অর্গানন অব মেডিসিন (তৃতীয় বর্ষ)
ত্রয়োদশ অধ্যায়
ঔষধ প্রাপ্তি উৎস ও প্রস্তুত প্রণালী (Preparation of Medicines)
অনুচ্ছেদ ২৬৪-২৭১
অনুচ্ছেদ নং- ২৬৪
প্রকৃত চিকিৎসা বিজ্ঞানীর হাতে অক্ষুন্ন শক্তিসম্পন্ন বিশুদ্ধ ঔষধ থাকা নিতান্ত প্রয়োজন। তা হলেই তিনি সেসব ঔষধের আরোগ্যকারী শক্তির * উপর আস্থাবান হতে পারবেন। ঔষধের বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করার শক্তি ও তাঁকে নিশ্চিতভাবে অর্জন করতে হবে।
অনুচ্ছেদ নং- ২৬৫
প্রত্যেকটি রোগী সব সময় খাঁটি ঔষধ সেবন করে-এ সম্বন্ধে চিকিৎসককে সর্বতোভাবে সন্দেহমুক্ত হতে পারলেই তিনি বিবেকের দংশন হতে অব্যাহতি লাভ করতে পারেন। এই জন্যই সুনির্বাচিত ঔষধ চিকিৎসক নিজে প্রস্তুত করে রোগীকে প্রয়োগ করা কর্তব্য।
অনুচ্ছেদ নং- ২৬৬
প্রাণীজাত বা বৃক্ষজাত বস্তুসমূহ সদ্য অবস্থাতেই১৪২ যথার্থভাবে ঔষধগুণ সম্পন্ন থাকে।
অনুচ্ছেদ নং- ২৬৭
দেশীয় এবং অন্যান্য গাছ গাছড়া যেগুলো সতেজ অবস্থায় পাওয়া যায় তাদের টাটকা রস নিঃসৃত করে সেই রসের সংগে বিলম্বে প্রদীপে জ্বালাবার উপযুক্ত সুরাসার সমপরিমাণে মিশ্রিত করলে আমরা তাদের ভেষজ শক্তি সম্পূর্ণরূপে ও সুনিশ্চিতভাবে আয়ত্ব করতে পারি। তা এক দিন একরাত্র ছিপিবদ্ধ বোতলে স্থিরভাবে বসিয়ে রাখলে এবং তার তন্ত্রময় ও ডিমের শ্বেত অংশের মতো পদার্থযুক্ত তলানী পড়লে তখন উপরের পরিষ্কার তরল পদার্থ ঔষধ হিসাবে ব্যবহার করার জন্য ৪৩ অতি সাবধানে ঢেলে নিতে হবে। সুরাসার মিশ্রিত থাকায় উদ্ভিজ্জ রসের সর্বপ্রকার ফার্মেন্টেশন (পচন) সঙ্গে সঙ্গেই নিবারিত হয় এবং ভবিষ্যতেও আর পঁচার সম্ভাবনা থাকে না। উত্তমরূপে ছিপিবদ্ধ করলে, মোম লাগিয়ে বাতাস নির্গমন বন্ধ করে আরো সুরক্ষিত অবস্থায় রাখলে এবং সূর্য কিরণ ১৪৪ হতে দূরে রাখলে, সে উদ্ভিজ্জরসের পরিপূর্ণ ভেষজ শক্তি সম্পূর্ণ এবং অবিকৃতভাবে চিরকাল সংরক্ষিত থাকে।
অনুচ্ছেদ নং- ২৬৮
সতেজ অবস্থায় সংগ্রহ করা যায় না এরূপ অন্যান্য বিদেশী গাছ গাছড়া, ছাল, বীজ, মূলসমূহ বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে কখনো চূর্ণিত আকারে বিবেকী ও অভিজ্ঞ চিকিৎসক গ্রহন করবেন না। ঔষধ হিসাবে ব্যবহার করার পূর্বে তাদের স্থুল, সম্পূর্ণ অবস্থা দেখে এদের বিশুদ্ধতা সম্বন্ধে চিকিৎসকের সন্দেহমুক্ত হতে হবে।
অনুচ্ছেদ নং- ২৬৯
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতি ইতিপূর্বে সম্পূর্ণ অপরীক্ষিত এক বিশেষ প্রক্রিয়ায় স্কুল পদার্থসমূহের অন্তর্নিহিত ভেষজ শক্তিকে, ইহার বিশেষ ব্যবহারের জন্য, এক অশ্রুতপূর্ব পর্যায়ে বিকশিত করে। ফলে ইহাদের সবগুলোই, এমন কি, যে সকল পদার্থ স্কুল অবস্থায় মানবদেহে সামান্যতম ভেষজ শক্তির ক্রিয়া প্রকাশ করতেও সক্ষম হয় না সেগুলোও এই প্রক্রিয়ার দ্বারা অপরিমিত ও গভীরভাবে কার্যকর১৪৬ এবং আরোগ্য সাধনের উপযোগী হয়ে উঠে।
