সংক্রামক ব্যাধি - দ্বিতীয় বর্ষ - অষ্টম অধ্যায়

 অষ্টম অধ্যায়
সংক্রামক ব্যাধি
( Infectious Diseases )




প্রশ্ন- সংক্রমণ বলিতে কি বুঝ?
উত্তর : সংক্রমণ- পৃথিবী একেবারে রোগশূন্য হয় না। রোগবীজ মনুষ্য শরীরে
নানাবিধ উপায়ে প্রবেশ করিতে পারে ও তাহা দ্রুত বংশবৃদ্ধি ও করিতে পারে। যে ব্যাধির রোগবীজ একদেহ হইতে অন্য এক সুস্থ দেহের মধ্যে প্রবেশ করিয়া সেই ব্যাধির সৃষ্টি করে তাহাকে সংক্রামক রোগ বলে এবং একদেহ হইতে অন্য দেহে গমনের নাম সংক্রমণ।


প্রশ্ন- সংক্রামক ব্যাধি কাহাকে বলে? উহাদের শ্রেণী বিভাগ কর।
উত্তর: সংক্রামক ব্যাধি- যে সকল রোগজীবাণু, নিম্নশ্রেণীর উদ্ভিদ
(Fungus), অতি ক্ষুদ কীট, নিম্নশ্রেণীর প্রাণি দ্বারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে একজনের দেহ হইতে অন্য জনের দেহে সংক্রামিত হয় এবং বংশবৃদ্ধি করিয়া রোগ সৃষ্টি করে তাহাকে সংক্রামক ব্যাধি বলে।
সংক্রামক ব্যাধির শ্রেণীবিভাগ- সংক্রামক ব্যাধিগুলিকে উহাদের বিস্তার প্রণালী অনুযায়ী ছয়ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
i) পানি ও খাদ্যবাহিত রোগ- পানি ও খাদ্যের মাধ্যমে এই রোগ সংক্রমিত হয়। কলেরা, টাইফয়েড, প্যারাটাইফয়েড, আমাশয়, কৃমি, উদরাময়, অজীর্ণ, চক্ষু উঠা, কোষ্ঠকাঠিন্য, অস্ত্রপ্রদাহ প্রভৃতি।
ii) শ্লেষ্মা ও বায়ুবাহিত রোগ- শ্লেষ্মা, কফ ও বায়ুর মাধ্যমে এইসব রোগ
সংক্রমিত হয়। যেমন- যক্ষ্মা, ইনফ্লুয়েঞ্জা, সর্দি, হুপিং কাশি, নিমোনিয়া, ডিপথিরিয়া, বসন্ত, হাম প্রভৃতি।
iii) কীটপতঙ্গবাহিত রোগ- কীট পতঙ্গের মাধ্যমে এইসব রোগ সংক্রমিত হয়। যেমন- ডেঙ্গুজুর, টাইফাস, ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর প্রভৃতি।
iv) ঘনিষ্ট মেলামেশার কারণে- ঘনিষ্ট সাহচর্যের কারণে কিছু কিছু রোগ বিস্তার লাভ করে। যেমন দাদ, খোস পাঁচড়া, কুষ্ঠ, গণোরিয়া, সিফিলিস, এইডস প্রভৃতি।
ঘ) পশু যারা বাহিত রোগ- পশুপাখি দ্বারা ও রোগ সংক্রমিত হয়। যেমন-জলাতঙ্ক, প্লেগ প্রভৃতি।
vi) মাটি দ্বারা বাহিত রোগ- মাটির মাধ্যমেও রোগ সংক্রমিত হয়। যেমন-ধনুষ্টংকর, বক্রকৃমি, টিটেনাস প্রভৃতি।


প্রশ্ন-  কি কি কারণে রোগের উৎপত্তি ঘটিয়া থাকে?
উত্তর: রোগের উৎপত্তির কারণসমূহ- রোগের উৎপত্তির অনেক কারণ হইতে
পারে। যেমন-
i) প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস- দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়া গেলে সহজেই রোগের উৎপত্তি ঘটিয়া থাকে।
ii) কু-পরিবেশ- আমরা যে পরিবেশে বসবাস করি সেগুলির প্রত্যেকটি অর্থাৎ রৌদ্র, বায়ু, পানি, খাদ্য, ভূমি, বাসগৃহ ইহাদের যেকোনও একটি দূষিত হইলেও রোগের কারণ হয়।
iii) কু-খাদ্য- খাদ্যে যদি কোন প্রকার জীবাণু দুষণ ঘটে তাহা হইলে ব্যাধির
প্রতিরোধ হয়।
iv) কু-বায়ু- বায়ু যদি নানারকম জীবাণু, গ্যাস এবং দূষিত পদার্থ দ্বারা মিশিয়া থাকে, তাহা হইলে নানারকম রোগের কারণ হয়।
v) কু-পানি- আমরা যে পানি পান করি, তাহা কলুষিত বা জীবাণু দুষ্ট হইলে নানা রকম রোগের সৃষ্টি হয়।
vi) স্বাস্থ্যের হীন অবস্থা- স্বাস্থ্য সুপুষ্ট, সুগঠিত ও বলিষ্ঠ না হইলে অথবা অসুস্থ ও রক্তহীন হইলে রোগের কারণ হয়।


প্রশ্ন-  'ড্রপলেট' সংক্রমণ বলিতে কি বুঝ?
উত্তর : 'ড্রপলেট' সংক্রমণ- রোগী হাঁটিবার, জোরে নিঃশ্বাস ফেলিবার, কাশিবার, হাঁচিবার ও জোরে কথা বলিবার সময় তাহার মুখ ও নাকের মধ্য হইতে সূক্ষ্ম জলকণা বা শ্লেষ্মা জলীয় বাষ্পের সাথে মিশিয়া ইনফ্লুয়েঞ্জা, ঘুংড়ি কাশি, হাম, সর্দিকাশি, যক্ষ্মা, নিমোনিয়া প্রভৃতি রোগের জীবাণুগুলি বাহির হইতে থাকে। যাহারা রোগীর ৬ফুট দূরত্বের মধ্যে অবস্থিত তাহারা স্বচ্ছন্দে ঐসব রোগজীবাণু মিশ্রিত বাতাস নিজেদের নারু মুখের মধ্যে টানিয়া নিতে পারে এবং রোগাক্রান্ত হইতে পারে। এইভাবে রোগীর অথবা সদ্য রোগমুক্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি প্রভৃতি হইতে রোগ সংক্রমণের নাম 'ড্রপলেট সংক্রমণ' বা বিন্দুবাহিত রোগ সংক্রমণ।


প্রশ্ন- রোগ সংক্রমণকাল কাহাকে বলে?
উত্তর: রোগ সংক্রমণকাল- রোগজীবাণু রোগীর দেহে প্রবেশ করিবার পর যে সময় পর্যন্ত ঐ দেহে অবস্থান করিয়া অন্য ব্যক্তিকে সংক্রমিত করিতে পারে সেই সময়কে রোগ সংক্রমণ কাল বলে।


প্রশ্ন-  রোগ জীবাণুর উৎস সম্বন্ধে লিখ।
অথবা, 'মানুষ ও জীবজন্তু রোগবীজ বাহক'- আলোচনা কর।
উত্তর: রোগ জীবাণুর উৎস- যেসব সুস্থ মানুষ ও জীবজন্তু নিজেদের
অজ্ঞাতসারে আপন আপন শরীরের ভিতরে বা উপরে এক বা একাধিক প্রকার তাজা রোগজীবাণু বহন করিয়া বেড়ায় এবং অন্য সুস্থ দেহে সংক্রমিত করিবার সম্ভবনা রাখে তাহা দিগকে রোগজীবাণু বাহক, বা রোগ বলা হয়। বেশীর ভাগ জীবাণু মানুষের শরীরেই থাকে। মানুষ যখন রোগে ভুগিতে থাকে তখনও ইহা বর্তমান থাকে এবং আরোগ্য লাভের পরও ইহারা শরীরকে রোগাক্রান্ত না করিয়া কিছুদিন অথবা সারা জীবন কোন কোন ব্যক্তির শরীরে বিদ্যমান থাকিতে পারে। রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা হ্রাস পাইলে শরীর রোগাক্রান্ত হয়। কিন্তু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকিলে রোগজীবাণু বহন করা সত্ত্বেও শরীর রোগাক্রান্ত হয় না। এইরূপ রোগ জীবাণু বহনকারী ব্যক্তিকে বাহক বলে। তাহার শরীরে রোগের কোন লাশ দেখা যায় না এবং সে দৃশ্যতঃ সুস্থ শরীরে সমাজের সকলের সঙ্গে অবাধে মেলামেশা করে। কিন্তু বাহক নিজে না ভূগিলেও অন্য ব্যক্তিকে রোগ সংক্রামিত করিতে পারে। ইহারা পূর্বে একবার রোগাক্রান্ত হইয়াছিল। তার পর ঐ রোগ আরোগ্য হইয়া গিয়াছে। কিন্তু অসংখ্য রোগজীবাণু এখনও তাহাদের দেহে আশ্রয় করিয়া বসবাস করিতেছে। তাহাদের অজ্ঞাতেই এই রোগজীবাণু অন্যের শরীরে সংক্রমিত হইতে পারে।
মানবদেহ ব্যতীত কোন কোন প্রাণীও রোগ জীবাণুর উৎস হইতে পারে। যেমন- ইঁদুরের মধ্যে প্লেগ, কুকুরের মধ্যে জলাতঙ্ক, এডিস মশার মধ্যে ডেঙ্গু, এনোফিলিস মশায় ম্যালেরিয়া প্রভৃতি। এই সকল রোগ মানুষের রোগ নহে। তবে এই সকল প্রাণীর সংশ্রবে আসার জন্য মানব দেহে বিভিন্ন রোগ সংক্রামিত হয়।


