্বয় বা লক্ষণত্রয় পর্যায়ক্রমে উৎপাদন করতে সমর্থ। তা না হলে রোগীর দুইটি বা তিনটি অবস্থার (অর্থাৎ শীত, উত্তাপ, ঘর্ম এই তিন অবস্থা) মধ্যে যেটি সর্বাপেক্ষা প্রবল ও বিশেষত্বপূর্ণ সেটি এবং এর আনুসঙ্গিক লক্ষণসমূহের সাথে সর্বাপেক্ষা সাদৃশ্যপূর্ণ হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নির্বাচন করতে হবে। জ্বরের বিরামকালের লক্ষণসমূহই সর্বাপেক্ষো যত্নপূর্বক পর্যবেক্ষণ করা আবশ্যক। কারণ উপযুক্ত ঔষধ রতে এই লক্ষণগুলি বিশেষ সহায়ক হয়ে থাকে।
মধ্যবর্তী ঔষধ হিসাবে নিম্নলিখিত সময় চায়না শক্তিকৃত মাত্রার প্রয়োগ প্রয়োজন:
রোগীর আপাত সুস্থ অবস্থায় যে সকল রোগ একইভাবে প্রায় নির্দিষ্ট সময় পুনরাগমন করে এবং সেরূপ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই চলে যায় তাদেরকেই যথার্থ সবিরাম রোগ বলে। বাহ্যিকভাবে জ্বর বিহীন রুগ্ন অবস্থায় পর্যায়ক্রমে একটি নির্দিষ্ট সময়ে ইহারা আসা যাওয়া করে। জ্বর যুক্ত অর্থাৎ বহুবিধ সবিরাম জ্বরের ক্ষেত্রেও এই একই অবস্থা দেখা যায়। এ সকল আপাত জ্বরবিহীন যথার্থ প্রত্যাবর্তনশীল রোগসমূহ একই রোগীকে পুনঃপুনঃ আক্রমণ করতে দেখা যায় কিন্তু ইহারা প্রধাণতঃ এবং সর্বদাই পুরাতন রোগের অন্তর্ভূক্ত। ইহাদের বেশীর ভাগ সোরা হতে উৎপন্ন হয়। কদাচিৎ কখনো সিফিলিসের সহিত সংযুক্ত হয়ে জটিলতার সৃষ্টি করে। একই নিয়মে সাফল্যের সহিত ইহাদের চিকিৎসা করতে হয়। তথাপি ইহাদের পুনরায় গমন সম্পূর্ণ দূর করার জন্য কোন কোন সময় মধ্যবর্তী ঔষধ হিসাবে (intermediate remedy) সিনকোনা ছালের (চায়না) শক্তিকৃত ক্ষুদ্রমাত্রা প্রয়োগ করার প্রয়োজন হয়।
0 মন্তব্যসমূহ