অনুচ্ছেদ নং- ২৭০
শক্তির এই ক্রম-বিকাশকে সর্বাপেক্ষা উত্তমরূপে লাভ করার জন্য যে জড় বস্তুকে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে তার একটি ক্ষুদ্র অংশ, যেমন এক গ্রেণ, তিন ঘন্টা ধরে তিন বারে ৩০০ গ্রেণ (প্রতিবারে ১০০ গ্রেণ করে), দুগ্ধ শর্করার সহিত নিম্নলিখিত পদ্ধতি বা নীতি অনুসারে ১/১০০০০০০ অংশে চূর্ণীকৃত না হওয়া পর্যন্ত ঘর্ষণ করতে হবে। নিম্নে প্রদত্ত ১৫০ কারণসমূহের জন্য এই বিচূর্ণের এক গ্রেণ এক ভাগ সুরাসার ও চারভার্থ পরিশ্রুত পানির মিশ্রনের ৫০০ ফোঁটার সহিত মিশাতে হবে। (ইহাই হগে 28 নূতন শক্তির মাতৃশক্তি (1) তার এক ফোঁটা একটি শিশিতে রাখতে হবে। ইহাতে ১০০ ফোঁটা বিশুদ্ধ সুরাসার ১৫১ (Pure alcohol) দিতে হবে। তা একটি শক্ত অথচ সম্প্রসারণশীল আধারের উপর১৫২ হাতের দ্বারা ১০০ বার সজোরে ঝাঁকি দিতে হবে। ইহাই শক্তিতে রূপান্তরিত ঔষধের ১ম ক্রম। ইহার দ্বারা তৈরী ক্ষুদ্র অনুবটিকা ভিজিয়ে নিয়ে সংগে সংগে ব্লটিং কাগজে ৪ ঢেলে শুকিয়ে নিতে হবে এবং সেগুলো একটি উত্তমরূপে ছিপিবদ্ধ শিশিতে রেখে ১ম ক্রম (১) বলে চিহ্নিত করতে হবে। তা হতে একটি মাত্র অনুবটিকা পরবর্তী শক্তি প্রস্তুত করার জন্য অন্য একটি দ্বিতীয় নতুন শিশিতে (দ্রবীভূত করার জন্য এক ফোঁটা পানির সঙ্গে) নিতে হবে, তাতে ১০০ ফোঁটা বিশুদ্ধ সুরাসার মিশিয়ে পূর্ববর্ণিত উপায়ে ১০০ বার সজোরে ঝাঁকি দিয়ে শক্তি সঞ্চারিত করতে হবে।
অনুচ্ছেদ নং- ২৭১
মানবজাতিতে রোগের কবল হতে রক্ষা করার১৫৭ জন্য ন্যায়সংগতভাবে চিকিৎসক নিজেরই হোমিওপ্যাথিক ঔষধসমূহ প্রস্তুত করা কর্তব্য। তাহলে তিনি টাটকা গাছ গাছড়াই ব্যবহার করতে পারবেন। আরোগ্যের জন্য সম্ভবত নিঃসৃত রসের প্রয়োজন হয় না, কাজেই নিতান্ত স্বল্প পরিমাণ স্কুল পদার্থই ঔষধ প্রস্তুতের জন্য দরকার। এই স্কুল পদার্থের সামান্য কয়েক গ্রেণ খলে নিবেন। তার সঙ্গে তিনবারে প্রতিবারে ১০০ গ্রেণ করে দুগ্ধ শর্করা মিশাবেন। নির্দিষ্ট সময় ধরে ঘর্ষণ করবেন। তা হলে ভেষজ পদার্থ ১/১০০০০০০ বিচূর্ণে পরিণত হবে। অতপরঃ ইহার ক্ষুদ্র অংশকে আলোড়ন প্রথায় শক্তি সঞ্চারণ করবেন। অবশিষ্ট শুষ্ক বা তৈলাক্ত প্রকৃতির স্থুল ঔষধ সম্বন্ধেও এই একই নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।)
১। প্রশ্ন: হোমিওপ্যাথিক ভেষজের উৎসগুলি কি কি? প্রত্যেক উৎস হতে দুইটি করিয়া ঔষধের নাম লিখ। ১২
হোমিওপ্যাথিক ঔষধের উৎসগুলি নিম্নরূপ:
হোমিওপ্যাথিক ফার্মাকোপিয়া প্রধানতঃ ৬টি মূল উৎস হতে পাওয়া যায়। যথাঃ
(i) উদ্ভিজ্জ (plant kingdom),
(ii) প্রাণীজ (Animal),