প্রশ্ন-  কি কি প্রণালীতে শরীরে রোগজীবাণু সংক্রামিত হয়?
উত্তর : শরীরে রোগজীবাণু সংক্রামিত হয় যেভাবে- নিম্নবর্ণিত ৪টি প্রণালীতে দেহ হইতে দেহান্তরে রোগ সংক্রামিত্র হইতে পারে।
i) সাক্ষাৎ সংস্পর্শে- রোগীর সহিত সাক্ষাৎ সংস্পর্শে দাদ, পাঁচড়া, সিফিলিস,
গণোরিয়া ইত্যাদি রোগ সংক্রামিত হয়। আবার শ্লেষ্মাবাহিত রোগের মধ্যে যক্ষ্মা, ডিপথিরিয়া, হাম, মাম্পস, হুপিং কফ, ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রভৃতি এবং কলেরা টাইফয়েড, আমাশয় প্রভৃতি রোগও সংস্পর্শে ঘটিয়া থাকে।
ii) পরোক্ষভাবে রোগ সংক্রমণ- সাক্ষাৎ সংস্পর্শ ছাড়া কোন বস্তু বা বায়ুর বা
মাটির মাধ্যমেও পরোক্ষভাবে রোগ সংক্রমিত হয়। পানীয় ও খাদ্যের মাধ্যমে কলেরা, টাইফয়েড, আমাশয়, কৃমি, বায়ুর মাধ্যমে যক্ষ্মা, বসন্ত হাম। মাটির মাধ্যমে ধনুষ্টংকার, ধূলাবালির মাধ্যমেও নানা রোগ পরোক্ষভাবে সংক্রমিত হয়।
iii) জীবাণুবাহক দ্বারা রোগ সংক্রমণ- সংক্রামক ব্যাধি হইতে আরোগ্য লাভের পর রোগীর শরীরে অনেক সময় রোগ জীবাণু থাকে। এই সকল ব্যক্তির অজ্ঞাতে তাহাদের দেহ হইতে রোগ জীবাণু নির্গত হইয়া সুস্থ ব্যক্তির দেহে সংক্রমণ ঘটিতে পারে। এইরূপ রোগজীবাণু বহনকারী ব্যক্তিকে 'বাহক' বলা হয়। বাহকদের দেহ হইতে এবং বর্জ হইতে জীবাণু নির্গত হইয়া রোগ বিস্তার লাভ করিতে পারে।
iv) কীটপতঙ্গ দ্বারা রোগ সংক্রমণ- কীটপতঙ্গের মাধ্যমেও রোগ সংক্রামিত হয়। যেমন- ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, প্লেগ, ফাইলেরিয়া, কালাজ্বর প্রভৃতি।


প্রশ্ন- সংক্রামক ব্যাধি নিবারণের উপায়সমূহ বর্ণনা কর।
বা, কোন নগরে বা বন্দরে সংক্রামক রোগের বিস্তৃতি বন্ধ করিতে কি কি উপায় অবলম্বন করা উচিত?
উত্তর: সংক্রামক ব্যাধি নিবারণের উপায়সমূহ- কোন স্থানের কোন সংক্রামক রোগ নিবারণ বা বিস্তৃতি বন্ধ করিতে হইলে নিম্নলিখিত বিষয়গুলির উপর নজর রাখিতে হইবে। যথা-
i) রোগ সংবাদ জ্ঞাপন (Notification)
ii) রোগীকে পৃথকীকরণ (Isolation)
হাইজিন এন্ড পাবলিক হেলথ ১৬১
iii) সঙ্গ রোধকরণ (Quarantine)
iv) রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি (Inoculation and Immunisation)
v) নির্বীজন (Disinfection
vi) স্বাস্থ্য বিষয়ক শিক্ষা (Health Education)
vii) জনস্বাস্থ্যমূলক শিক্ষা (Sanitation)


প্রশ্ন-  রোগ সংবাদ জ্ঞাপন (Notification) বলিতে কি বুঝ?
উত্তর: রোগ সংবাদ জ্ঞাপন- কোন রোগ মহামারীর আকার ধারণ করিতে পারে বিবেচিত হইলে ঐ সংবাদ গৃহকর্তা অথরা গৃহ চিকিৎসক কর্তৃক স্থানীয় স্বাস্থ্যবিভাগের কর্মকর্তা, গ্রামবাসী বা শহরবাসীর উচিত জনস্বাস্থ্য বিভাগে সংবাদ দেওয়া যাহাতে মহামারী রোগের উপযুক্ত ব্যবস্থা গৃহীত হয়। কয়েকদিনের মধ্যে একই স্থানে একই প্রকারের কোন সংক্রামক রোগ কয়েকটা গৃহে দেখা দেওয়ার সংবাদ পাইলেই স্বাস্থ্যবিভাগ ঐ স্থানের অধিবাসীদের মধ্যে ঐ রোগ সম্বন্ধে সতর্কবানী প্রচার করিবেন এবং রোগ বিস্তার বন্ধ করার সর্বপ্রকার উপায় অবলম্বন করিবেন।


প্রশ্ন-  রোগীকে পৃথকীকরণ (Isolation) বলিতে কি বুঝ?
উত্তর: রোগীকে পৃথকীকরণ- সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীকে যথাসম্ভব দ্রুত হাসপাতালে পাঠাইয়া দেওয়া উচিত। নতুন বাড়ীতে আলাদাভাবে পৃথক ঘরে, রাখিয়া চিকিৎসা ও সেবা শুশ্রুষার ব্যবস্থা করা উচিত। যতদিন রোগী সম্পূর্ণ রোগমুক্ত না হয় ততদিন কাহারও সাথে তাহাকে মিশিতে দিতে নাই। ডাক্তার ও সেবিকা ছাড়া কাহারও রোগীর ঘরে প্রবেশ করা উচিত নয়। আরোগ্য লাভের পর রোগীর ব্যবহৃত যাবতীয় জিনিষপত্র নির্বীজিব করিয়া নিতে হইবে।


প্রশ্ন-  সঙ্গ রোধকরণ (Quarantine) কি?
উত্তর : সঙ্গ রোধকরণ- কোন ব্যক্তি যদি কোন সংক্রামক রোগমুক্ত স্থান হইতে কোন নূতন স্থানে সদ্য আসিয়া পৌছায় তাহা হইলে বাহ্যতঃ সুস্থ প্লাকিলেও তাহার দেহে রোগজীবাণু লুকাইয়া থাকিতে পারে-এই সন্দেহে তাহাকে উণ্ডিকাল পর্যন্ত কিছুদিন কোন ফাঁকা জায়গায় বা একটা পৃথক গৃহে আলাদাভাবে রাখা হয় ও অন্য লোকের সাথে মিশিতে দেওয়া হয় না- ইহাকেই সংগরোধকরণ বলা হয়।
 বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও সংক্রামক ব্যাধির এলাকা হইতে ছাত্রদের স্কুলে আসা নিয়ন্ত্রণ করিতে পারেন। একদেশ হইতে অন্যদেশে যাহাতে রোগ ছড়াইয়া না পড়িতে পারে সেজন্য একদেশের সরকার অন্য দেশের পর্যটকদের উপর উক্ত বিধি আরোপ করিতে পারেন।


প্রশ্ন- কিভাবে প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি (Inoculation and Immunisation) যায়?
উত্তর: প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধির উপায়- প্রত্যেক মানুষের রক্তে স্বাভাবিকভাবে
রোগ জীবাণু ধ্বংস করার বা প্রতিরোধ করার ক্ষমতা রহিয়াছে। যাহাদের দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাহাদিগকে রোগ প্রতিষেধক টিকা দিলে বা ঔষধ খাওয়াইবার ব্যবস্থা করিলে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়া যায়। কলেরা, বসন্ত, টাইফয়েড, যক্ষ্মা, ডিপথিরিয়া প্রভৃতি রোগের প্রতিষেধক টিকা রহিয়াছে।


প্রশ্ন-  নির্বীজন (Disinfection) কি?
উত্তর : নির্বীজন- রোগীর গৃহ, ঘরদ্বার, আসবাবপত্র, কাপড় চোপড়, মলমূত্র, কফ, বমি প্রভৃতি উত্তপ্ত বাষ্প, সাবান বা বীজঘ্ন ঔষধ দ্বারা প্রত্যহ শোধিত করা উচিত-যাহাতে রোগজীবাণু মরিয়া যায় ও অন্যত্র না ছড়ায়। প্রাকৃতিক উপায়ে রৌদ্রের দ্বারা, উত্তপ্ত পানিতে বা বাষ্প দ্বারা এবং রাসায়নিক উপায়ে ব্লিচিং পাউডার, পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট, ফরমালিন, ক্লোরিন গ্যাস, কার্বলিক এসিড, ফিনাইল, ডেটল, লাইজল, মার্কারি পার ক্লোরাইড প্রভৃতি দ্বারা জীবাণু বিনাশ করা হয়।


প্রশ্ন- স্বাস্থ্যবিষয়ক শিক্ষা (Health Education) বলিতে কি বুঝ?
উত্তর : স্বাস্থ্যবিষয়ক শিক্ষা- কোন সংক্রামক রোগ বাড়ীতে বা পাড়ায় দেখা
দিলে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দ্বারা সেই স্থানের লোকদেরকে স্বাস্থ্য বিষয়ক শিক্ষা ও ঐ রোগের প্রতিরোধ সম্বন্ধে কর্তব্যতার উপর জোর প্রত্যয় জন্মাইতে হইবে। রেডিও, সংবাদপত্র, পোষ্টার, সিনেমা ও বক্তব্য-বক্তৃতার সাহায্যে স্বাস্থ্যরক্ষার নিয়ম কানুনের ব্যাপক প্রচার দ্বারা জনসাধারণকে শিক্ষিত করিয়া তুলিতে হইবে।


প্রশ্ন-  জনস্বাস্থ্যমূলক শিক্ষা (Sanitation) কি?
 উত্তর : জনস্বাস্থ্যমূলক শিক্ষা- যেখানে একাধিক সংক্রামক রোগ একটার পর একটা প্রায় সারা বৎসর চলে সেখানে স্থায়ীভাবে নানারূপে স্বাস্থ্যোন্নতিকর ব্যবস্থা করার প্রয়োজন রহিয়াছে।


