একজিমা
Eczema
ঔষধ:-
সোরিনাম- একজিমায় খুব চুলকানি থাকে। চুলকাইবার পর জল ও রস নির্গত হয়। রোগীর শরীরের চর্ম খুব অপরিষ্কার থাকে এবং স্নান করিবার পরও শরীরের দুর্গন্ধ যায় না। চর্মে নানা রকমের উদ্ভেদ বাহির হয়।
টিউবারকুলিনাম- পায়ের গাঁটের চামড়া পুরু এবং শক্ত হইয়া কালো বর্ণের হইলে এই ঔষধটি প্রয়োগে উপকার হয়। অন্য ঔষধ প্রয়োগের ফলে উদ্ভেদ হঠাৎ বসিয়া গিয়া উদরাময়, হাঁপানী, জ্বর হইলে এই ঔষধ প্রয়োগে উপকার দর্শে।
রাস ভেন- সমস্ত শরীরে অথবা শরীরের যে কোন স্থানিক অঙ্গে একজিমা হইলে ইহা উপকার করে। যদি রোগ বাড়িয়া যায় তাহা হইলে পরে রাসটক্স প্রয়োগ করিতে হইবে।
ক্রোটন- জননেন্দ্রিয়ে অথবা মুখ-মণ্ডলের পীড়ায় ইহা উপযোগী।
গ্রাফাইটিস- দেহের যে কোন স্থানে একজিমা হইলে এই ঔষধে উপকার হয়। মাথায়, মুখে, চোখের পাতায়, জননেন্দ্রিয় এবং কানের পশ্চাতে ফুস্কুড়ির মত অথবা কাউর ঘা হইলে এই ঔষধ আরো উপযোগী। ফুস্কুড়ি অথবা ঘা হইতে রস নির্গত হয় এবং ঐ রস খুব ঘন ও চট্টচটে। ছোট ছোট বালক-বালিকার মাথার, কপালে, ঘাড়ে এবং কানে এক প্রকার চর্মরোগ হইতে দেখা যায়। ঐ চর্মরোগ ক্রমশঃ রস লাগিয়া জুড়িয়া গেলে গ্রাফাইটীস প্রয়োগে উপকার হয়।
স্ট্যাফিসেগ্রিয়া- ইহার লক্ষণ সব সময় রস নিঃসরণ হওয়া। রসে খুব দুর্গন্ধ থাকে এবং যেখানে উহা লাগে সেখানের চুল ঝরিয়া যায়। মাথার পেছন দিকে উদ্ভেদ নির্গত হইলেও এই ঔষধটি বেশ উপযোগী। যাহারা পারদ অপব্যবহার করিয়াছে তাহাদের জন্য এবং ব্রোগা বালক-বালিকাদের জন্য এই ঔষধটি আরো ফলপ্রদ।
পেট্রোলিয়াম- এই ঔষধটির লক্ষণ গ্রাফাইটাসের মত। কানে, কানের পেছনের দিকে এবং মাথার উদ্ভেদে যখন অধিক পরিমাণে উদ্ভেদ দেখা দিতে থাকে তখন ইহা প্রযোজ্য। উদ্ভেদ শীতকালে বাড়িয়া গ্রীষ্মকালে কমিয়া যায়।
ভায়োলা ট্রাইকোলা- শিশুদের মাথার একজিমা হইতে রস পড়িতে থাকে এবং প্রদান করে। চুলে রস লাগিয়া চুল উঠিয়া যায়। এই লক্ষণটির সহিত শিশুর প্রস্রাবে কটু এবং তীর গন্ধ থাকিলে ও প্রস্রাবের পরিমাণ অধিক হইলে অথবা প্রস্রাব বন্ধ থাকিলে এই ঔষধটি ফল
আর্কটীয়াম লাপ্পা- দুর্গন্ধযুক্ত রস নিঃসরিত হওয়া। একজিমায় সাদা রংয়ের মামড়ি পড়ে। এই উপসর্গ সমূহের সহিত গ্লাণ্ড ফুলিলে এবং গ্লান্ড পাকিয়া গ্ল্যন্ড হইতে পূজ পড়িতে থাকিলে ইহা আরও ফল প্রদান করে।
ভিন্ন্কা মাইনর- মাথায়, মুখে, কানের পিছন দিকে দুর্গন্ধযুক্ত উদ্ভেদ নির্গত হইলে ইহা উপযোগী। ঘা'য়ের উপর মামড়ি পড়া এবং উহার অনেক নীচে পূজ সঞ্চিত থাকা ইহার অন্যতম লক্ষণ। ক্ষত প্রায় পঁচিতে থাকে এবং তথায় পোকায় ঘিস্ ঘিস্ করিতে থাকে।
ন্যাট্রাম মিউর- হাতের ও পায়ের ভাঁজে, দাড়িতে হাঁটুর ভাঁজে চুলকানীযুক্ত রসপূর্ণ একজিমায় ইহা প্রযোজ্য।
নাক্স জুগল্যান্স- মাথায় লালবর্ণে চুলকানী যুক্ত উদ্ভেদ হইলে এই ঔষধে উপকার হয়। বগলে এবং হাতে পাঁচড়ার মত উদ্ভেদে এই ঔষধ আরো উপযোগী।
ক্যালি বাইক্রম:- বিভিন্ন প্রকার চর্ম পীড়া গ্রীষ্মকাল আসিলে বৃদ্ধি পায়, শীত কালে আপনা আপনি সারিয়া যায়। রোগী শীত কাতর হইলে ও গ্রীষ্ম কাল তাহার অসহ্য।
