মেসমেরিজম - অর্গানন অব মেডিসিন, তৃতীয় বর্ষ - সপ্তদশ অধ্যায়

 অর্গানন অব মেডিসিন (তৃতীয় বর্ষ)
সপ্তদশ অধ্যায়
মেসমেরিজম (২৮৮-২৮৯)



অনুচ্ছেদ নং- ২৮৮
জৈব চুম্বকত্ব নামে কথিত হলেও আসলে তা সম্মোহন ইহার প্রবর্তক প্রখ্যাত মেসমারের (Mesmer) প্রতি শ্রদ্ধার নির্দেশন হিসাবে 'মেসমেরিজ নামে অভিহিত হওয়া উচিত। এখানে সে সম্বন্ধে পরোক্ষভাবে আলোচনা করা আমি প্রয়োজন মনে করি। অন্যান্য আরোগ্য সাধক পদার্থ হতে ইহার প্রকৃতিগত পার্থক্য অনেক ভিন্ন। শতাব্দীকাল পর্যন্ত অজ্ঞানতা হেতু অস্বীকৃত ও অবজ্ঞাত এ আরোগ্যকারী শক্তি বিভিন্নভাবে ক্রিয়া প্রকাশ করে থাকে। ইহা মানবজাতির প্রতি প্রকৃতির এক বিস্ময়কর ও অমূল্য অবদান। স্পর্শের দ্বারা এমন কি তা ছাড়াও দূরবর্তী স্থান হতেও কোন হিতাকাংখী ব্যক্তি নিজের প্রবল ইচ্ছা শক্তির দ্বারা স্বীয় জীবনীশক্তিকে গতিশীলভাবে রোগীর মধ্যে সঞ্চারিত করতে পারেন। শক্তি সম্পন্ন চুম্বকের যে কোন একটি মেরু যেমন ভাবে একটি ইস্পাত শলাকার মধ্যে চুম্বকত্ব সঞ্চারিত করে। রোগীর শরীরতন্ত্রের যে যে অংশে জীবনীশক্তি অপর্যাপ্ত এবং যে যে স্থানে তা অত্যধিক পরিমাণে সঞ্চিত হয়ে স্নায়বিক বিশৃংখলা সৃষ্টি করে সে স্থানে অপসারণ করে কমিয়ে দিয়েও সমভাবে সর্বত্র ছড়িয়ে দিয়ে রোগীর জীবনীশক্তি হতে পুরাতন ক্ষত, অন্ধত্ব, বিশেষ কোন অংগের পক্ষাঘাত প্রভৃতি রোগ বিদুরিত করে তার পরিবর্তে অধিকতর শক্তিশালী সন্মোহন সঞ্চারকের স্বীয় স্বাভাবিক সুস্থ অবস্থা প্রতিষ্ঠা করে থাকেন। প্রভূত প্রকৃতিজাত শক্তির অধিকারী সম্মোহন সঞ্চারকের স্বাভাবিক সুস্থ অবস্থা প্রতিষ্ঠা করে থাকেন প্রভৃতি প্রকৃতি জাতশক্তির অধিকারী সম্মোহন সঞ্চারক যুগে যুগে যে সকল দ্রুত আপাত আরোগ্য সাধন করেছেন তা এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। পরিপূর্ণ প্রাণশক্তি সম্পন্ন কোন ব্যক্তির সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী হৃদ্যতাপূর্ণ ইচ্ছার দ্বারা দৃশ্যতঃ মৃতব্যক্তির পুনর্জীবন লাভ করার এমন বিস্তর দৃষ্টান্ত লিপিবদ্ধ আছে যেগুলো অস্বীকার করা অসম্ভব। স্ত্রী পুরুষ নির্বিশেষে সন্মোহনকারী সৎ প্রকৃতির উৎসাহ সম্পন্ন হলেই তিনি এই জনহিতকর আত্মোৎসর্গের প্রক্রিয়া সদিচ্ছাকে আরো পুরিপূর্ণভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হন। এমন কি তা বিকৃত হয়ে গোড়ামী ধর্মান্ধতা অতীন্দ্রিয়বাদ (Mysticism) অথবা লোক হিতৈষনার স্বপ্নে পরিণত হলেও তিনি এই কাজে অগ্রসর হবেন। কোন কোন সময়ে এইগুলোকে কেন্দ্রীয়ভূত করে তিনি আপাত অলৌকিক ঘটনাসমূহ প্রদর্শন করতে পারেন।


