অনুচ্ছেদ নং- ২৮৬
যা যথার্থ ঔষধ তা মুখে সেবন করালে, চর্মে মর্দন করলে বা ঘ্রাণের দ্বারা প্রয়োগ করলে যেভাবে রোগের ক্রিয়া নষ্ট করে থাকে তা অপেক্ষা খনিজ-চুম্বক, তড়িৎ ও রাসায়নিক তড়িতের গতিশীল শক্তি আমাদের জীবনীশক্তির উপর কম ক্রিয়া প্রকাশ করে না এবং কম সদৃশ লক্ষণ সম্পন্ন হয় না। বিষেশত অনুভূতি ও উত্তেজনা প্রবণতা অস্বাভাবিক অনুভূতিসমূহ এবং অনিচ্ছাকৃত পেশী সঞ্চালন প্রভৃতির মত রোগসমূহ এ সমস্ত উপায়ে আরোগ্যলাভ করতে পারে। কিন্তু শেষোক্ত দুটির এবং তড়িৎ চুম্বক যন্ত্রের অধিকতর সুনিশ্চিত হোমিওপ্যাথিক প্রয়োগ পদ্ধতির জ্ঞান এখনও এত তমসাবৃত যে তাদের ব্যবহার করা চলে না। আজ পর্যন্ত বিদ্যুৎ ও রাসায়নিক তড়িৎকে কেবল সাময়িক উপশমের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে এবং তাতে রোগীর প্রভূত ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুস্থ মানবদেহের উপর এদের নির্দিষ্ট বিশুদ্ধ ক্রিয়া এখনও পর্যন্ত সামান্যই পরীক্ষিত হয়েছে।
অনুচ্ছেদ নং- ২৮৭
মেটেরিয়া মেডিকা পিউরা গ্রন্থে শক্তিশালী চুম্বক শালাকার উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর নিশ্চিত ক্রিয়া সম্বন্ধে যে বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হয়েছে সেভাবে রোগ নিরাময়ের জন্য অধিকতর নিশ্চয়তার সংগে চুম্বক শক্তিকে প্রয়োগ করা যেতে পারে। যদিও উভয় মেরুই সমভাবে শক্তিশালী তথাপি তারা নিজ নিজ ক্রিয়ানুসারে একে অন্যের বিরুদ্ধাচারণ করে। লক্ষণ অনুযায়ী সুচিত উত্তর বা দক্ষিণ মেরুর সংযোগ সময়ের দৈর্ঘ্য দ্বারা মাত্রার পরিমাণ স্থির করা যেতে পারে। ইহার প্রচন্ড ক্রিয়াকে প্রতিহিত করার জন্য পালিশ করা এক খন্ড দস্তার প্লেট প্রয়োগ করলেই যথেষ্ট হবে।
১। প্রশ্নঃ জৈব চুম্বকত্ব সম্বন্ধে বর্ণনা দাও। ০৯, ১১, ১৪
জৈব চুম্বকত্ব সম্বন্ধে বর্ণনাঃ
জৈব চুম্বকত্ব নামে কথিত হলেও আসলে তা সম্মোহনের প্রবর্তক প্রখ্যাত মেসমারের (Mesmer) প্রতি শ্রদ্ধার নির্দেশন হিসাবে মেসমেরিজ নামে অভিহিত। শতাব্দীকাল পর্যন্ত অজ্ঞানতা হেতু অস্বীকৃত ও অবজ্ঞাত এ আরোগ্যকরী শক্তি বিভিন্নভাবে ক্রিয়া প্রকাশ করে থাকে। ইহা মানবজাতির প্রতি প্রকৃতির এক বিস্ময়কর ও অমূল্য অবদান। স্পর্শের দ্বারা এমন কি তা ছাড়াও দূরবর্তী স্থান হতেও কোন হিতাকাংখী ব্যক্তি নিজের প্রবল ইচ্ছা শক্তির দ্বারা স্বীয় জীবনী শক্তিকে গতিশীলভাবে রোগীর মধ্যে সঞ্চারিত করতে পারেন। শক্তি সম্পন্ন চুম্বকের যে কোন একটি মেরু যেমন ভাবে একটি ইস্পাত শলাকার মধ্যে চুম্বকত্ব সঞ্চারিত করে। রোগীর শরীরতন্ত্রের যে যে অংশে জীবনীশক্তি অপর্যাপ্ত এবং যে যে স্থানে তা অত্যধিক পরিমাণে সঞ্চিত হয়ে স্নায়ুবিক বিশৃংখলা সৃষ্টি করে সে স্থানে অপসারন করে কমিয়ে দিয়েও সমভাবে সর্বত্র ছড়িয়ে দিয়ে রোগীর জীবনীশক্তি হতে পুরাতন ক্ষত অন্ধত্ব বিশেষ কোন অংগের পক্ষাঘাত প্রভৃতি রোগ বিদূরিত করে তার পরিবর্তে অধিকতর শক্তিশালী সম্মোহন সঞ্চারকের স্বীয় স্বাভাবিক সুস্থ্য অবস্থা প্রতিষ্ঠা করে থাকেন। প্রভূত প্রকৃতিজাত শক্তির অধিকারী সন্মোহন সঞ্চারকের স্বাভাবিক সুস্থ অবস্থা প্রতিষ্ঠা করে থাকেন প্রভৃতি প্রকৃতিজাত শক্তির অধিকারী সন্মোহন সঞ্চারক যুগে যুগে যে সকল দ্রুত আপাত আরোগ্য সাধন করেছেন তা এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত।
২। প্রশ্ন: জৈব চুম্বকত্ব পদ্ধতির চিকিৎসা পদ্ধতি আলোচনা কর।
জৈব চুম্বকত্ব পদ্ধতির চিকিৎসা পদ্ধতি:
স্পর্শের দ্বারা এমন কি তা ছাড়াও দূরবর্তী স্থান হতেও কোন হিতাকাংখী ব্যক্তি নিজের প্রবল ইচ্ছা শক্তির দ্বারা স্বীয় জীবনীশক্তিকে গতিশীলভাবে রোগীর মধ্যে সঞ্চারিত করতে পারেন। শক্তি সম্পন্ন চুম্বকের যে কোন একটি মেরু যেমন ভাবে একটি ইস্পাত শলাকার মধ্যে চুম্বকত্ব সঞ্চারিত করে। রোগীর শরীরতন্ত্রের যে যে অংশে জীবনীশক্তি অপর্যাপ্ত এবং যে যে স্থানে তা অত্যধিক পরিমাণে সঞ্চিত হয়ে স্নায়ুবিক বিশৃংখলা সৃষ্টি করে সে স্থানে অপসারন করে কমিয়ে দিয়েও সমভাবে সর্বত্র ছড়িয়ে দিয়ে রোগীর জীবনীশক্তি হতে পুরাতন ক্ষত অন্ধত্ব বিশেষ কোন অংগের পক্ষাঘাত প্রভৃতি রোগ বিদূরিত করে তার পরিবর্তে অধিকতর শক্তিশালী সম্মোহন সঞ্চারকের স্বীয় স্বাভাবিক সুস্থ্য অবস্থা প্রতিষ্ঠা করে থাকেন।

0 মন্তব্যসমূহ