প্রশ্ন-  রোগজীবাণুর শ্রেণী বিভাগ কর।
উত্তর : রোগজীবাণুর শ্রেণী বিভাগ- রোগ জীবাণুগুলিকে নিম্নলিখিতভাবে ভাগ করা যায়। যথা-
১) প্রোটোজোয়া,
২) ভাইরাস,
আমি)
উদ্ভিদ ভাইরাস, ii) প্রাণি ভাইরাস, iii) ব্যাকটেরিয়া ভাইরাস
৩) ব্যাকটেরিয়া
i) কক্কাই,
ii) ব্যাসিলি,
iii) স্পাইরিলা,
iv) স্ট্রেপটোব্রিক্স,
v) ভাইব্রিওস
৪) নিম্নশ্রেণীর উদ্ভিদ বা ফাঙ্গাস।
৫) নিম্নশ্রেণীর জীব।
৬) ক্ষুদ্রকীট।


প্রশ্ন- মানবদেহে রোগ জীবাণুর সংক্রমণ পথের বিবরণ দাও।
উত্তর: মানবদেহে রোগ জীবাণুর সংক্রমণ পথসমূহ- মানবদেহে রোগজীবাণু সাধারণতঃ নিম্নলিখিত পথে প্রবেশ করে। যথা-
১) শ্বাসপথ- প্রশ্বাস বায়ুর সঙ্গে এই পথে শ্লেষ্মা ও বায়ুবাহিত রোগ জীবাণু দেহের ভিতর প্রবেশ করে।
২) খাদ্যপথ- খাদ্য ও পানীয়ের সাথে খাদ্য ও পানিবাহিত রোগের জীবাণু (যেমন-কলেরা, আমাশয়, কৃমি, টাইফয়েড প্রভৃতি) সুস্থ দেহে প্রবেশ করে।
চর্মপথ-চর্মপথে কয়েকভাবেই রোগের সংক্রমণ ঘটে।
ক) দেহে ক্ষতের মাধ্যমে বা মাটিতে কোন রোগ জীবাণু থাকিলে কাঁটা ফোটা বা কাঁচের টুকরায় দেহের কোন স্থান কাটিয়া গেলে টিটেনাস, গর্মি ঘা, এনথ্রাস, জলাতঙ্ক প্রভৃতি রোগ চর্মপথে দেহে সংক্রামিত হয়।
খ) কীট পতঙ্গের দংশনে।
যেমন-
মশার দংশনে-ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া, ডেঙ্গু।
ইঁদুর, মক্ষিকার দংশনে-প্লেগ।
উকুনের দংশনে- টাইফাস জ্বর।
পশু-পাখীর দংশনে-জলাতঙ্ক।
বালি মক্ষিকার দংশনে-কালাজ্বর।
গ) বক্রকৃমি চর্মভেদ করিয়া দেহে প্রবেশ করে।


প্রশ্ন- কয়েকটি সাধারণ রোগের উপ্তিকাল ও রোগ সংক্রমণকাল লিখ।
উত্তর : কয়েকটি সাধারণ রোগের উপ্তিকাল ও রোগ সংক্রমণকাল- নিম্নেকয়েকটি রোগের উপ্তিকাল ও রোগ সংক্রমণকাল দেওয়া হইল। যথা-

প্রশ্ন- বাংলাদেশের সাধারণ সংক্রামক ব্যাধিসমূহ কি কি? 
সংক্রামক ব্যাধিসমূহ নিম্নরূপ। যথা-
উত্তর : বাংলাদেশের সাধারণ সংক্রামক ব্যাধিসমূহ- বাংলাদেশের সাধারণ বসন্ত, হাম, ম্যালেরিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ডিপথিরিয়া, পানিবসন্ত, ম্যাম্পস, কলেরা, কালাজ্বর, টাইফয়েড, প্যারাটাইফয়েড, যক্ষ্মা, জলাতঙ্ক, হুপিং কাশি, সোরায়সিস প্রভৃতি।


প্রশ্ন-  ম্যালেরিয়া কোন শ্রেণীর সংক্রামক ব্যাধি? ম্যালেরিয়া রোগের কারণ কি কি?
উত্তর: ম্যালেরিয়া- ম্যালেরিয়া কীট-পতঙ্গ-বাহিত সংক্রামক ব্যাধি।
ম্যালেরিয়ার কারণ- মল mal অর্থাৎ দূষিত-এরিয়া অর্থাৎ বায়ু-দূষিত বায়ু এবং দূষিত বায়ু হইতে ম্যালেরিয়া নামের উৎপত্তি। প্লাসমোডিয়াম নামক এক প্রকার পরজীবী জীবাণুবাহক মশকী দংশনজনিত কারণে এই রোগ সৃষ্টি হয়। এনোফিলিস নামক মশা ম্যালেরিয়া রোগ বিস্তারে সাহায্য করে।


প্রশ্ন- ম্যালেরিয়া রোগ সংক্রমণ প্রণালী' বর্ণনা কর।
বা, স্পোরোগনি ও সিজোগনি কাহাকে বলে? উক্ত দুইটি পদ্ধতিতে কিভাবে ম্যালেরিয়া রোগ সংক্রামিত হয়?
উত্তর : ম্যালেরিয়া রোগ সংক্রমণ প্রণালী- ম্যালেরিয়া সংক্রমণ দুইভাবে হইয়া থাকে। একটি মশকীর দেহের মধ্যে তাহাকে যৌন বংশবৃদ্ধি বা স্পোরোগনি এবং অপরটি মনুষ্য শরীরের মধ্যে তাহাকে অযৌন বংশবৃদ্ধি বা সিজোগণি বলে।
(১) স্পোরোগনি বা যৌন বংশবৃদ্ধি (Sporogony) :
এনোফিলিস জাতীয় মশা ম্যালেরিয়া জীবাণু বাহিকা। এই জাতীয় মশা কোন ম্যালেরিয়া রোগীকে দংশন করিলে রোগীর শোনিত হইতে ম্যালেরিয়া জীবাণু শোষণ করিয়া লয়। মশার পাকস্থলীতে ঐ জীবাণু প্রবেশ করে এবং উহাদের মধ্যে কতকগুলি স্ত্রী ও পুরুষ জীবাণু থাকায় তাহাদের যৌন সংগমের ফলে দ্রুত বংশবৃদ্ধি হইতে থাকে। বংশবৃদ্ধি পাইতে পাইতে ১০/১২ দিন পরে মশকীর লালাগ্রন্থিতে উহারা গিয়া আশ্রয় নেয়। মশকীর পাকস্থলীর মধ্যে যৌন সংগমের ফলে জীবাণুর যে বংশবৃদ্ধি ঘটে তাহাকে স্পোরোগণি বলে।
(২) সিজোগনি বা অযৌন বংশবৃদ্ধি (Schizogony) :
এনোফিলিস জাতীয় মশা এই অবস্থায় কোন সুস্থ লোককে দংশন করিলে তার লালাগ্রন্থি হইতে যে লালা বাহির হয় তাহার সাথে এই ম্যালেরিয়া জীবাণুগুলি সুস্থ লোকের শরীরে গিয়া রক্তে প্রবেশ করে এবং এক একটি জীবাণু এক একটি লোহিতকণিকা আক্রমণ করিয়া তাহার মধ্যে আশ্রয় গ্রহণ করে এবং বংশবৃদ্ধি করে। সম্পূর্ণ বৃদ্ধি পাইলে প্রত্যেক জীবাণু বিভক্ত হইয়া ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অসংখ্য জীবাণুতে পরিণত হয়। ফলে লোহিত কণিকা স্ফীত হইয়া ফাটিয়া যায় এবং নবজাত জীবাণুগুলি পুনরায় এক একটি নূতন লোহিত কণিকা আক্রমণ করে এবং পূর্বের ন্যায় পুনরাবৃত্তি করিতে থাকে। নূতন নূতন জীবাণুর দেহকোষ হইতে এক প্রকার বিষাক্ত রস বাহির হয় এবং তাহার বিষক্রিয়ায় মানুষ জ্বরাক্রান্ত হয়। ম্যালেরিয়া জীবাণুর এইভাবে বংশবৃদ্ধিকে সিজোগনি বলে।


প্রশ্ন-  ম্যালেরিয়া রোগের আবিষ্কারকের নাম কি? এই রোগের লক্ষণাবলী বর্ণনা কর।
উত্তর: ম্যালেরিয়া রোগের আবিষ্কারকের নাম- স্যার রোনাল্ড রস ম্যালেরিয়া রোগ আবিষ্কার করেন।
ম্যালেরিয়া রোগের লক্ষণাবলী- জ্বর হইবার দুই একদিন পূর্বে ক্ষুধামান্দ্য, পেটভার, পেট বেদনা, গা বমি, আলস্য, কাজ কর্মে অনিচ্ছা, দুর্বলতা, ক্লান্তিবোধ, হাই উঠা, অনিন্দ্রা, কখন শীত কখন গরম প্রভৃতি লক্ষণ প্রকাশ পায়। এই সক্কল লক্ষণ থাকিলে হঠাৎ শীত করিয়া জ্বর আসে। কিন্তু এই জ্বরের শীত তত প্রবল কিংবা বহুক্ষণ স্থায়ী নয়। এই জ্বর সাধারণতঃ প্রাতে কমিয়া যায় ও বিকালে বা সন্ধ্যায় পুনরায় বৃদ্ধি পায়। জ্বরকালীন গাত্রতাপ ১০১ হইতে ১০৪/১০৫ ডিগ্রী পর্যন্ত হয়। নাড়ী দ্রুত ও পূর্ণ, মূত্র লালবর্ণ, গাত্র অত্যন্ত শুষ্ক ও গরম, শিরঃপীড়া, সর্বাঙ্গে বিশেষতঃ পাকাশয় প্রদেশে বেদনা, কোষ্ঠবদ্ধ, উদরে বায়ু সঞ্চয় ও স্ফীত, যকৃতে বেদনা, পিত্তবমন, পিপাসা, অস্থিরতা প্রভৃতি লক্ষণ দেখা যায়। রোগ কঠিনাকার ধারণ করিলে প্রায় প্রলাপ উপস্থিত হয়। পীড়া অনেকদিন স্থায়ী হইলে জ্বরের হ্রাসবৃদ্ধি প্রায় বুঝা যায় না। অনেক সময় একজুরী হইয়া থাকে এবং কখন কখন দিনে দুইবার করিয়াও জ্বর আসিতে দেখা যায়।