অনুচ্ছেদ নং ২৮৯
কমবেশী জীবনীশক্তি রোগীর ভিতরে অন্তপ্রবাহ করার উপরই উপরোক্ত সর্বপ্রকার সন্মোহন প্রক্রিয়ার সার্থকতা নির্ভরশীল। সেজন্যই এদের ধনাত্মক সম্মোহন (Positive mesmerism) বলা হয়। পক্ষান্তরে, বিপরীত পদ্ধতিতে সন্মোহন প্রয়োগ করা হলে ঠিক ইহার বিপরীত ফল উৎপাদন করে 'কাজেই তাকে ধনাত্মক সম্মোহন (Negative Mesmerism) বলাই সংগত। স্বপ্ন সঞ্চারণ হতে জাগ্রত করার জন্য হস্ত চালনা এবং প্রশমন ও সঞ্চালন নামক হাতের প্রতিক্রিয়াসমূহ ইহার অন্তর্গত। সবল ব্যক্তির কোন বিশেষ স্থানে অধিক পরিমাণে সঞ্চিত জীবনীশক্তিকে ঋনাত্মক সন্মোহনের দ্বারা নিঃসরন করা যায়। প্রসারিত হাতের তালুকে রোগীর শরীর হতে এক ইঞ্চি দূর সমান্তরালভাবে রেখে মাথার উপরিভাগ হতে পায়ের আংগুলের অগ্রভাগ পর্যন্ত দ্রুত সঞ্চালন করলে উহা সহজে ও সুনিশ্চিতভাবে সম্পন্ন হয় যত দ্রুত বেগে হস্ত সঞ্চালন করা হয় তত ফলপ্রদভাবে এই নিঃসরন ক্রিয়া সম্পাদিত হয়। যথা কোন সুস্থ মহিলা প্রচন্ড মানসিক আঘাত পাবার ফলে আকস্মাৎ রক্তস্রাব বন্ধ হয়ে দৃশ্যত মৃতবৎ পড়ে থাকতে পারে। তাঁর জীবনীশক্তি সম্ভবতঃ হৃদপিন্ডের সানিধে সঞ্চিত হতে পারে। সে অবস্থায় দ্রুত ধনাত্মক সন্মোহন প্রয়োগের দ্বারা সেই সঞ্চিত জীবনীশক্তি অপসারিত হয়ে সমগ্র দেহতন্ত্রে সমতা প্রতিষ্ঠিত করতে পারে ফলে তিনি সহসা পূর্ণরুজীবিত হয়ে উঠতে পারেন। এভাবে অত্যধিক উত্তেজনা প্রবণ কোন লোককে অত্যধিক শক্তিশালী ধনাত্মক হস্ত সঞ্চারণের দ্বারা সৃষ্ট উৎকণ্ঠা অস্থিরতা ও অনিদ্রা মৃদু নাড়ি দ্রুত ধনাত্মক সঞ্চালনের দ্বারা সৃষ্ট উৎকণ্ঠা সহ অস্থিরতা ও অনিদ্রা মৃদু নাড়ি দ্রুত ধনাত্মক সঞ্চালনে প্রশমিত হয়ে থাকে।
 


১। প্রশ্নঃ মেসমেরিজম শব্দের অর্থ কি? মেসমেরিজম কত প্রাকর ও কি কি?
বা, সম্মোহন বলতে কি বুঝ? ১৫ মেসমেরিজম শব্দের অর্থঃ

বিজ্ঞানী মেসমার এ প্রথা আবিষ্কার করেছিলেন বলে তাঁর নামানুসারে এর নামকরণ করা হয় মেসমেরিজম। মেসমেরিজম শব্দের অর্থ হল সম্মোহনী প্রথা। ডাঃ হ্যানিম্যান অর্গানন অব মেডিসিনের ২৮৮ ও ২৮৯ নং অনুচ্ছেদে মেসমেরিজম সম্বেন্ধে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। কোন সুস্থ জীবনীশক্তিবাহী মঙ্গল আকাংখী ব্যক্তি তাঁর প্রবল ইচ্ছাশক্তি বল দ্বারা স্পর্শ করে বা স্পর্শ না করে রোগীর দেহ অভ্যন্তরে তাঁর নিজের সুস্থ জীবনীশক্তিকে সঞ্চারিত করে রোগীকে আরোগ্য করাকে, মেসমেরিজম, বলে।
মেসমেরিজম দুই প্রকার। যথা ১। পজিটিভ মেসমেরিজম ও ২। নেগেটিভ মেসমেরিজম।


২। প্রশ্নঃ মেসমেরিজম দ্বারা কি ভাবে চিকিৎসা করা হয়?
মেসমেরিজম দ্বারা চিকিৎসা প্রণালী:

কোন সুস্থ জীবনীশক্তিবাহী মঙ্গল আকাংখী ব্যক্তি তাঁর প্রবল ইচ্ছাশক্তি বল দ্বারা স্পর্শ করে বা স্পর্শ না করে রোগীর দেহ অভ্যন্তরে তাঁর নিজের সুস্থ জীবনীশক্তিকে সঞ্চারিত করে রোগীকে আরোগ্য করে।
আবার রোগ গ্রন্থ জীবনীশক্তি সেখানে প্রয়োজনের তুলনায় বেশী জমা হয় সে স্থান থেকে তা হ্রাস করে সমতা আনয়ন করে। এ পদ্ধতিতে পুরাতন ক্ষত এবং শরীরের অংশ বিশেষের পক্ষাঘাত প্রভৃতি আরোগ্য করা সম্ভব।
 

৩। প্রশ্ন: মর্দন পদ্ধতিতে ঔষধ প্রয়োগে আক্রান্ত অঙ্গ বাদ দিতে হয় কেন? ০৯, ১১, ১৪, ১৬
বা মর্দন করে ঔষধ প্রয়োগের সময় আক্রান্ত অঙ্গ বাদ দিতে হয় কেন? মর্দন পদ্ধতিতে ঔষধ প্রয়োগে আক্রান্ত অঙ্গ বাদ দিতে হয় কারণ:

অঙ্গ দলনে জীবনীশক্তি সতেজ হয়ে পেশীসমূহ সবল করে তোলে। তবে মর্দন করে ঔষধ প্রয়োগের সময় আক্রান্ত অঙ্গ বাদ দিতে হয়। কেননা অঙ্গটির বাহ্যিক অসুস্থকর লক্ষণাবলী আভ্যন্তরিক জীবনীশক্তির অসুস্থতার বহিঃপ্রকাশ মাত্র। যদি বাহ্যিক অসুস্থকর লক্ষণ প্রকাশিত আক্রান্ত অঙ্গ মর্দন করে ঔষধ প্রয়োগ করা হয় তবে বাহ্যিক লক্ষণগুলি দ্রুত অর্ন্তমূখী হয়ে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। ফলে চিকিৎসার জন্য লক্ষণাবলী অপসারিত হওয়ায় চিকিৎসায় জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। সুতরাং মর্দন পদ্ধতিতে ঔষধ প্রয়োগে আক্রান্ত অঙ্গ বাদ দিতে হয় ডাঃ হ্যানিম্যানের আর্দশ আরোগ্যের প্রয়োজনে।


৪। প্রশ্ন: ধনাত্মক সম্মোহন বলতে কি বুঝায়? ১২
ধনাত্মক সম্মোহন:

ডাঃ স্যামুয়েল হ্যানিম্যান "অর্গানন অব মেডিসিন” গ্রন্থের ২৮৮-২৮৯ নং অনুচ্ছেদে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় সম্মোহন সম্বন্ধে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।
যে সম্মোহনী প্রথার দ্বারা রোগীর দেহের কোন স্থানে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সঞ্চিত রোগগ্রস্থ জীবনীশক্তিকে সেই স্থান হতে হ্রাস করে সর্বশরীরে বিস্তৃত করার মাধ্যমে সমতা আনায়ন করা হয়, তাকে ধনাত্মক সম্মোহন (পজেটিভ মেসমেরিজম) বলে কমবেশী জীবনীশক্তি রোগীর ভিতরে অন্তপ্রবাহ করার উপরই উপরোক্ত সর্ব প্রকার সন্মোহন প্রক্রিয়ার সার্থকতা নির্ভরশীল। সেজন্যই এদের ধনাত্মক সম্মোহন (Positive mesmerism) বলা হয়।
 

৫। প্রশ্নঃ অঙ্গ দলন ও মেসমেরিজম এর মধ্যে পার্থক্য দেখাও।০৯,১৪ 
বা, অঙ্গ দলন এবং মেসমেরিজমের মধ্যে কি কি পার্থক্য রয়েছে? ১১ 
অঙ্গ দলন ও মেসমেরিজম এর মধ্যে পার্থক্য:
অঙ্গ দলন
১. কোন চিররোগী আরোগ্য লাভকরার পরেও কোন কোন ব্যক্তি চিররোগে আক্রান্ত হয়ে অকর্মন্য হয়ে পড়ে এবং শারীরিক পুষ্টির অভাবে শীর্ণতা, পরিপাক ক্রিয়ার গোলযোগ নিদ্রাহীনতা প্রভৃতি উপসর্গে ভুগতে থাকে। ইহার ফলে তাদের পুনরায় স্বাস্থ্য লাভে বিলম্ব ঘটলে সৎ প্রকৃতির কোন ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ব্যক্তি দ্বারা শরীর মর্দন করলে অনেক সময় এই সব রোগ উপসর্গ দূর হয় এবং স্বাস্থ্য পুনরায় লাভ করে। হাত-পা, বুক, পিঠের, মাংস, পেশীগুলোকে পৃথকভাবে ধরে এবং গরিমিত চাপ দিয়ে মর্দন করতে থাকলে জীবনীশক্তি জাগ্রত হয়ে ওঠে। মাংসপেশী, রক্ত -রসবাহী শিরাসমূহে তা সঞ্চালিত হয় এবং তাদের স্বাভাবিক শক্তি ফিরিয়ে আনে।
২. ইহার কোন প্রকারভেদ নাই।

