খনিজ পানিতে গোসল সম্বন্ধে বর্ণনা - অর্গানন অব মেডিসিন, তৃতীয় বর্ষ - ঊনবিংশ অধ্যায়

অর্গানন অব মেডিসিন (তৃতীয় বর্ষ)
ঊনবিংশ অধ্যায়
খনিজ পানিতে গোসল সম্বন্ধে বর্ণনা





অনুচ্ছেদ নং- ২৯১
পরিষ্কার এবং নির্মল পানিতে গোসল করা উপকারী। কারণ ইহা কিছুটা উপশমদায়ক এবং কিছুটা সদৃশভাবে উপযোগী স্বাস্থ্যের পুনঃলাভে সহায়ক। তবে চির বা অচির রোগ আরোগ্য লাভের পর রোগীর অবস্থা ও পানির তাপমাত্রা গোসলের স্থিতিকাল।

১। প্রশ্ন: খনিজ পানিতে গোসল সম্বন্ধে ডাঃ হ্যানিম্যানের মতামত বর্ণনা কর। ১৬
খনিজ পানিতে গোসল সম্বন্ধে ডাঃ হ্যানিম্যানের মতামত বর্ণনা:
ডাঃ স্যামুয়েল হ্যানিম্যান "অর্গানন অব মেডিসিন" গ্রন্থের ২৯১ নং অনুচ্ছেদে খনিজ পানিতে গোসল সম্বন্ধে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।
তাঁর মতে, খনিজ পরিষ্কার এবং নির্মল পানিতে গোসল করা উপকারী। কারণ ইহা কিছুটা উপশমদায়ক এবং কিছুটা সদৃশভাবে উপযোগী স্বাস্থ্যের পুনঃলাভে সহায়ক। তবে চির বা অচির রোগ আরোগ্য লাভের পর রোগীর অবস্থা ও পানির তাপমাত্রা গোসলের স্থিতিকাল এবং পুনঃপ্রয়োগের ক্ষেত্রে যথাযথভাবে এবং সতর্কতার সংগে বিবেচনা করে এ জাতীয় গোসলের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। ঠিকমত ব্যবস্থা করা হলেও এ দ্বারা রুগ্ন দেহের কেবল বাহ্যিক পরিবর্তন সাধিত হয়। এরা প্রকৃত পক্ষে কোন ঔষধ নয়। একটি আনুষাংগিক ব্যবস্থা মাত্র। ২৫০-২৭০ ডিগ্রী অল্প তাপের পানিতে গোসলে দৃশ্যত অবসাদগ্রস্ত স্নায়ুমন্ডলীর চেতনা জাগ্রত হয়। তুষার ক্লিষ্ট পানিমগ্ন, রুদ্ধ শ্বাস প্রভৃতি কারণে যদি রোগী অভিভূত হয়ে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে তবে এই পদ্ধতি উপযোগী। আবার যে সকল রোগী চিররোগ চিকিৎসার দ্বারা আরোগ্য লাভ করার পরে জৈবিক তাপের অভাব হলে ১০০- ৬০ শীতল গোসল সদৃশ মতে সহায়ক হয়। ইহা অতি বাস্তব সত্য যে, অবিলম্বে এবং কিছুক্ষণ পর বার বার গোসল করলে অবসন্ন তন্ত্রসমূহের সাময়িক চেতনা পুনরায় ফিরে আসে। ভেষজের মত সূক্ষ্মভাবে তা ক্রিয়া প্রকাশ করে না, তাই এতে কোন বিপরীত প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না।



২। প্রশ্ন: সিফিলিস মায়াজম ও সিফিলিস রোগের মধ্যে পার্থক্য লিখ। ১৪ সিফিলিস মায়াজম ও সিফিলিস রোগের মধ্যে পার্থক্য:
সিফিলিস মায়াজম
১। সিফিলিস রোগ বিসদৃশ প্রক্রিয়া চাপা দেয়ার ফলে দেহের মধ্যে যে প্রভাব সৃষ্টি হয়, তাকে সিফিলিস মায়াজম বলে।
২। এটি দেহের মধ্যে একটি মায়াজমেটিক অবস্থা যা' রোগ প্রবনতা সৃষ্টি করে।

সিফিলিস রোগ
১। ট্রিপোনিয়ামা প্যালিডাম নামক ব্যাকটেরিয়া পুরুষ বা মহিলার জননতন্ত্রে হয়ে সিফিলিস রোগ উৎপন্ন করে। ইহা দ্বারা জননতন্ত্রে ক্ষত ও পুঁজ উৎপত্তিসহ বিভিন্ন রোগ লক্ষণ প্রকাশিত হয়।
২। এটি একটি রোগ যা দেহে বিভিন্ন ধরনের লক্ষণ সংক্রমিত প্রকাশ করে।


৩। প্রশ্ন: নির্মল আরোগ্যের চিকিৎসা পদ্ধতি আলোচনা কর। ১৫
প্রশ্ন: আদর্শ চিকিৎসার পদ্ধতি আলোচনা করো।
নির্মল আরোগ্যের চিকিৎসা পদ্ধতি আলোচনা:
মহান ডাঃ হ্যানিম্যান বলেছেন যে, আরোগ্য সাধন প্রক্রিয়াটা সম্পূর্ণভাবেই নিদিষ্ট নিয়মের উপর নির্ভর করে। এটা সদৃশ নিয়ম অর্থাৎ সিমিলিয়া সিমিলিবাস কিউরেন্টার নিয়মের দ্বারা অনুশাসিত। এ যাবৎ যত আরোগ্য সাধিত হয়েছে তা এ সদৃশ্য বিধান অনুযায়ী হয়েছে। অর্থাৎ প্রত্যেক স্থলেই যে ঔষধ আরোগ্য সম্পাদন করেছে তা ঐ আরোগ্য সাধিত লক্ষণাবলী উৎপাদন করতেও সক্ষম। এ যাবৎ অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতির দ্বারা যে আরোগ্য সাধন হয়নি এমন নয়। তবে যা হয়েছে তা জ্ঞাতে হোক বা অজ্ঞাতে হোক এ সদৃশ বিধান মতেই হয়েছে। যেমন- কুইনাইন খেয়ে যদি কোনও প্রকার জ্বর বাস্তবিকই আরোগ্য হয়ে থাকে তবে বুঝতে হবে সুস্থ শরীরে কুইনাইন সেবন করলে ঐ প্রকারের জ্বর নিশ্চয়ই উৎপন্ন হয়। কুইনাইনের যে কুইনাইন দ্বারা আরোগ্য প্রাপ্ত হয়, তা প্রমানিত সত্য। সদৃশ বিধানে চিকিৎসা বলতে রোগীর শারীরিক ও মানসিক অস্বাচ্ছন্দতার সদৃশ ধর্মী ঔষধ প্রয়োগ বুঝায়। অতএব, নিঃসন্দেহে বলা যায়, নির্মল আরোগ্যের চিকিৎসা পদ্ধতি হচ্ছে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতি যাহা সার্বজনীন এবং আরোগ্য বিশ্বজনীন নিয়ম।







একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