প্রশ্ন- কোন জাতীয় মশা ম্যালেরিয়া জীবাণু ছড়ায়? ম্যালেরিয়া প্যারাসাইটের শ্রেণী বিভাগ কর।
উত্তর : যে জাতীয় মশা ম্যালেরিয়ার জীবাণু ছড়ায়- এনোফিলিস জাতীয় স্ত্রী মশকী ম্যালেরিয়া জীবাণু ছড়ায়।
ম্যালেরিয়া প্যারাসাইটের শ্রেণী বিভাগ- যে জীবাণু মানবদেহে ম্যালেরিয়া
রোগ বিস্তার করে তাহাকে ম্যালেরিয়া প্যারাসাইট বলে।
ম্যালেরিয়া প্যারাসাইটকে চার ভাগে ভাগ করা যায়-
১) প্লাসমোডিয়াম ভাইভেক্স- ইহা বিনাইন টার্সিয়ান ম্যালেরিয়া উৎপন্ন করে।
২) প্লাসমোডিয়াম ফেলসিপেরাম- ইহা ম্যালিগন্যান্ট বা সাব টার্সিয়ান ম্যালেরিয়া উৎপন্ন করে।
৩) প্লাসমোডিয়াম মেলেরি- ইহা কোয়ার্টান ম্যালেরিয়া উৎপন্ন করে।
৪) প্লাসমোডিয়াম ওভ্যালী- ইহা মৃদু প্রকৃতির টার্সিয়ান ম্যালেরিয়া উৎপন্ন করে। আফ্রিকায় এই জীবাণু দেখা যায়।


প্রশ্ন- ম্যালেরিয়া রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থাসমূহ কি কি?
উত্তর : ম্যালেরিয়া রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থাসমূহ- ম্যালেরিয়া রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থাসমূহ নিম্নে বর্ণনা করা হইল। যথা-
i) এনোফিলিস জাতীয় মশা সাধারণতঃ আবদ্ধ পানিতে ডিম পাড়ে এবং বংশবৃদ্ধি করে। মশক ধ্বংস করার জন্য বাসগৃহে বা সমগ্র পল্লী বা শহরাঞ্চলে অকেজো পুকুর, খানাখন্দ, ডোবা, গর্ত ও নিচু জমি প্রভৃতির আবদ্ধ পানিতে সপ্তাহে অন্ততঃ একদিন ম্যালেরিওল অথবা কেরোসিন তৈলের সহিত ডিডিটি মিশাইয়া ছিটাইতে হইবে। সম্ভবমত ভরাট করিয়া দিতে হইবে। ঝোপঝাড় ও আগাছা কাটিয়া পরিষ্কার করিয়া দিতে হইবে।
ii) সন্ধ্যার কিছু পূর্বে ঘরের মধ্যে তামাক পাতা, বাসকপাতা, বচ বা সামান্য গন্ধক চূর্ণের ধোঁয়া দিয়া দরজা জানালাগুলি অন্তত ঘন্টাখানেকের জন্য বন্ধ রাখিতে হইবে।
iii) বাড়ীর ও পাড়ার নর্দমাগুলিতে ময়লা জমিতে দেওয়া উচিত নয়। মাঝে মাঝে সেগুলি পরিষ্কার করিয়া ডিডিটি বা গ্যামাক্সিন ছিটাইয়া দিতে হইবে।
iv) বাড়িতে বা পাড়ার কোথাও ম্যালেরিয়া হইলে সুস্থ ব্যক্তিদের সপ্তাহে
তিনদিন কুইনিন বা প্যালাড্রিন সেবন করা উচিত।
 v) সন্ধ্যার পর খালি গায়ে বাইরে না থাকা এবং শয়নকালে মশারীর মধ্যে শয়ন করা উচিত।
vi) ঘরের ভিতর যাহাতে মশা না থাকিতে পারে সেজন্য একমাস অন্তর একভাগ কেরোসিন পাঁচ ভাগ ডিডিটি মিশাইয়া ঘরের দেওয়ালে ছিটাইয়া দিতে হইবে।
vii) যাহার ম্যালেরিয়া হইয়াছে তাহাকে যথাসম্ভব পৃথক ঘরে এবং মশারীর মধ্যে রাখা উচিত।-


প্রশ্ন-  হোমিওপ্যাথিক পদ্ধতিতে ম্যালেরিয়ার চিকিৎসা ব্যবস্থা লিখ।
উত্তর: হোমিওপ্যাথিক পদ্ধতিতে ম্যালেরিয়ার চিকিৎসা ব্যবস্থা- ম্যালেরিয়ার
সর্বপ্রধান ঔষধ হইতেছে চায়না। তবে জ্বরের প্রকৃতি অনুসারে নিচে কয়েকটি ঔষধ নির্বাচন করা গেল। লক্ষণানুসারে ঔষধগুলি ব্যবহার করিতে হইবে। যথা-
ঘৌকালীন জুরে- ইউপেটোরিয়াম, চায়না, সালফার, এন্টিম ক্রুড।
পিত্তপ্রধান জ্বরে- ব্রায়ো, চেলিডো, ইপিকাক, পডোফাইলাম, নেট্রাম সালফ।
অগ্রগামী জ্বরে- এন্টিম টার্ট, আর্সেনিক, চিনিনাম সালফ, চায়না, নেট্রাম মিউর।
প্রাত্যহিক জ্বরে- এমোনিয়া, আর্সেনিক, ক্যাম্পিকাম, সিড্রন, জেলসিয়াম, নেট্রাম মিউর, রাসটক্স, সালফার প্রভৃতি।
প্রত্যহ একই সময় জ্বর আসিলে এরেনিয়া, সিড্রন, জেলসিমিয়াম, স্পাইজেলিয়া।
পালাজ্বরে- সিড্রন, চিনিনাম সালফ, চায়না, নেট্রাম মিউর, আর্সেনিক, ব্রায়োনিয়া, ক্যাল্ক-কার্ব, কার্বোভেজ, ইপিকাক, পালসেটিলা প্রভৃতি।
দুইদিন অন্তর জ্বরে- আর্ণিকা, আর্সেনিক, কার্বোভেজ, চায়না, ইলাটেরিয়াম, ইগ্নেশিয়া, ইপিকাক, নেট্রাম মিউর, নাক্স ভম, পালসেটিলা প্রভৃতি।
গ্রীষ্মকালীন জ্বরে- ক্যান্সিকাম, ইপিকাক, ব্রায়োনিয়া, নেট্রাম মিউর, আর্সেনিক, সালফার।
বর্ষাকালীন জ্বরে- ডালকামারা, রাস টক্স, নেট্রাম সালফ।
 শীতকালীন ও বসন্তকালীন জ্বরে- আর্সেনিক, এন্টিম টার্ট, ল্যাকেসিস,
সালফার, জেলসিমিয়াম, সিপিয়া।


প্রশ্ন- টাইফয়েড কোন শ্রেণীর সংক্রামক ব্যাধি? এই রোগের কারণসমূহ কি কি?
উত্তর : টাইফয়েড যে শ্রেণীর সংক্রামক ব্যাধি- টাইফয়েড পানি ও খাদ্যবাহিত সংক্রামক ব্যাধি।
টাইফয়েড রোগের কারণ- বিশুদ্ধ বায়ু সঞ্চালনের অভাবই এই রোগের মূল কারণ বলিয়া অনেকে অনুমান করেন। ব্যাসিলাস টাইফোসাস নামক এক প্রকার জীবাণু হইতে এই জ্বরের উৎপত্তি। রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের মল ও মুত্র মাটির মধ্য দিয়া বদ্ধ জলাশয়ে প্রবেশ করিয়া পানীয় জলের উদরস্থ হইয়া এই রোগ উৎপন্ন করে। ড্রেন বা নর্দমা হইতে নিঃসৃত দূষিত বাষ্প, সঞ্চিত মলমূত্রাদির দুর্গন্ধ প্রভৃতি কারণেও ইহা হইয়া থাকে।.


প্রশ্ন- কিভাবে টাইফয়েড রোগ বিস্তার লাভ করে?
উত্তর : যেভাবে টাইফয়েড রোগ বিস্তার লাভ করে- এই রোগের জীবাণু মলমূত্রের সহিত নির্গত হয়। ইহার সংক্রমণ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হইতে পারে।
ক) প্রত্যক্ষ সংক্রমণ- যাহারা রোগীর সেবা শুশ্রূষা করে তাহারা সাবধান না থাকিলে প্রত্যক্ষভাবে তাহারা সংক্রামিত হইতে পারে। তাহাদের হাত রোগীর মলমূত্র দ্বারা দূষিত হওয়া স্বাভাবিক। অসাবধানতা বশতঃ রোগ জীবাণু তাহাদের মধ্যে দিয়া সংক্রমণ সৃষ্টি করিতে পারে।
খ) পরোক্ষ সংক্রমণ- পরোক্ষভাবে পানি ও খাদ্যের মাধ্যমে ইহা সংক্রমণ সৃষ্টি করিতে পারে। পুকুরে ও কূপের পানিতে রোগীর কাপড় চোপড়, থালাবাসন প্রভৃতি ধৌত করার ফলে রোগ জীবাণু মিশ্রিত হইতে পারে এবং ব্যাপকভাবে সংক্রমণ সৃষ্টি করিতে পারে। রোগীর মলমূত্র অসাবধানে কোথাও ফেলিয়া রাখিলে তাহা শুকাইয়া ধুলার সাথে মিশিয়া যায়। ঐ ধুলাবালি পানির সংস্পর্শে আসিলেই অসংখ্য রোগ জীবাণু বৃদ্ধি পায়। ইহা ছাড়া মাছি, পিপিলিকা, আরসোলা প্রভৃতি কীটপতঙ্গ টাইফয়েড রোগীর মলমূত্র হইতে রোগ জীবাণু বহন করিয়া খাদ্য ও পানীয়ের সাথে মিশাইয়া দিতে পারে। এই রোগ জীবাণু দুধের মধ্যে দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং টকদুধের মধ্যে কয়েকমাস বঁচিয়া থাকে। রোগমুক্তির পরও আরোগ্যলাভকারীর শরীরে রোগ জীবাণু থাকে এবং এইরূপ ব্যক্তি বাহক হিসাবে রোগ সংক্রমণ সৃষ্টি করিতে পারে।