(iii) খনিজ (Minerals) (Chemicals)
(iv) রোগজ (Nosodes)
(v) গ্রন্থিজ (Sarcodes)
(vi) শক্তিজ (Imponderabilia)।
এছাড়াও ভেষজের আরও কয়েকটি উৎস পাওয়া গিছে। যথা-
(vii) বাওয়েল নোসোড (Bowels Nosodes),
(viii) স্টক ভ্যাকসিন (Stock Vaccine),
(ix) এন্টিবায়োটিকস (Antibiotics)
প্রত্যেক উৎস হতে দুইটি করিয়া ঔষধের নাম:
(i) উদ্ভিদ উৎস: একোনাইট নেপেলাস, আর্নিকা মন্টেনা।
(ii) প্রাণীজ উৎস: এপিস মেলেফিকা, ক্যান্থ।রিস।
(iii) খনিজ উৎস: আর্সেনিক এলবাম, ম্যাগনেসিয়াম কার্ব ইত্যাদি।
(iv) রোগজ উৎস: মেডোরিনাম, ভ্যারিওলিনাম ইত্যাদি।
(v) গ্রন্থিজ উৎসঃ থাইরয়েডিনাম, ইনসুলিন।
(vi) শক্তিজ উৎস: এক্সরে, রেডিয়াম।
(vii) বাওয়েল নোসোড (Bowels, Nosodes) : মর্গান পিওর, গার্টার।
(viii) স্টক ভ্যাকসিন (Stock Vaccine): ইনফ্লুয়েঞ্জিনাম, মর্বিলিনাম।
(ix) এন্টিবায়োটিকস (Antibiotics): পেনিসিলিন, ক্লোরামফেনিকল।
২। প্রশ্ন: ভেষজ উদ্ভিদ সংগ্রহ করার সময় কি কি সাধারণ নিয়ম অনুসরণ করা হয়? ১১, ১২
ভেষজ উদ্ভিদ সংগ্রহ করার সময় নিম্নোক্ত সাধারণ নিয়ম অনুসরণ করা উচিতঃ
(i) ভেষজ উদ্ভিদটির ক্ষেত্রে বিজ্ঞানী দ্বারা ভেষজটি সনাক্ত করে নিতে হবে।
(ii) উদ্ভিদের সমস্ত অংশই টাটকা ও সতেজ থাকা অবস্থায় সংগ্রহ করতে হবে।
(iii) কোন রকম রোগ বা কীট পতঙ্গ দ্বারা উদ্ভিদ আক্রান্ত হয়েছে কিনা তা লক্ষ্য রাখতে হবে।
(iv) উর্বর ভূমিতে উৎপন্ন ভেষজ সংগ্রহ করা সর্বোত্তম।
(v) সাধারণত শুষ্ক আবহাওয়ায় ভেষজ উদ্ভিদ সংগ্রহ করতে হয়।
প্রখর রৌদ্রতাপে, সকালের শিশির ভেজা অবস্থায়, বৃষ্টির পরে সংগ্রহ
করা উচিত নয়।
(vi) সাধারণত মুকুলিত হওয়ার সময় বা পূর্ব মূহুর্তে সংগ্রহ করা উচিত। কারণ তখন ঔষধিগুণ সবচেয়ে বেশী থাকে।
(vii) ধুলাবালি পড়াবস্থায় কোন ক্রমেই সংগ্রহ করা যাবে না।
(viii) উদ্ভিদ সংগ্রহের সময় দেখতে হবে উদ্ভিদের স্বাভাবিক বর্ণের কোন পরিবর্তন ঘটেছে কি না।
(ix) উদ্ভিদ সংগ্রহের পর বহন করার সময় সুন্দরভাবে ব্যবস্থা করতে হবে।
(x) উদ্ভিদ সংগ্রহের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ব্যবহার করা উচিত।
(xi) উদ্ভিদ কখনো প্রচুর পানি দিয়ে পরিষ্কার করা উচিত নয়।
(xii) ভেষজ সংগ্রহের সময় যেমন সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়, তেমনি সংগ্রহের সাথে সাথে কোন পরিষ্কার পাত্র বা স্থানে রেখে ভেষজের নাম, সংগ্রহের স্থান ও তারিখ ইত্যাদি লেবেল লাগিয়ে দিতে হবে।
৩। প্রশ্নঃ হোমিওপ্যাথিক ঔষধ শক্তিকরণ পদ্ধতি কত প্রকার ও কি কি? আলোচনা কর।
হোমিওপ্যাথিক ঔষধ শক্তিকরণ পদ্ধতিঃ
হোমিওপ্যাথিক ঔষধ শক্তিকরণ পদ্ধতি তিনটি। যথা- ১। দশমিক পদ্ধতি ২। শততমিক পদ্ধতি ও ৩। সহস্রতমিক পদ্ধতি।