মেসমেরিজম
১. কোন সুস্থ জীবনীশক্তিবহী মঙ্গল আকাংখী ব্যক্তি তাঁর প্রবল ইচ্ছাশক্তি বল দ্বারা স্পর্শ করে বা স্পর্শ না করে রোগীর দেহের অভ্যন্তরে তাঁর নিজের সুস্থ জীবনীশক্তিকে সঞ্চারিত করে রোগীকে আরোগ্য করাকে মেসমেরিজম বলে।
২. ইহা দুই প্রকার। যথা-পজেটিভ ও নেগেটিভমেসমেরিজম।


৬। প্রশ্নঃ মেসমেরিজম সম্পর্কে ডাঃ হ্যানিম্যানের মতামত বর্ণনা কর। মেসমেরিজম সম্পর্কে ডাঃ হ্যানিম্যানের মতামত বর্ণনা:
সবল ব্যক্তির কোন বিশেষ স্থানে অধিক পরিমাণে সঞ্চিত জীবনীশক্তিকে ঋনাত্মক সম্মোহনের দ্বারা নিঃসরন করা যায়। প্রসারিত হাতের তালুকে রোগীর শরীর হতে এক ইঞ্চি দূর সমান্তরালভাবে রেখে মাথার উপরিভাগ হতে পায়ের আংগুলের অগ্রভাগ পর্যন্ত দ্রুত সঞ্চালন করলে উহা সহজে ও সুনিশ্চিতভাবে সম্পন্ন হয় যত দ্রুত বেগে হস্ত সঞ্চালন করা হয় তত ফলপ্রদভাবে এই নিঃসরন ক্রিয়া সম্পাদিত হয়। যথা কোন সুস্থ মহিলা প্রচন্ড মানসিক আঘাত পাবার ফলে আকস্মাৎ রক্তস্রাব বন্ধ হয়ে দৃশ্যত মৃতবৎ পড়ে থাকতে পারে। তাঁর জীবনী শক্তি সম্ভবতঃ হৃদপিন্ডের সানির্ধে সঞ্চিত হতে পারে। সে অবস্থায় দ্রুত ধনাত্মক সন্মোহন প্রয়োগের দ্বারা সেই সঞ্চিত জীবনীশক্তি অপসারিত হয়ে সমগ্র দেহতন্ত্রে সমতা প্রতিষ্ঠিত করতে পারে ফলে তিনি সহসা পূর্ণরুজীবিত হয়ে উঠতে পারেন। এভাবে অত্যধিক উত্তেজনা প্রবণ কোন লোককে অত্যধিক শক্তিশালী ধনাত্মক হস্ত সঞ্চারণের দ্বারা সৃষ্ট উৎকণ্ঠা অস্থিরতা ও অনিদ্রা মৃদু নাড়ি দ্রুত ধনাত্মক সঞ্চালনের দ্বারা সৃষ্ট উৎকণ্ঠাসহ অস্থিরতা ও অনিদ্রা মৃদু নাড়ি দ্রুত ধনাত্মক সঞ্চালনে প্রশমিত হয়ে থাকে।


৭। প্রশ্ন: ঔষধ ছাড়া অর্গানন অব মেডিসিনে বর্ণিত অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতি কি কি?
ঔষধ ছাড়া অর্গানন অব মেডিসিনে বর্ণিত অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতি:

ডাঃ স্যামুয়েল হ্যানিম্যান "অর্গানন অব মেডিসিন” গ্রন্থের ২৮৬-২৯১ নং অনুচ্ছেদে ঔষধ ছাড়া অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতি যা রোগ চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রচলিত আছে তা সম্বন্ধে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।
১। খনিজ চুম্বক, বিদ্যুৎ এবং রাসায়নিক তড়িৎ এর ব্যবহার পদ্ধতি।
২। মেসমেরিজম বা সম্মোহন পদ্ধতি।
৩। অঙ্গমর্দন বা মেসেজ পদ্ধতি এবং
৪। বিশুদ্ধ খনিজ পানিতে গোসল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