প্রশ্ন- টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণাবলী কি কি?
উত্তর : টাইফয়েড জ্বরের লক্ষণাবলী- টাইফয়েড জ্বর অবিরামভাবে বৃদ্ধি
পাইতে থাকে। জ্বর দিনে কিছুটা কম এবং রাত্রিতে বেশী থাকে। সেই সাথে মাথাব্যথা ও ঘাম দেখা দেয়। জ্বরের বৃদ্ধি অনুপাতে নাড়ীর গতি কম থাকে। কয়েকদিন পর পেট ফাঁপা, ঘনঘন পাতলা পায়খানা হইতে থাকে এবং রোগী প্রলাপ বকিতে থাকে। জ্বর ১০২০ হইতে ১০৪০ পর্যন্ত উঠিতে পারে। প্রথম সপ্তাহের শেষদিকে নাভির ডানদিকে ও একটু নিচে চাপ দিলে রোগী ব্যথা অনুভব করে ও বজরজ শব্দ অনুভূত হয়। জিহ্বার মধ্যভাগে সাদা ময়লা জমা কিন্তু জিহ্বার ধারগুলি লালবর্ণ, পিপাসা, নাক দিয়া রক্ত পড়া বিবমিষা প্রভৃতি লক্ষণ থাকে। মুখাকৃতি বিবর্ণ, ভাবাবেগ শূন্য ও নৈরাশ্যভাব দেখা দেয়।


প্রশ্ন-  টাইফয়েড জ্বরের জটিল ও বিপজ্জনক উপসর্গসমূহ কি কি?
উত্তর: টাইফয়েড জ্বরের জটিল ও বিপজ্জনক উপসর্গসমূহ- টাইফয়েড জ্বরে রোগীর নিম্নলিখিত জটিল ও বিপজ্জনক উপসর্গ সৃষ্টি হইতে পারে। যথা-
১) রোগীর ফুসফুস, নাসিকা, টনসিল বা দাঁতের মাড়ি হইতে রক্তস্রাব হইতে পারে। অস্ত্র ক্ষত হইয়া মলদ্বার দিয়া রক্তস্রাব হইতে পারে ও রোগী হিমাঙ্গ হইয়া মারা যাইতে পারে।
২) প্রবল উদরাময়ের জন্য রোগী অবসন্ন হইয়া পড়িতে পারে।
পারে। ৩) প্রথমে হঠাৎ জ্বরের বৃদ্ধি এবং সঙ্গে সঙ্গে নিমোনিয়া বা পুরিসি হইতে
৪) পরবর্তী অবস্থা প্রাথমিক অবস্থা হইতে জটিলতর হইতে পারে। কোন কোন ক্ষেত্রে পাঁচ বা ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত রোগ ভোগ করিতে হইতে পারে।
৫) অস্ত্র আবরক পর্দার প্রদাহ হইতে পারে। হঠাৎ উদরে তীক্ষ্ণ বেদনা, উদর স্ফীতি, বমি, জ্বরের বৃদ্ধি প্রভৃতি লক্ষণ দেখা দিতে পারে। রোগীর চেহারার পরিবর্তন হয় এবং ২/১ দিনের মধ্যে মৃত। হইতে পারে।
৬) শিশুদের ক্ষেত্রে ব্রঙ্কোনিমোনিয়া দেখা দেয় এবং অবস্থা জটিল হইতে পারে। বয়স্ক লোকের ক্ষেত্রে পীড়া অধিকতর কঠিন হয়। পারে। 
৭) গর্ভাবস্থায় টাইফয়েড হইলে রোগ জটিল হইতে পারে ও ভ্রুণ মারা যাইতে
৮) আহারের দোষে বা অমিতাচারের জন্য রোগের পুনরাক্রমণ হইতে পারে।
দুর্বল ও রুগ্ন ব্যক্তিদের পীড়া হইলে প্রায়ই কঠিনাকার ধারণ করে।


প্রশ্ন-  টাইফয়েড রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাসমূহ কি কি?
উত্তর : টাইফয়েড রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাসমূহ- কোন এলাকায় টাইফয়েড জ্বর দেখা দিলে নিম্নলিখিত ব্যবস্থাগুলি গ্রহণ করিতে হইবে। যথা-
i) কোন এলাকায় টাইফয়েড জ্বর দেখা দিলে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এই ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ত্বরিৎ সংবাদ দিতে হইবে।
'ii) রোগীকে হাসপাতালে প্রেরণ করিতে হইবে। নতুবা রোগীকে আলাদা রাখিয়া চিকিৎসা করিতে হইবে।
iii) রোগীর মলমূত্র একটি পাত্রে সংগ্রহ করিয়া ফিনাইল, ব্লিচিং পাউডার বা চুনের পানি মিশাইয়া মাটির নিচে পুঁতিয়া ফেলিতে হইবে।
iv) রোগীর বিছানা, চাদর, বালিশের ওয়ার, কাপড় প্রভৃতি পুষ্করিণী বা কুয়ার ধারে কাচা উচিত নয়। ২/৩ ভাগ পানিতে ১ ভাগ কার্বলিক এসিড, মিশ্রিত দ্রবে ঐগুলি ৩/৪ ঘণ্টা ভিজাইয়া সাবান পানিতে ফুটাইয়া বাড়ীতে কাচিয়া দিতে হইবে।
v) রোগীর মলমূত্রে যাহাতে মাছি বসিতে না পারে। রোগী আরোগ্য হওয়ার পরও অন্ততঃ একমাস যেখানে সেখানে মলমূত্র ত্যাগ করিবে না। শৌচকর্মের পর প্রতিবার সাবান দিয়া হাত পরিষ্কার করিবে।
vi) পানি, দুধ বা অন্য তরল খাদ্য ২০ মিনিটকাল আগুনে ফুটাইয়া পান করা কর্তব্য।
vii) কাহারো খালি পেটে, খালি গায়ে এবং খালি পায়ে থাকা উচিত নয়।
viii) অতিরিক্ত ভোজন ও রাত্রিজাগরণ বর্জন করিতে হইবে।
ix) টাটকা খাদ্য ও ঈষৎ গরম গরম ভাত তরকারী খাওয়া ভাল।
x) খাদ্য দ্রব্য ঢাকিয়া রাখিতে হইবে যাহাতে উহাতে মাছি রসিতে না পারে।
বাজারের খোলা খাবার খাওয়া বন্ধ করিতে হইবে।
xi) বাড়ী ও গ্রামে প্রত্যেক সুস্থ ব্যক্তির টাইফয়েড রোগের প্রতিষেধক টিকা নেওয়া উচিত।


প্রশ্ন- হোমিওপ্যাথিক পদ্ধতিতে টাইফয়েড রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থা বর্ণনা কর।
উত্তর: হোমিওপ্যাথিক পদ্ধতিতে টাইফয়েড রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থা-টাইফয়েড রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিম্নরূপ। যথা-
জ্বরের প্রথমাবস্থায়:
ব্রায়োনিয়া- অতিরিক্ত অবসাদ ও দুর্বলতা। মাথায়, কটিতে ও হাত পায়ে বেদনা ও নড়া চড়ায় বৃদ্ধি। পুরাতে প্রদাহসহ তীক্ষ্ণ ব্যথা, শ্বেত লেপাবৃত জিহ্বা।
ব্যাপটিশিয়া- জিহ্বায় হলদে বা সাদা ময়লা, পাতলা দুর্গন্ধময় দাস্ত। প্রথম
হইতে রোগী অত্যন্ত অবসাদগ্রস্ত। মুখাবয়ব আরক্তিম, থমথমে ভাব। সারা শরীরে থেতলানো বেদনা। মুখ হইতে মলদ্বার পর্যন্ত ক্ষত।
জেলসিমিয়াম- প্রথমাবস্থায় রোগী অতিশয় দুর্বলতা বোধ করে। তন্দ্রাচ্ছন্ন, চোখ বুজিয়া থাকে। হাঁটিতে পা কাঁপে। নাড়ী ধীর ও দুর্বল।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহে:
আর্নিকা রোগের পরিণত অবস্থাতে ইহা ব্যবহার্য। অচৈতন্য অবস্থা। নীচের চোয়াল ঝুলিয়া পড়ে। শরীরের নানা স্থানে কালশিরা দাগ।
আর্সেনিক- রোগীর মারাত্মক অবস্থায় ইহা ব্যবহার্য। ভয়ানক পিপাসা, ব্যথা,
ছটফটানি, অবসাদ ও পেটের দোষ।
এপিস- মেনিনজাইটিস হইয়া সংজ্ঞাহীন। মাঝে মাঝে ভীষণ চীৎকার। পেট অত্যধিক ফাঁপিয়া ওঠে ও তাহাতে স্পর্শ সহ্য হয় না।
বিকার অবস্থা:
বেলেডোনা- মাথায় অত্যধিক রক্তাধিক্য ও. উত্তেজনাপূর্ণ উগ্র বিকার। উগ্র চীৎকার ও বল প্রয়োগ করিয়া পালাইয়া যাইবার প্রবৃত্তি।
ল্যাকেসিস- সংজ্ঞাহীন অবস্থায় বিড়বিড় করিয়া বকে। জিহ্বা শুষ্ক, পরে বাদামী, জিহ্বা কাঁপে। পঁচা রক্তস্রাব উহাতে পোড়া ঘার মত জম্য রক্ত।
ইহা ছাড়া লক্ষণানুসারে লাইকোপোডিয়াম, এসিড মিউর, ওপিয়াম, ফসফরাস, পাইরোজেন, রাস টক্স, হেলিবোরাস, কলচিকাম, কার্বোভেজ, এরাম ট্রাই প্রভৃতি ঔষধগুলিও ব্যবহৃত হয়।