১। দশমিক পদ্ধতি (Decimal Scale): ডাঃ হ্যানিম্যানের অনুসারী
ডাঃ হেরিং দশমিক পদ্ধতি প্রবর্তন করেন। এ পদ্ধতিতে প্রথম শক্তির ঔষধের দশভাগের এক ভাগ মূল ঔষধ থাকে। পরবর্তীতে প্রত্যেক শক্তির ঔষধের পূর্ববর্তী শক্তির দশ ভাগের এক ভাগ ঔষধ থাকে।
যেমন- ঔষধের ১x শক্তি প্রস্তুত করতে হলে ১ ভাগ মাদার টিংচার এবং ৯ ভাগ ক্ষীণ এলকোহল মিশ্রিত করে ১০ বার ঝাঁকি দিতে হবে।
বেলেডোনা ১০ বলতে এর প্রথম ক্রম বুঝায়।
২। শততমিক পদ্ধতি (Centesimal Scale): ডাঃ হ্যানিম্যান কতৃর্ক
শততমিক পদ্ধতি বা রীতি প্রবর্তিত হয়। এতে প্রথম শক্তির ঔষধের একশত ভাগের এক ভাগ মূল ঔষধ থাকে। পরবর্তীতে প্রত্যেক শক্তির ঔষধের পূর্ববর্তী শক্তির একশত ভাগের এক ভাগ ঔষধ থাকে।
ঔষধের ১ম শক্তি প্রস্তুত করতে হলে মাদার টিংচার ১ ভাগ
এবং ক্ষীণ এলকোহল ৯৯ ভাগ মিশ্রিত করে ১০০ বার ঝাঁকি দিতে হয়। ১ম শক্তির পরবর্তী যে কোন শক্তি প্রস্তুত করতে হলে তার পূর্ববর্তী শক্তির ১ ভাগ ঔষধের সাথে ৯৯ ভাগ পরিশ্রুত এলকোহল মিশ্রিত করে ১০০ বার ঝাঁকি দিতে হয়। চায়না ৩০, এপিস মেল ৩০ ইত্যাদি।
৩। সহস্রতমিক পদ্ধতি (50 millessimal): ডাঃ হ্যানিম্যান অর্গানন অব মেডিসিনের ষষ্ঠ সংস্করণে এ পদ্ধতি সম্বন্ধে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।
১। প্রশ্ন: ব্যবস্থাপত্র কাকে বলে? ব্যবস্থাপত্রের কয়টি অংশ ও কি কি? ০৯, ১১, ১৬
ব্যবস্থাপত্র (Prescription):
চিকিৎসক রোগীর নিজের বর্ণনা, আপনজনের বর্ণনা, সেবাকারীর বর্ণনা হতে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণ সমষ্টি ও এ লক্ষণগুলো কারণের গুরুত্ব অনুসারে এবং চিকিৎসক স্বয়ং রোগীর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা করে রোগের বিষয় অবগত হয়ে রোগীর আরোগ্য উপযোগী মনে করে রোগীলিপি অনুযায়ী যে সদৃশতম ঔষধ নির্বাচন করে সেবন করার জন্য লিখিত নির্দেশ প্রদান করেন, তাকেই ব্যবস্থাপত্র বলে।
ব্যবস্থাপত্রের অংশঃ
ব্যবস্থাপত্রের অংশ ৪টি। যথা-
(i) সুপারস্ক্রিপশন (Superscription)
(ii) ইন্সক্রিপশন (Inscription)
(iii) সাবস্ক্রিপশন (Subscription)
(iv) সিগনেচার (Signature)
সুপারস্ক্রিপশন (Superscription):
ইহাতে রোগীর নাম, বয়স, ঠিকানা প্রভৃতি উল্লেখ থাকে। এ অংশের পর ব্যবস্থাপত্র লেখার সময়ে প্রথমে Rx লেখা হয়।
ইন্সক্রিপশন (Inscription):
ব্যবস্থাপত্রের এ অংশে ঔষধের নাম, শক্তি ও পরিমাণ এবং ভেষজের নাম ও পরিমাণ উল্লেখ করা থাকে।
সাবস্ক্রিপশন (Subscription):
এ অংশে কম্পাউন্ডারকে নির্দেশ প্রদান করা হয় যাতে কম্পাউন্ডার মোতাবেক ঔষধ তৈরী করবে।
সিগনেচার (Signature):