মেজেরিয়ম:- শরীরের বিভিন্ন স্থানে খুজলি, পাঁচড়া, একজিমা তাহারউপর মামড়ি পড়ে। মামড়ির নীচে হলুদ বা সাদা রঙের গাঢ় পুঁজ। ভীষণ চুলকানী ছেলে- মেয়েদের মাথায় একজিমায় ইহা খুব ভাল কাজ করে।
সাইকিউটা:- মাথায় ছোট বড় পুঁজ পূর্ণ কুস্কুরি, লেপাকৃত হইয়া ঘায়ে পরিণত হয়। সেই ঘায়ের উপর মামড়ি (চটা) পড়ে। মামড়ির নীচে হলুদ রঙের পুঁজ সমস্ত মাথায় ছড়াইয়া পড়ে।
কোর্যালিয়ম:- হাতের পায়ের তলায় একজিমা অত্যন্ত চুলকায়, পায়ের তলায় একজিমায় এই ঔষধ প্রয়োগ করিতে দিয়া আমি কয়েকটি রোগী আরোগ্য হইতে দেখিয়াছি।
নেট্রাম কার্ব:- রোগী অত্যন্ত শীত কাতর। শীত কালে ঠান্ডা একেবারেই অসহ্য। হাতে আঙ্গুলে ফাঁটা ফাঁটা একজিমা। একজিমা অত্যন্ত চুলকায়।
নেট্রাম মিউর:- হাটুর পিছনে কনুইতে, অন্ডকোষে একজিমা ভয়ানক লবণাক্ত দ্রব্য আহারে অত্যন্ত ইচ্ছা। মেজাজ রাগী চুলকায়। জল লাগিলে চুলকানি বাড়ে। শান্তনায় বৃদ্ধি, গরমে কাতর। এই ধাতুর রোগীতে নেট্রাম মিউর অধিকতর উপযোগী।
সালফার:- খুজলি, পাঁচড়া বিখাউজ নানা প্রকার চর্ম পীড়া। অত্যন্ত চুলকানী, যতই চুলকায় ততই চুলকানী বাড়ে। চুলকানীর পর জ্বলে। রোগী গরমে কাতর স্নান করতে চায় না। স্নানে তাহার সকল রোগ যন্ত্রণা বৃদ্ধি।
ডলিকস:- শরীরে কোন প্রকার উদ্ভেদ নাই তবুও ভীষণ চুলকানী। যত চুলকায় ততই চুলকানী বাড়ে। উদ্ভেদ বিহীন চুলকানীতে ডলিকস উত্তম ঔষধ।
এনাগেলিস:- হাতে পায়ে আঙ্গুলে একজিমা, চামড়ার নীচে ঘামাচির মত এক প্রকার উদ্ভেদ। অত্যন্ত চুলকায় ইহাতে এনাগেলিস উপকারী।
টেলুরিয়ম:- মাথা, মুখে, শরীরের বিভিন্ন স্থানে রিং দাদ অর্থাৎ গোলাকার দাউদে অত্যন্ত চুলকানিতে ইহা মহৌষধ।
ব্যাসিলিনাম:- শুষ্ক একজিমায় অব্যর্থ মহৌষধ। শরীরের বিভিন্ন স্থানে একজিমা চুলকাইলে গমের ভূষির মত আইশ উঠে। চুলকানী যথেষ্ট কিন্তু চুলকাইবার পর কোন এস বা কষ উঠে না। বদ মেজাজী রাগী, শীত কাতর রোগীর বেলায় ইহা অধিক খাটে।
ক্রোটন টিগ:- অন্ডকোষে রসযুক্ত বা শুষ্ক একজিমা, ভয়ানক চুলকায়, চুলকানির সময় খুব আরাম বোধ, পরে জ্বালা ঠান্ডা জ্বলে যন্ত্রণা বাড়ে। রাতে চুলকানির জন্য ঘুমের ব্যাঘাত। শিশুদের মাথায় কুস্ফুরিযুক্ত চর্মরোগ, কুস্কুরির উপড় চটা পড়ে। চটা উঠিয়া গেলে রস ঝরে, এই প্রকার চর্ম রোগের সহিত উদরাময় ক্রোটনে আরোগ্য করিতে পারে।
এনাকার্ডিয়াম অক্সি:- ছেলে মেয়েদের নাকে, মুখে, বুকে বা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আগুনে পোড়া ফোস্কার ন্যায় উদ্ভেদ বাহির হইয়া লেপাবৃত্ত হইয়া যায়। মাঝে মাঝে চুলকায়। গরম সময়ে এই রোগ হয় বলিয়া কেহ কেহ গরম গোটা বলে। ইহাতে এনাকার্ডিয়াম উপকারী।
এলুমিনা- শুষ্ক, উত্তপ্ত এবং লালবর্ণের একজিমায় ইহা প্রযোজ্য।
ক্যাল্কে কার্ব- একজিমা চকখড়ি এবং মামড়িযুক্ত হইলে ইহা উপকারী।
ওলিয়েণ্ডার- মাথায় আর্দ্র এবং মামড়িযুক্ত উদ্ভেদে এই ঔষধ উপকারী।
মার্ককর- একজিমা হইতে রক্ত স্রাব হইতে থাকিলে মার্ককর প্রযোজ্য। রোগ পুরাতন হইলে এবং আরোগ্য লাভ করিতে না চাহিলে এই ঔষধে উপকার হয়।
চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত ওষুধ খাবেন না।

0 মন্তব্যসমূহ