প্রশ্ন-  যক্ষ্মা কোন শ্রেণীর সংক্রামক ব্যাধি? যক্ষারোগের বিস্তৃতির কারণ বর্ণনা কর।
উত্তর: যক্ষ্মার সংক্রমণ শ্রেণী- যক্ষ্মা শ্লেষ্মা কণা ও বায়ুবাহিত সংক্রামক ব্যাধি। যক্ষ্মা রোগের বিস্তৃতির কারণ- এই রোগের প্রধান ও প্রত্যক্ষ কারণ টিউবারকুলার ব্যাসিলাস বা যক্ষ্মারোগের জীবাণু। এই জীবাণু সাধারণতঃ দুর্বল ফুসফুসের মধ্যে আশ্রয় গ্রহণ করিয়া, পীড়া সৃষ্টি করিয়া থাকে। বংশগত দোষ হইতে, পীড়ার উৎপত্তি। যক্ষ্মা রোগীর কফ, থুথু প্রভৃতি যেখানে সেখানে ফেলিলে সেগুলি শুকাইয়া ধূলা ও বাতাসের সাথে মিশিয়া সুস্থ লোকের, দেহে প্রবেশ করে। মানবদেহে এই জীবাণু চারটি উপায়ে প্রবেশ করে।
ক) প্রশ্বাসের সঙ্গে।
খ) খাদ্য ও পানীয়ের সঙ্গে।
গ) ক্ষত ত্বকের শ্লেষ্মা ঝিল্লীর মধ্য দিয়া।",
ঘ) মাছি, পিপিলীকা প্রভৃতি কীট পতঙ্গ দ্বারা।


প্রশ্ন-  যক্ষ্মা রোগের সংক্রমণের কারণ আলোচনা কর।
উত্তর: যক্ষ্মা রোগের সংক্রমণের কারণ- যক্ষ্মা রোগের সংক্রমণের কারণ নিম্নরূপ। যথা-
i) শ্লেষ্মা, কফ, ধূলা, দূষিত দুগ্ধ ও যক্ষ্মা বীজাণুপূর্ণ খাদ্য।
ii) ঠাণ্ডা ও আর্দ্র বাসগৃহে বসবাস।
iii) অপুষ্টিকর খাদ্য ভোজন, প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের অভাব।
iv) মাতা পিতার এই রোগে ভোগিবার ইতিহাস।
v) অতিরিক্ত জটিল পরিস্থিতিতে কাজকর্ম করা, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বসবাস।
vi) বাল্যবিবাহ, পুনঃপুনঃ গর্ভধারণ প্রভৃতি।
vii) নৈতিক অবনতি।
viii) একপাত্রে ভোজন ও পান করা প্রভৃতি।


প্রশ্ন-  যক্ষ্মা রোগের বিস্তার প্রণালী আলোচনা কর।
উত্তর : যক্ষ্মা রোগের বিস্তার প্রণালী- যক্ষ্মা রোগীর পুথু, কফ ও নিঃশ্বাসের মধ্য দিয়া অসংখ্য রোগজীবাণু বাহির হয়। রোগী হাঁচিলে, কাশিলে, জোরে কথা বলিলে তার সামনে কিছুদূর পর্যন্ত বাতাসে সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম কণা ছিটাইয়া যায়। এই ড্রপলেট সংক্রমণ দ্বারা অসংখ্য রোগজীবাণু সুস্থ ব্যক্তির নাকে মুখে প্রবেশ করে। রোগীর সাথে একত্রে বসবাস করিলে কিংবা তাহাদের উচ্ছিষ্ট খাইলে রোগাক্রান্ত হইবার বিশেষ সম্ভাবনা থাকে। তাহা ছাড়া রোগীর থুথু, কফ প্রভৃতি রাস্তায় ধূলার সহিত মিশিয়া লোকের নাকে মুখে প্রবেশ করিলেও ঐ রোগ সংক্রমণের যথেষ্ট আশংকা থাকে।
যে বাড়ীতে, পাড়ায় বা মহল্লায় ভালভাবে বাতাস চলাচল করিতে পারে না, বৎসরের অধিকাংশ সময়ই রৌদ্র প্রবেশ করিতে পারে না, ঘরের মেঝে ও আশে পাশে সর্বদা স্যাঁত, সেঁতে থাকে, ভিতরে বাহিরে আবর্জনায় ভরা থাকে, সেখানে যক্ষ্মার জীবাণু দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এইসব স্থানের লোকেরা যদি পুষ্টিকর খাদ্য খাইতে না পায়, দিনরাত হাড়ভাঙ্গা খাটুনি করে, একঘরে গাদাগাদি করিয়া শোয়, বারোমাসই ছোটখাট অসুখে ও অশান্তিতে ভুগিতে থাকে, তাহাদের ক্ষেত্রে এই রোগের অধিক বিস্তৃতি দেখা যায়।
'মাছি, পিঁপড়া, কীটপতঙ্গ, ক্ষয় রোগীর কাশি, বমি বা উচ্ছিষ্ট খাদ্যে মুখ দিয়া
তারপর সুস্থ ব্যক্তির খাদ্যের উপর বসে। তাহাছাড়া অনেক গরুর ফুসফুসে, পেটে বা স্তনে যক্ষ্মা রোগের জীবাণু থাকে। তাহাদের দুধ কাঁচা অবস্থায় বা অল্প ফুটাইয়া পান করিলেও সুস্থ লোক রোগাক্রান্ত হইতে পারে।


প্রশ্ন- যক্ষ্মা রোগের লক্ষণাবলী কি কি?
উত্তর: যক্ষ্মা রোগের লক্ষণাবলী- নিচে যক্ষ্মা রোগের লক্ষণাবলী আলোচনা করা হইল। যথা-
ⅰ) খুসখুসে কাশি ও ঘুসঘুসে জ্বর এই রোগের প্রধান লক্ষণ।
 ii) দেহের ওজন কমিয়া যাওয়া।
iii) বিকালের দিকে অল্প অল্প জ্বর হয়।
iv) শরীর ধীরে ধীরে দুর্বল হইয়া যায় ও রাত্রিতে ঘাম হয়।
v) ক্ষুধামান্দ্য ও হজম শক্তি কমিয়া যায়।
vi) কফের সহিত রক্ত পড়ে।
vii) শ্বাসকষ্ট। কথা বলিতে দম আটকাইয়া যায়।
viii) বুকে বেদনা।


প্রশ্ন- যক্ষ্মারোগ প্রতিরোধ বা প্রতিবিধানের ব্যবস্থাগুলি কি কি বর্ণনা কর।
উত্তর : যক্ষ্মারোগ প্রতিরোধ বা প্রতিবিধানের ব্যবস্থা- নিচে যক্ষ্মারোগ
প্রতিরোধ ব্যবস্থা আলোচনা করা হইল। যথা-
১) রোগের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়া মাত্র যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে গিয়া রোগ নির্ণয় করিতে হইবে। যক্ষ্মা রোগ হইয়াছে প্রমাণিত হইলে রোগীকে হাসপাতালে পাঠাইতে হইবে। তাহা সম্ভব না হইলে বাড়ীতে একটা পৃথক কামরায় রোগীকে স্বতন্ত্রভাবে রাখিয়া চিকিৎসা করিতে হইবে।
২) রোগীর জন্য পৃথক আসবাবপত্র থালাবাসনের ব্যবস্থা করিতে হইবে। রোগীর ব্যবহৃত আসবাবপত্র ও থালা বাসন অন্য কেহ ব্যবহার করিতে পারিবে না।
৩) রোগী যেখানে সেখানে কফ, থুথু ও শ্লেষ্মা ফেলিবে না। একটি পিকদানীতে রোগীর কফ থুথু সংগ্রহ করিতে হইবে এবং বিশোধন ঔষধ দ্বারা বিশোধন করিয়া দূরে কোথাও পুঁতিয়া ফেলিতে হইবে।
৪) জনবহুল স্থানে রাস্তাঘাট, বাড়ীঘর এমনভাবে নির্মাণ করিতে হইবে যেন সব সময় প্রচুর আলোবাতাস পাওয়া যায়।
৫) কলকারখানাতে আইনের দ্বারা ধূলা ও ধোঁয়া নিবারণের ব্যবস্থা করিতে হইবে।
৬) বাড়ীর ভিতরে বা বাহিরে কোথাও ধূলা বা ঝুল জমিতে দিতে নাই। বাড়ীতে তেলাপোকা, পিঁপড়া, মাছির উপদ্রব কমাইতে হইবে।
৭), প্রত্যেকে নিয়মিতভাবে টাটকা ও পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়া উচিত। রাত্রিজাগরণ ও অতিরিক্ত পরিশ্রম বর্জন করিতে হইবে। হোটেল ও রাস্তাঘাটের খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করিতে হইবে।
(৮) শহরের নোংরা বস্তির উন্নতি সাধন প্রয়োজন। নানাভাবে বিজ্ঞাপন দ্বারা যেখানে সেখানে থুথু ফেলা বন্ধ করিতে হইবে।
৯) শুধু রোগীর ঘরে নয়- সমস্ত ঘরই প্রতিদিন ফিনাইল বা ডেটল মিশানো পানিতে ধোওয়া দরকার। রোগীর আরোগ্যের পর বা মৃত্যুর পর ঘরে দেওয়ালগুলিতে চুনকাম করাইয়া পরপর তিনদিন ঘরে ধূপধুনা গন্ধক পোড়ানো উচিত। রোগীর বিছানাপত্র আগুনে পোড়াইয়া ফেলা উচিত।
১০) সদ্যজাত শিশু হইতে আরম্ভ করিয়া সকলকে ৫ বৎসর অন্তর পরীক্ষা করিয়া যক্ষ্মা প্রতিষেধক ইনজেকশান বা বি.সি.জি ভ্যাকসিন দেওয়া উচিত।