এ অংশে রোগীর প্রতি নির্দেশ থাকে কখন ঔষধ সেবন করতে হবে। কি পরিমাণে সেবন করতে হবে এবং পরবর্তী সময়ে কতদিন পর রোগীকে দেখা করতে হবে প্রভৃতির নির্দেশ থাকে। পরে চিকিৎসকের স্বাক্ষরসহ রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ও তারিখ লেখা হয়।
২। প্রশ্ন: ব্যবস্থাপত্রের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা কর। ১১ ব্যবস্থাপত্রের প্রয়োজনীয়তা আলোচনা:
(i) হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে রোগীর লক্ষণসমষ্টি ও অসুস্থতার কারণের প্রাধান্য অনুসারে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বা অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণসমষ্টির সাথে যে ঔষধের লক্ষণের বেশি সাদৃশ আছে তা প্রয়োগ করতে হবে।
-
(ⅱ) লক্ষণসমষ্টি যদি ব্যবস্থাপত্রের সময় ব্যবহারিত ঔষধের লক্ষণের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়, তবে ঐ ঔষধকেই উচ্চতর শক্তি ও পরিবর্তিত সূক্ষ্ম মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে।
(iii) এভাবে অবস্থা বিশেষে ঔষধের শক্তি ও মাত্রার পরিবর্তন করে এবং লক্ষণ সাদৃশ্যে এক সময় একটা করে ঔষধ প্রয়োগ করে রোগীকে সামগ্রীকভাবে আরোগ্য করতে হবে।
(iv) ব্যবস্থাপত্রের আদর্শ আরোগ্য জন্য রোগীকে প্রদত্ত নাম, শক্তি ও মাত্রা এবং কোন ভেজষবহের সাথে ঔষধ সংমিশ্রন করে ঔষধ তৈরী করা হবে তার নির্দেশনা থাকে।
কম্পাউন্ডারের প্রতি নির্দেশনা থাকে, কিভাবে রোগীর সেবন উপযোগী ঔষধ তৈরী করা যায়।
(v) রোগীর প্রতি নির্দেশনা থাকে কিভাবে ও কখন ঔষধ সেবন করবেন এবং কত দিন পরে ডাক্তারের সাথে দেখা করবেন।
(vi) সর্বশেষে চিকিৎসকের স্বাক্ষরসহ রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ও তারিখ লেখা হয়।
উপরিউক্ত আলোচনা হতে ইহাই প্রতীয়মান হয় যে, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে রোগীর চিকিৎসায় ব্যবস্থাপত্রের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
৩। প্রশ্ন: একটি ব্যবস্থাপত্রের নমুনা লিখ।
বা, ক্যান্থারিসের রোগীর একটি ব্যবস্থাপত্র তৈরি কর। ১৩
একটি ব্যবস্থাপত্রের নমুনা নিম্নরূপ/ ক্যান্থারিসের রোগীর একটি
ব্যবস্থাপত্র:
সুপারস্ক্রিপশন
রোগীর নাম..
বয়স.... পুরুষ/মহিলা.......
ঠিকানা.
ধর্ম.......বৈবাহিক অবস্থা
ইনস্ক্রিপশন
Rx
ক্যান্থারিস ২০০ শক্তি ১ ফোঁটা ১ আউন্স ডিস্টিল ওয়াটার মধ্যে নাও।
সাবস্ক্রিপশন
১ ফোঁটা ২০০ শক্তির ক্যান্থারিস ১ আউন্স ডিষ্টিল ওয়াটার এর সাথে মিশ্রিত করে ৬ দাগ করে দাও।
সিগনেচার
প্রতিদিন সকালে খাওয়ার আগে সেবন করবেন। ৭দিন পর পুনঃরায় দেখা করতে হবে।
স্বাক্ষর:
রেজি নং-
তারিখ:
৪। প্রশ্ন: দ্বিতীয় ব্যবস্থাপত্র সম্পর্কে আলোচনা কর। ১০, ১১, ১৩ অথবা কখন দ্বিতীয় ব্যবস্থাপত্র করতে হয়?
