অর্গানন অব মেডিসিন (তৃতীয় বর্ষ)
চতুর্দশ অধ্যায়
এক সময়ে একটিমাত্র ঔষধই রোগীতে প্রয়োগ (২৭২-২৭৪)
অনুচ্ছেদ নং- ২৭২
এরূপ একটি অনুবটিকা শুষ্ক অবস্থায় জিহ্বার উপর প্রয়োগ করলে সাম্প্রতিক রোগের ক্ষেত্রে তাই হবে একটি ক্ষুদ্রতম মাত্রা। *এক্ষেত্রে কেবল সামান্য কয়েকটি স্নায়ুকেই ঔষধ স্পর্শ করে। এরূপ একটি অনুবটিকা কিছু দুগ্ধ শর্করার সহিত পিষে অধিক পরিমাণ মিশিয়ে এবং প্রতিবার সেবনের পূর্বে উত্তমরূপে আলোড়িত করলে ঔষধ পূর্বাপেক্ষা অনেক বেশিই শক্তিশালী হয় এবং তা কয়েকদিন ধরে ব্যবহার করা চলে। অধিকন্তু যতই ক্ষুদ্র হোক না কেন ইহার প্রত্যেকটি মাত্রা অনেকগুলো স্নায়ুকে স্পর্শ করে।
অনুচ্ছেদ নং- ২৭৩
কোন রোগীকেই একই সময় একটি বেশী অবিমিশ্রিত ঔষধ প্রয়োগ করার প্রয়োজন হয় না কাজেই তা এক সময় একাধিক ঔষধ প্রয়োগ করা অনুমোদন যোগ্য হতে পারে না। রোগের ক্ষেত্রে এক সময় একটি অবিমিশ্র ঔষধ অথবা বিভিন্নভাবে কার্যকরী কতিপয় ঔষধের মিশ্রণ প্রয়োগ করার মধ্যে কোনটি অধিকতর প্রাকৃতিক বিধান সম্মত ও যুক্তিসংগত সে বিষয় বিন্দু মাত্র সন্দেহ থাকাও ধারণাতীত ব্যাপার। একমাত্র যথার্থ সহজবোধ্য ও প্রাকৃতিক আরোগ্যকলা এই হোমিওপ্যাথিতে রোগীকে একই সময় দুটি বিভিন্ন ঔষধ প্রয়োগ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
অনুচ্ছেদ নং- ২৭৪
একক অমিশ্রভাবে প্রয়োগ করলে প্রকৃত চিকিৎসা বিজ্ঞানী যখন অবিমিশ্রিত ঔষধের ক্রিয়ার মধ্যে আকাংঙ্খিত সদৃশ ক্ষমতা বলে রোগশক্তি স্বাভাবিক রোগ কে কেন্দ্রবিন্দু পরাভূত ও ধ্বংস করে স্থায়ী আরোগ্য সাধন করতে পারে এবং যখন অবিমিশ্রিত ঔষধের ক্রিয়ার মধ্যে আকাংকিত সব কিছুই পেতে পারেন তখন সরল উপায় যথেষ্ট হলে জটিল উপায় অবনয়ন করা অন্যায় এই নীতিবাক্য মনে রেখে তিনি কখনও একটি মাত্র অবিমিশ্র ঔষধ ব্যতিত অন্য কিছু প্রয়োগ করার কথা চিন্তাই করতে পারেন না। ইহার আরো কারণ এই যে, যদিও সেই অমিশ্র ঔষধ সমূহের বিশুদ্ধ বিশেষ ক্রিয়া দ্বারা সুস্থ মানব দেহে সর্বতোভাবে পরীক্ষা হয়েছে কিন্তু তথাপি সেরূপ দুটি বা ততোধিক পদার্থকে গ্রহণ করা হলে মানব দেহ তাদের প্রত্যেকটির ক্রিয়া কিরূপ বাধাঁ উপস্থিত ও পরিবর্তিত হয় তা পূর্ব হতে জানা অসম্ভব
অপর দিকে একটি অমিশ্র ঔষধের লক্ষণ মোট সমর্থিতভাবে জানা থাকলে এবং তা সদৃশ ধারণা নির্বাচন করে রোগসমূহে প্রয়োগ করা হলে এককভাবে আরোগ্য সাধনে উপযুক্ত সাহায্য দান করে। মনে করি যে, তা নিতান্ত খারাপ ফল প্রদান করেছে অর্থাৎ ইহা সম্যকরূপে লক্ষণসমষ্টি অনুসারে নির্বাচিত না হওয়ায় কোন উপকার সাধন করতে পারে নাই তথাপি তা আমাদের ঔষধ সম্বন্ধীয় সুরক্ষা সীমা অব্যাহত সহায়তা করে। কারণ এরূপ রোগীতে যে সকল নতুন লক্ষণ এই ঔষধ সৃষ্টি করে তা সুস্থ শরীর এই ঔষধ প্রলেপভিং এর সময় তাকেই দেখা গেছে কাজেই তা আরোগ্য সমর্থিত হলো। একাধিক ঔষধের শোষণ প্রয়োগ করা হলে এই সুযোগ পাওয়া যায় না।
১। প্রশ্ন: একক মাত্রা কাকে বলে? একক মাত্রায় ঔষধ প্রয়োগের উপকারিতা কি? ১৩
বা একবারে একমাত্রা কেন প্রয়োগ করা হয়?