প্রশ্ন-  কিভাবে যক্ষ্মা রোগ নির্ণয় করা যায়?
উত্তর: যক্ষ্মা রোগ নির্ণয়- টিউবারকুলিন টেস্ট, ই.এস.আর. টেস্ট, এক্স-রে, কফ প্রভৃতি পরীক্ষা দ্বারা যক্ষ্মারোগ নির্ণয় করা যায়। এক্সরে দ্বারা ফুসফুসের সাদা দাগ দেখা যায় এবং সহজেই রোগ নির্ণীত হয়।
কর। 


প্রশ্ন-  হোমিওপ্যাথিক পদ্ধতিতে যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থা বর্ণনা
উত্তর: হোমিওপ্যাথিক পদ্ধতিতে যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থা-লক্ষণানুসারে নিম্নের ঔষধগুলি এই রোগে ব্যবহার করা হয়। যথা-
ফসফরাস- যক্ষ্মার ইহা শ্রেষ্ঠ ঔষধ। যে সকল যুবক যুবতীদের শরীরের বাড় বেশী অথবা শৈশবে রিকেট রোগে ভূগিয়াছে তাহাদের ক্ষেত্রে ইহা উপযোগী। মরিচার মত গয়ারের বর্ণ।
আর্সেনিক আয়োড-প্রথমাবস্থায় অতিশয় দুর্বলতা। নাড়ী দ্রুত ও কৃঞ্চল। পুনঃপুনঃ জ্বর, ঘর্ম এবং শীর্ণতা, হাত পা ফোলা ও উদরাময়।
সালফার-ধাতুগত লক্ষণ থাকিলে প্রথমাবস্থায় উপযোগী। ইহা উচ্চ শক্তিতে ব্যবহার করা উচিত। রোগী শরীরে আগুনের মত গরম বোধ করে। পায়ের জ্বালার জন্য পা বাহিরে রাখে। ব্যথা ও শুষ্ক কাশি।
 টিউবারকুলিনাম-ধাতুগত লক্ষণ মিলাইয়া রোগের পূর্ণ বিকাশাবস্থায় ব্যবহার করা উচিত।
ব্যাসিলিনাম-যক্ষ্মা ধাতের রোগী দ্রুত শুকাইতে থাকে। পুরাতন রোগে বা নিমোনিয়া হইয়া ফুসফুসে গর্ত হয়।
ইহাছাড়া লক্ষণানুযায়ী কেলিকার্ব, ক্যালকেরিয়া কার্ব, আয়োভাম, স্ট্যানাম, ফেরায় মেট, কেলি আয়োড, ফেলান্ড্রিয়াম প্রভৃতি ঔষধ উপযোগী।


প্রশ্ন-  কলেরা কোন শ্রেণীর সংক্রামক ব্যাধি? কলেরা রোগ বিস্তার, আক্রমণ বা সংক্রমণ প্রণালী বর্ণনা কর।
উত্তর: কলেরা- কলেরা একটি পানি ও খাদ্যবাহিত সংক্রামক ব্যাধি। ভিব্রিও কলেরা নামক এক প্রকার জীবাণু এই রোগের কারণ।
কলেরা রোগ বিস্তার ও সংক্রমণ প্রণালী- নিম্নলিখিতভাবে কলেরা রোগের বিস্তার বা সংক্রমণ ঘটিয়া থাকে। যথা-
i) রোগীর মল ও বমির সহিত কলেরা জীবাণু নির্গত হয়। এই মল ও বমি কোনভাবে খাদ্য বা পানীয় দ্রব্যের সহিত মিশ্রিত হইলে সেই খাদ্য ও পানীয় ব্যবহারে কলেরা রোগ সংক্রমিত হয়।
ii) মাছি কলেরা জীবাণুর প্রধান বাহক। কলেরা রোগীর মল ও বমির উপর মাছি বসিলে সে মাছি যদি কোন খাদ্য দ্রব্যের উপর বসে তাহা হইলে তাহার পায়ে ও ডানায় লাগিয়া থাকা কলেরা জীবাণু খাদ্যে সংক্রামিত হয় এবং কলেরা রোগ বিস্তার লাভ করে।
iii) নদীর পানিতে, পুকুরে বা কুয়ার নিকটে কলেরা রোগীর মল, বমি, কাপড়, চোপড় ধৌত করিলে ঐ সমস্ত জলাশয়ের পানি দূষিত হয় এবং দূষিত পানি ব্যবহারের ফলে কলেরা মহামারী আকারে দেখা দেয়।
iv) শহরাঞ্চলে ময়লার নল এবং পানীয় পানির নল মাটির নিচে প্রায় পাশাপাশি থাকিতে পারে। ময়লার পাইপে প্রচুর পরিমাণে কলেরা জীবাণু তাজা অবস্থায় থাকে। এই ময়লা নলের কোথাও যদি ফাটিয়া গিয়া তরল ময়লা পানি চুয়াইয়া মাটিতে মিশে এবং তাহারই খানিকটা যদি বিশুদ্ধ পানির পাইপের আলগা হইয়া যাওয়া জোড়ের মুখ দিয়া ভিতরে প্রবেশ করে তাহা হইলে পানীয় পানি দূষিত হইয়া পড়ে এবং ঐ পানি পানে রোগের বিস্তার ঘটে।
v) রাস্তা বা খোলা জায়গায় বিক্রীত কাটা ফল, ফলের রস, সরবত বা কোন খাদ্য দ্রব্য কলেরা জীবাণু দ্বারা অতি সহজে দূষিত হয় এবং রোগের বিস্তৃতি ঘটে।
vi) খোলা পায়খানা, মেথর খাটা পায়খানা প্রভৃতি যে সকল স্থানে আছে সে সকল স্থানে মাছি ও কীট পতঙ্গের আবাসস্থল তথা কলেরা জীবাণুর আড়ত হইয়া থাকে।


প্রশ্ন- কলেরা রোগের কারণসমূহ কি কি?
উত্তর : কলেরা রোগের কারণসমূহ- কলেরা একটি সংক্রামক রোগ। 'কমা ভিব্রিও' নামক একপ্রকার রোগ জীবাণু দ্বারা এই রোগ উৎপন্ন হয়। এই জীবাণু মানুষের ক্ষুদ্রান্ত্রে আশ্রয় গ্রহণ করে। ইহারা রোগীর বা বাহকের অর্থাৎ যাহার শরীরে এই জীবাণু আছে তাহার মলমূত্রের ও বমির সহিত নির্গত হয়। এই জীবাণু খাদ্য বা পানীয়ের সংস্পর্শে আসিলে কোন সুস্থ ব্যক্তি ঐ খাদ্য পানীয় গ্রহণে জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়। রোগমুক্ত ব্যক্তির শরীরে সাধারণতঃ দুই সপ্তাহ কাল পর্যন্ত রোগজীবাণু থাকিতে পারে। এই রোগের উপ্তিকাল ১ হইতে ৫দিন।


প্রশ্ন- কলেরা রোগের লক্ষণসমূহ লিখ।
উত্তর: কলেরা রোগের লক্ষণসমূহ- নিচে কলেরা রোগের লক্ষণসমূহ উল্লেখ
করা হইল। যথা-
i) প্রথমে উদরাময় আকারে পাতলা পায়খানা হয়। সেই সাথে শিরঃপীড়া ও বমি বমি ভাব দেখা দেয়। ক্রমশঃ পাতলা পায়খানা ও আনুষঙ্গিক লক্ষণগুলি তীব্র আকার ধারণ করে। তারপর মলের স্বাভাবিক বর্ণ চলিয়া যায় এবং চাউল ধোয়া পানির মত কিংবা ভাতের মাড়ের মত বা বর্ণশূন্য পানির মত ভেদ হইতে থাকে।
ii) প্রচুর পিপাসা হয় এবং জলীয় বমন দেখা দেয়।
iii) পেটে খুব বেদনা হয়। আবার বেদনাহীন ভেদও হইতে পারে।
iv) ক্রমান্বয়ে খিলধরা, মূত্ররোধ, চেহারা নীলাভ বর্ণের হওয়া ও হাত পায়ের আঙ্গুলের চামড়া কোঁচকাইয়া যাইতে থাকে।
v) চক্ষু কোটরাগত, ঠাণ্ডা ঘাম এবং শীতল নিঃশ্বাস ত্যাগ করিতে পারে।
vi) শরীরে পানিশূন্যতা ও রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।
 vii) নাড়ী ক্ষীণ হইতে ক্ষীণতর হইতে থাকে।


প্রশ্ন- কলেরা রোগ প্রতিরোধের উপায় বর্ণনা কর।
উত্তর: কলেরা রোগ প্রতিরোধের উপায়- কোন স্থানে কলেরা দেখা দিলে
নিম্নলিখিত ব্যবস্থা গ্রহণে রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। যথা-
i) কোন স্থান বা অঞ্চলে কলেরা দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এই' ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংবাদ প্রেরণ করিতে হইবে।
ii) রোগীকে সম্ভব হইলে হাসপাতালে পাঠাইতে হইবে। বাড়ীতে চিকিৎসা চলিলে রোগীকে সকলের থেকে আলাদাভাবে রাখিতে হইবে।
iii) রোগীর বিছানাপত্র, কাপড় চোপড়, থালা বাসন কোন পুকুর, নদী বা কুপের নিকট ধৌত করা নিষেধ।
iv) যে সকল খাদ্য পেটের অসুখ সৃষ্টি করিতে পারে ঐ সকল খাদ্য বজন করিতে হইবে। পাতলা পায়খানা হওয়ার সাথে সাথে লবণ সরবত বা খাওয়ার স্যালাইন খাওয়াইতে হইবে।
v) বাসী, পচা ও অত্যধিক পাকামজা ফল খাওয়া বর্জন করিতে হইবে।
vi) রোগীর বমি ও মল একটি পাত্রে সংগ্রহ করিয়া উহাতে ব্লিচিং পাউডার, চুনের পানি বা ফিনাইল দিতে হইবে এবং মাটির নিচে পুঁতিয়া রাখিতে হইবে।
vii) টিউবওয়েলের পানি পান করিতে হইবে। তাহা না হইলে অন্ততঃ ২০ মিনিটকাল ফুটাইয়া পানি পান করা উচিত। অন্যান্য পানি ব্লিচিং পাউডার বা পটাশিয়াম পারমাঙ্গানেট দ্বারা বিশোধন করিয়া লওয়া উচিত।
viii) এই রোগ দেখা দিলে অধিক সময় খালি পেটে থাকিতে নাই। পাকস্থলী শূন্য থাকিলে এই রোগ সহজে আক্রমণ করে।
ix) খাদ্যদ্রব্য সব সময় ঢাকিয়া রাখিতে হইবে যাহাতে মাছি বসিতে না পারে। বাজারের খোলা খাবার খাওয়া বন্ধ করিতে হইবে। খাদ্য দ্রব্য সব সময় গরম অবস্থায় খাইতে হইবে।
x) আস্তাকুঁড়, নর্দমা, জঙ্গল প্রভৃতি পরিষ্কার করিয়া মাছির জন্মরোধ করিতে হইবে।