দ্বিতীয় ব্যবস্থাপত্র সম্পর্কে বর্ণনা:
প্রথম ব্যবস্থাপত্র করার পর রোগীর লক্ষণগুলোর ভিতরে যে সব পরিবর্তন পাওয়া যায়, উহার অবস্থা অনুসারে অবশিষ্ট লক্ষণসমষ্টি সাদৃশ্যে একটি ঔষধ নির্বাচন করতে হবে। কিন্তু এ লক্ষণগুলোর সাথে যদি একাধিক ঔষধের আংশিক সাদৃশ্য থাকে, তবে রোগীর লক্ষণসমষ্টি ও অসুস্থ্যতার কারণের প্রাধান্য অনুসারে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বা অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণসমষ্টির সাথে যে ঔষধের লক্ষণের বেশি সাদৃশ আছে তা প্রয়োগ করতে হবে অথবা ঐ লক্ষণসমষ্টি যদি প্রথম ব্যবস্থাপত্রের সময় ব্যবহারিত ঔষধের লক্ষণের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়, তবে ঐ ঔষধকেই উচ্চতর শক্তি ও পরিবর্তিত সূক্ষ্ম মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে। এভাবে অবস্থা বিশেষে ঔষধের শক্তি ও মাত্রার পরিবর্তন করে এবং লক্ষণ সাদৃশ্যে এক সময় একটা করে ঔষধ প্রয়োগ করে রোগীকে সামগ্রীকভাবে আরোগ্য করতে হবে। রোগীকে প্রথম ব্যবস্থাপত্র করার পর এভাবে দ্বিতীয় বা পরবর্তী সময়ে ঔষধের শক্তি ও মাত্রার পরিবর্তন করে প্রয়োগ করা বা পরবর্তী উপযোগী প্রয়োগ করাকে, দ্বিতীয় ব্যবস্থাপত্র (Second Prescription) বলে।
৫। প্রশ্ন: ব্যবস্থাপত্র কি? কিভাবে বুঝিবে ব্যবস্থাপত্র ভুল হয়েছে? ০৯
ব্যবস্থাপত্র (Prescription):
চিকিৎসক রোগীর নিজের বর্ণনা, আপনজনের বর্ণনা, সেবাকারীর বর্ণনা হতে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণ সমষ্টি ও এ লক্ষণগুলো কারণের গুরুত্ব অনুসারে এবং চিকিৎসক স্বয়ং রোগীর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা করে রোগের বিষয় অবগত হয়ে রোগীর আরোগ্য উপযোগী মনে করে রোগীলিপি অনুযায়ী যে সদৃশতম ঔষধ নির্বাচন করে সেবন করার জন্য লিখিত নির্দেশ প্রদান করেন, তাকেই ব্যবস্থাপত্র বলে।
ব্যবস্থাপত্র ভুল হয়েছে তা নির্ধারণের উপায়: চিনাক
ব্যবস্থাপত্র ভুল হয়েছে কিনা তা রোগের হ্রাস-বৃদ্ধি দেখে বুঝতে পারা যায়। তরুণ বা পুরাতন রোগের ঔষধ প্রয়োগের পর অনেক সময় রোগীরা তাদের রোগের সামান্য হ্রাস বা বৃদ্ধির কথা জানায়। কিন্তু ঐ সামান্য হ্রাস বা বৃদ্ধির কথা সকলে হয়ত লক্ষ্য নাও করতে পারে এ ক্ষেত্রে রোগীর মানসিক ও সর্বাঙ্গীন অবস্থা দ্বারা ঔষধের প্রকৃত ক্রিয়া বুঝতে পারা যায়। রোগের সামান্য বৃদ্ধির সাথে সাথে রোগী আক্রান্ত বিমর্ষ ও নিরাশ হয়ে পড়ে এবং তার ভাবভঙ্গি ও ক্রিয়া কলাপ দ্বারাই বুঝতে পারা যায় বা প্রকাশ হয়ে পড়ে যে রোগীর রোগ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তখন তার মানসিক যন্ত্রণাগুলি বাক্য দ্বারা প্রকাশ করা না গেলেও রোগীকে বিশেষভাবে লক্ষ্য করলেই বেশ বুঝতে পারা যায় যে তার রোগ বৃদ্ধি পেয়েছে, ইহা হতেই চিকিৎসক বুঝতে পারেন যে অনুপোযুক্ত ঔষধ প্রদত্ত হয়েছে অর্থাৎ ব্যবস্থাপত্র ভুল হয়েছে।
৬। প্রশ্ন: ব্যবস্থাপত্র ভুল হলে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে? ১১, ১৩ ব্যবস্থাপত্র ভুল হলে নিম্নলিখিত ব্যবস্থা গ্রহন:
(i) চিকিৎসক যদি বুঝতে পারেন তাঁর ব্যবস্থাপত্র ভুল হয়েছে তখন তিনি সাথে সাথে ব্যবস্থাপত্রে প্রদেয় ঔষধের ক্রিয়ানাশক ঔষধ দিয়ে পূর্বের ঔষধের ক্রিয়া নষ্ট করতে হবে।
(ii) পরবর্তীতে দ্রুত রোগীলিপি পর্যালোচনা করে অধিক সদৃশ একটি ঔষধ সেবন করতে হবে।
(iii) নতুন ঔষধ সেবনের পর রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
(iv) রোগীর রোগ যন্ত্রণার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। তাঁর অবস্থার উপর নির্ভর করে, ঔষধ দিতে হবে।
(v) রোগীকে দ্রুত আরোগ্য ব্যবস্থা করতে হবে।
৭। প্রশ্ন: ব্যবস্থাপত্র লিখার সময় একজন চিকিৎসককে কি কি বিষয়ের প্রতি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়?