একক মাত্রা এর সংজ্ঞা:
একক মাত্রা সম্পর্কে বিভিন্ন চিকিৎসক বিভিন্ন মতামত পোষণ করেন। সাধারণতঃ কোন রোগী বা প্রভারদেরকে একবার যতটুকু ঔষধ প্রয়োগ করা হয়, তাকে একক মাত্রা বলা হয়। অর্গানন অব মেডিসিন গ্রন্থের ৬ষ্ঠ সংস্করণে এসে ডাঃ হ্যানিম্যান একক মাত্রার পরিমাণ নতুন শক্তিকরণ পদ্ধতির (সহস্রতামিক পদ্ধতির) ঔষধের দ্বারা ঔষুধিকৃত ১০০ গ্রেন আকৃতির একটি অনুবটিকা হবে বলে উল্লেখ করেন। অর্থাৎ একই আকৃতির ১০০টা অনুবটিকার ওজন ১ গ্রেণ হয় এবং এক ফোঁটা ঔষধ দ্বারা সিক্ত করে এর থেকে একটা অনুবটিকা এককমাত্রা হবে বলে নির্দেশ করেন।'
একক মাত্রায় ঔষধ প্রয়োগের উপকারিতা:
রোগীর জন্য সুনির্বাচিত ঔষধ সব সময় একবারে একটা মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে। ইহার হোমিওপ্যাথির অন্যতম নিয়মনীতি। ঔষধ একবারে একটি করে মাত্রায় প্রয়োগ করলে তা অত্যন্ত কার্যকরী হয়। অর্গানন অব মেডিসিন গ্রন্থের ৬ষ্ঠ সংস্করণে উল্লেখ আছে যে, ঔষধকে পরিশ্রুত পানিতে গুলে বিভক্ত করে প্রত্যেকবার প্রয়োগের পূর্বে ৮ থেকে ১২ বার সজোরে ঝাঁকি দিয়ে পরিবর্তিত মাত্রায় প্রয়োগ করা হয়, তবে তা আরও বেশি কার্যকরী হয়। ঔষধকে পরিবর্তিত একক মাত্রায় প্রয়োগ করলে মাত্রাটা আরও অনেক সূক্ষ্ম হয়। যে কোন ঔষধ রোগীর লক্ষণের সাথে যত বেশি সদৃশ লক্ষণ সম্পন্ন হয় ও এর মাত্রা যত বেশি ক্ষুদ্র বা সূক্ষ্ম হবে, ততই দ্রুত আরোগ্যকারী পরিবর্তন পাওয়া যায়। এজন্য ঔষধকে একক মাত্রায় প্রয়োগ করতে হয়। উপরোক্ত আলোচনা হতে ইহাই প্রতীয়মান যে হোমিওপ্যাথির অন্যতম অন্যান্য নিয়মনীতি একক মাত্রায় ঔষধ প্রয়োগ।
সুতরাং একক মাত্রায় ঔষধ প্রয়োগের উপকারিতা সুদূরপ্রসারী।
২। প্রশ্নঃ পথ্য বলতে কি বুঝ? পথ্য ও ভেষজের মধ্যে পার্থক্য লিখ।
বা, পথ্য ও ভেষজের মধ্যে পার্থক্য লিখ। ১১
বা, ঔষধ ও পথ্যের মধ্যে পার্থক্য লিখ। ১০
পথ্য এর সংজ্ঞা:
রোগারোগ্যের জন্য ঔষধের সাথে যে খাদ্য ও পানীয় চিকিৎসক রোগীকে খাওয়ার জন্য উপদেশ প্রদান করেন, তাকে পথ্য বলে।
ঔষধ ও পথ্যের মধ্যে পার্থক্য:
ঔষধবিজ্ঞান সম্মত উপায়ে ১ ফার্মাকোপিয়ার নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া বা ফর্মূলা অনুযায়ী ভেষজ পদার্থ হতে প্রস্তুতকৃত বস্তুকে ঔষধ বলে।
ইহার রোগ উৎপাদন ও ২ আরোগ্যকর উভয় ক্ষমতা আছে।
ইহা সূক্ষ্মমাত্রায় প্রয়োগে রোগ ৩ আরোগ্য হয়।
ঔষধ শুধুমাত্র দেহের ৪ জীবনীশক্তির বিশৃংখলা হেতু দেহ ও মনে প্রকাশিত লক্ষণে সদৃশভাবে ব্যবহৃত হয়। পথ্য রোগারোগ্যের জন্য ঔষধের সাথে যে খাদ্য ও পানীয় চিকিৎসক রোগীকে খাওয়ার জন্য উপদেশ প্রদান করেন, তাকে পথ্য বলে।
ইহার দেহ গঠন ও রোগ আরোগ্যের উভয় ক্ষমতা আছে।
ইহা নির্দিষ্ট পরিমিত মাত্রায় গ্রহনে মানবদেহ সুস্থ্য ও সবল থাকে।
পথ্য দেহের পুষ্টিসাধন করে রোগীকে সুস্থ্য ও রোগমুক্ত রাখতে সাহায্য করে।
0 মন্তব্যসমূহ