ব্যবস্থাপত্র লিখার সময় একজন চিকিৎসককে নিম্নলিখিত বিষয়ের প্রতি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়:
(i) ডাঃ হ্যানিম্যানের মতে রোগীর ব্যবস্থাপত্র সহজ ও রোগীর ভাষায় করতে হবে।
(ii) রোগীর ব্যবস্থাপত্র কখনও জটিল ও অস্পষ্টভাবে লেখা উচিত হবে না।
(iii) চিকিৎসকে অবশ্যই ব্যবস্থাপত্রে উল্লেখিত ঔষধের নাম ও শক্তি স্পষ্টভাবে লিখতে হবে।
(iv) কম্পাউন্ডারকে সঠিকভাবে ঔষধ প্রস্তুতের নির্দেশনা থাকতে হবে।
(v) কোন ভেষজবহের সাথে ঔষধ মিশ্রিত বা সহযোগে ঔষধ রোগীর জন্য প্রস্তুত করবে তা সুস্পষ্টভাবে লিখতে হবে।
(vi) রোগী কিভাবে, কতবার, কোন সময় ঔষধ সেবন করবে তা নির্দিষ্টভাবে লিখতে হবে।
(vii) ডকট্রিন অব সিগনেচার এ চিকিৎসকের স্বাক্ষর, রেজিস্ট্রেশন নং ও তারিখ দিতে হবে।
৮। প্রশ্নঃ দ্বিতীয় ব্যবস্থাপত্র কাকে বলে? ১৬
দ্বিতীয় ব্যবস্থাপত্র (Second Prescription) :
রোগীকে প্রথম ব্যবস্থাপত্র করার পর এভাবে দ্বিতীয় বা পরবর্তী সময়ে ঔষধের শক্তি ও মাত্রার পরিবর্তন করে প্রয়োগ করা বা পরবর্তী উপযোগী প্রয়োগ করাকে, দ্বিতীয় ব্যবস্থাপত্র (Second Prescription) বলে।
৯। প্রশ্ন: দ্বিতীয় ব্যবস্থাপত্র দেয়ার পূর্বে কি কি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়? ১৬
দ্বিতীয় ব্যবস্থাপত্র দেয়ার পূর্বে নিম্নলিখিত সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়ঃ
(i) রোগীকে প্রথম ব্যবস্থাপত্র দেয়ার পর রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষন করতে হবে।
(ii) রোগীর প্রথম ব্যবস্থাপত্রের ঔষধ সেবনের পর কি কি লক্ষণাবলী দূর হয়েছে এবং কি কি লক্ষণাবলী নতুনভাবে দেখা দিয়েছে তা পর্যবেক্ষন করতে হবে।
(iii) রোগীর সার্বিক অবস্থার পর্যবেক্ষন করতে হবে।
(iv) প্রথম ব্যবস্থাপত্র পর্যবেক্ষন করে যদি প্রয়োগকৃত ঔষধ দ্বারা রোগীর আরোগ্য সম্পাদিত হচ্ছে মনে হয়, তাহলে একই ঔষধের পরবর্তী শক্তি প্রয়োগ করতে হবে।
(v) প্রথম ব্যবস্থাপত্রের ঔষধ প্রয়োগ করা পর যদি রোগের বৃদ্ধি পায়, তাহলে এটি কি হোমিওপ্যাথিক বৃদ্ধি না মেডিসিনাল বৃদ্ধি তা পর্যবেক্ষন করে ক্রিয়ানাশক ঔষধ সেবন করাতে হবে।
(vi) পরবর্তীতে রোগীর সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষন করে রোগীর রোগলক্ষণের সাথে সর্বাধিক সদৃশ একটি ঔষধ ব্যবস্থা করতে হবে।
১০। প্রশ্নঃ ব্যবস্থাপত্রের সাবস্ক্রিপশন এবং সিগনেচার বলতে কি বুঝায়? ১৬
সাবস্ক্রিপশন (Subscription):
ব্যবস্থাপত্র এর যে অংশে কম্পাউন্ডারকে রোগীর জন্য প্রস্তুতে নির্দেশ প্রদান করা হয়, যা দেখে কম্পাউন্ডার ঐ মোতাবেক ঔষধ তৈরী করবে, তাকে সাবক্রিশন বলে।
সিগনেচার (Signature):
ব্যবস্থাপত্র এর যে অংশে রোগীর প্রতি নির্দেশ থাকে, কখন ঔষধ সেবন করবে, কি পরিমাণে সেবন করবে ও কতবার সেবন করবে এবং পরবর্তী সময়ে কতদিন পর রোগীকে দেখা করতে হবে প্রভৃতির নির্দেশ থাকে, পরে চিকিৎসকের স্বাক্ষরসহ রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ও তারিখ লেখা হয়, তাকে সিগনেচার বলে।
১১। প্রশ্ন: দ্বিতীয়বার রোগী আমাদের নিকট আসিলে আমাদের কর্তব্য কাজ কি কি? ১৫
কোনো রোগী দ্বিতীয়বার আমাদের কাছে এলে আমাদের কাজগুলো কী কী?
দ্বিতীয়বার রোগী আমাদের নিকট আসিলে আমাদের কর্তব্য কাজ:
দ্বিতীয়বার রোগী আমাদের নিকট আসলে প্রথমে রোগীর প্রথম ব্যবস্থাপত্র বের করে রোগীকে কি ঔষধ প্রদান করা হয়েছে তা দেখব। তারপর উক্ত ঔষধে রোগীর কোন কোন লক্ষণসমূহ দূরীভূত হয়েছে তা ব্যবস্থাপত্রের দাগ কেটে চিহ্নত করব। পরবর্তীতে রোগীর ঔষধ সেবনকালীন সময় কোন নতুন লক্ষণ বা কষ্ট দেখা দিলে তা লিখে নিব। এবপর ব্যবস্থাপত্র ও রোগীকে পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী ঔষধ নির্বাচন করে রোগীকে সেবনের জন্য দিতে হবে।
১২। প্রশ্ন: ঔষধ সঞ্জাত বলতে কি বুঝায়? কিভাবে যথার্থ উপযোগী দ্বিতীয় ঔষধ নির্ধারন করা সহজসাধ্য? ১৫
ঔষধ সঞ্জাত- এর সংজ্ঞা (Medicinal disease) :
ঔষধ সৃষ্ট রোগ স্বাভাবিক রোগের বি-সদৃশ কাজেই চির রোগের সহিত একটি নতুন বি-সদৃশ চির প্রকৃতির কৃত্রিম রোগ যুক্ত হয়। এভাবে রোগী একটির স্থলে দুইটি রোগে আক্রান্ত হন। ফলে রোগীর অবস্থা আরো বেশি জটিল হয়ে পড়ে। আরোগ্য সাধন দুঃসাধ্য হয়ে উঠে, অনেক সময় একেবারে অসাধ্য হয়ে যায়। আরো অনেক রোগী দেখা যায় সিফিলিসের সহিত, বিশেষতঃ সোরা অথবা আঁচিলযুক্ত গণোরিয়া সংযুক্ত হয়ে যে জটিলতা সৃষ্টি হয়, তা দীর্ঘকাল ধরে বা বারম্বার অনুপযোগী পারদঘটিত ঔষধের বড়মাত্রা সেবনে আরোগ্য হয় না, অধিকিন্তু চির প্রকৃতির পারদঘটিত রোগের সাথে ইহা দেহতন্ত্রে স্বীয় আসন প্রতিষ্ঠা করে নেয়। ইতিমধ্যে পারদজনিত রোগটি ক্রমে ক্রমে বৃদ্ধি পেতে থাকে। ইহার সাথে মিলিত হয়ে এভাবেই এক মারাত্মক জটিল রোগের সৃষ্টি হয়। তখন পর্যন্ত ইহা একেবারে অসাধ্য না হলেও সেসব রোগীদের স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনা একান্ত কষ্টকর। এর ফলে জীবনী শক্তি কখনও কখনও অত্যন্ত বলহীন হয়ে পড়ে।
নিম্নলিখিতভাবে যথার্থ উপযোগী দ্বিতীয় ঔষধ নির্ধারন করা সহজসাধ্য:
রোগীকে প্রথম ব্যবস্থাপত্র দেয়ার পর রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষন করতে হবে। রোগীর প্রথম ব্যবস্থাপত্রের ঔষধ সেবনের পর কি কি লক্ষণাবলী দূর হয়েছে এবং কি কি লক্ষণাবলী নতুনভাবে দেখা দিয়েছে তা পর্যবেক্ষন করতে হবে। রোগীর সার্বিক অবস্থার পর্যবেক্ষন করতে হবে। প্রথম ব্যবস্থাপত্র পর্যবেক্ষন করে যদি প্রয়োগকৃত ঔষধ দ্বারা রোগীর আরোগ্য সম্পাদিত হচ্ছে মনে হয়, তাহলে একই ঔষধের পরবর্তী শক্তি প্রয়োগ করতে হবে। প্রথম ব্যবস্থাপত্রের ঔষধ প্রয়োগ করা পর যদি রোগের বৃদ্ধি পায়, তাহলে এটি কি হোমিওপ্যাথিক বৃদ্ধি না মেডিসিনাল বৃদ্ধি তা পর্যবেক্ষন করে ক্রিয়ানাশক ঔষধ সেবন করাতে হবে। পরবর্তীতে রোগীর সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষন করে রোগীর রোগলক্ষণের সাথে সর্বাধিক সদৃশ একটি ঔষধ ব্যবস্থা করতে হবে।।
0 মন্তব্যসমূহ