প্রশ্ন-  ডি-হাইড্রেশন বলিতে কি বুঝ?
উত্তর: ডি-হাইড্রেশন- ডি-হাইড্রেশন দেহের এমন একটি অবস্থা যেখানে কলাস্থ পানির মাত্রা স্বাভাবিকের চাইতে কমিয়া যায়। ডি হাইড্রেশন শুধুমাত্র দেহের পানির স্বল্পতায় সীমাবদ্ধ থাকিতে পারে বা ইহার সাথে সোডিয়ামের স্বল্পতাও যুক্ত থাকিতে পারে। অর্থাৎ দেহে তরল পদার্থ অথবা তড়িতায়ন হ্রাস পাইলে বা তরল পদার্থ ও তড়িতায়নের উভয়ের হ্রাস ঘটিলে দেহের যে অবস্থা সৃষ্টি হয়; তাহাকে ডি-হাইড্রেশন বলে।
হয়? 


প্রশ্ন-  ডি-হাইড্রেশন মিকচার কাহাকে বলে? ইহা কিভাবে প্রস্তুত করা
উত্তর: ডি-হাইড্রেশন মিকচার- যে সরবত বা মিকচার পান করিলে দেহের ডি-হাইড্রেশন অবস্থা বা পানিশূন্যতা দূর হয় তাহাকে ডি-হাইড্রেশন মিকচার বলে।
ডি-হাইড্রেশন মিকচার প্রস্তুত প্রণালী- ইহার প্রস্তুত প্রণালী নিয়ে দেওয়া হইল। যথা-
১ পিটার সিদ্ধ পানির সঙ্গে
৪০ গ্রাম চিনি বা ২০ গ্রাম গ্লুকোজ
২ গ্রাম লবণ
১২ গ্রাম পটাশিয়াম ক্লোরাইড
অথবা,
৮ চা চামচ গুড়
১ চা চামচ লবণ মিশাইতে হইবে।



প্রশ্ন- খাওয়ার স্যালাইনের সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ কি কি?
উত্তর: খাওয়ার স্যালাইনের সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ- খাওয়ার স্যালাইনের সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ নিম্নরূপ। যথা-
সুবিধা-
i) ইহা তৈরীর পদ্ধতি খুব সহজ।
ii) তৈরী উপকরণসমূহ সস্তা ও সহজে পাওয়া যায়।
iii) গ্রামে ও ঘরে ইহা তৈরী ও ব্যবহার করা যায়।
iv) অতিরিক্ত পানি সংস্থাপনের সম্ভাবনা ইহাতে কম। তৃষ্ণা নিবৃত্তি সাধারণতঃ এই অতিরিক্ত পানি সংস্থাপন প্রতিরোধ করে।
v) উদরাময়ের প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যবহার করিতে শুরু করিলে ইহা পানিশূণ্যতা প্রতিরোধ করে।
vi) শক ব্যতীত প্রায় সকল রোগীর ক্ষেত্রেই ইহা ব্যবহার করা যায়।
অসুবিধা-
ⅰ) শক থাকিলে ইহা ব্যবহার করা যায় না।
ii) ইহার ফল ধীরে ধীরে লাভ করা যায়।
iii) দ্রুত প্রতিস্থাপনের জন্য উপযুক্ত নয়।
iv) প্রয়োজনের অতিরিক্ত পরিমাণে দ্রুত নেওয়া যায় না।
v) যতটুকু পরিমাণ দ্রবণ দেওয়ার প্রয়োজন তাহা দেওয়ার কোন সুনির্দিষ্ট পন্থা নাই।
vi) প্রয়োজনের সাথে তাল মিলাইয়া কমবেশী করা বা নিয়ন্ত্রণ করা কষ্টসাধ্য।


প্রশ্ন-  হোমিওপ্যাথিক পদ্ধতিতে কলেরার চিকিৎসা ব্যবস্থা বর্ণনা কর।
উত্তর : হোমিওপ্যাথিক পদ্ধতিতে কলেরার চিকিৎসা ব্যবস্থা- কলেরা রোগীর চিকিৎসা করার জন্য বেশী সময় পাওয়া যায় না। অল্প সময়ের মধ্যে প্রতিক্রিয়া অবস্থা আসিয়া রোগী আরোগ্য বা মৃত্যু হয়। লক্ষণ অনুসারে নিম্নের ঔষধগুলি প্রযোজ্য। যথা-
আক্রমণ অবস্থায়- একোনাইট, এসিড কার্বলিক, এন্টিম টার্ট, ক্যাক্ষর, কলচিকাম, ইলাটেরিয়াম, আইরিস, এলো, এপিস, ইপিকাক, নাক্স, পালসেটিলা, ম্যাগ কার্ব, রিউম, পডোফাইলাম, রিসিনাস, আর্সেনিক, এসিড ফস প্রভৃতি। 
পূর্ণ বিকশিত অবস্থায়- একোনাইট র‍্যাডিক্স, আর্সেনিক, কুপ্রাম মেট, সিকেলি, এন্টিম টার্ট, এসিড কার্ব, ভিরেট্রাম, ক্যাক্ষর, বিসমাথ, কুপ্রাম আর্স, কেলিফস, জ্যাট্রোফা, রিসিনাস, কার্বোভেজ, কলচিকাম।
হিমাঙ্গ অবস্থায়- ক্যাক্ষর, কার্বোভেজ, কুপ্রাম সালফ, রিসিনাস, ভিরেট্রাম, এসিড হাইড্রো, কোব্রা, কেলি বাইক্রম, ল্যাকেসিস, আর্সেনিক, সিকেলি।


প্রশ্ন-  বসন্ত কোন শ্রেণীর সংক্রামক ব্যাধি? বসন্ত রোগের কারণ কি?
উত্তর: বসন্ত- বসন্ত একটি শ্লেষ্মা ও বায়ুবাহিত সংক্রামক রোগ।
বসন্ত রোগের কারণ- ভেরিওলা মেজর এবং ভেরিওলা মাইনর নামক ভাইরাস
জীবাণু এই রোগের কারণ। ইহা রোগীর ক্ষতের মামড়ির মধ্যে অনেকদিন সক্রিয় থাকে।



প্রশ্ন- বসন্ত রোগের সংক্রমণ বা বিস্তারের কারণ কি?
উত্তর: বসন্ত রোগের সংক্রমণ বা বিস্তারের কারণ- এই রোগের উণ্ডিকাল সাধারণতঃ ১২ দিন ধরা হয়। অনেকের মতে ইহার উপ্তিকাল ৫ হইতে ২১ দিন। বসন্তের জীবাণু সাধারণতঃ রোগীর নিঃশ্বাস, হাঁচি, কাশি প্রভৃতি হইতে বায়ুবাহিত হইয়া সুস্থ লোকের নাকের মধ্যে প্রবেশ করে। তারপর তাহারা ফুসফুসের মধ্যে যায় এবং সেখান হইতে চর্মের নিচে আসিয়া পৌছাইলে রোগলক্ষণ প্রকাশ পায়। বসন্তে র গুটির রসে ও শুষ্ক চর্ম বা মামড়ির মধ্যে প্রচুর জীবাণু থাকে। ঐগুলি শুধু সেবাকারীদের মধ্যে নয় বাড়ীর অধিবাসী এবং পাড়া প্রতিবেশীদের মধ্যেও ছড়াইতে পারে। গুটিকা যখন শুকাইতে থাকে এবং খোসা উঠিতে থাকে তখনই সংক্রমণের ভয় বেশী। ঐ সময় রোগ জীবাণু বায়ুর সাথে মিশিয়া সুস্থ ব্যক্তির শ্বাসপথে তাহার শরীরে প্রবেশ করে। তাই সমস্ত ক্ষতের খোসা উঠিয়া ক্ষত ভালভাবে শুকাইয়া না যাওয়া পর্যন্ত রোগীকে পৃথক রাখিতে হইবে। রোগীর বিছানা, কাপড় চোপড় ও ব্যবহৃত জিনিষপত্র হইতেও রোগ সংক্রমিত হইতে পারে। মাছি ও অন্যান্য কীটপতঙ্গ রোগীর দেহের ক্ষত, মলমূত্র, কফ হইতে রোগজীবাণু বহন করিয়া রোগ বিস্তার করিতে পারে।
 


প্রশ্ন-  বসন্ত রোগের লক্ষণসমূহ কি কি?
উত্তর : বসন্ত রোগের লক্ষণসমূহ- লক্ষণ হিসাবে বসন্ত রোগ ভোগের কালকে
তিনটি অবস্থায় ভাগ করা যায়। যথা-
১) আক্রমণাবস্থায়- প্রথমে ১০৩০-১০৪০ জ্বরসহ গায়ে বেদনা, মাজায় ও পিঠে বেদনা হয়। জ্বর তীব্র হয় সর্বাঙ্গের বেদনার তীব্রতাও দেখা যায়।
২) গুটিকা নির্গমণাবস্থা-শরীরে গুটিকা বাহির হওয়া পর্যন্ত জ্বর বাড়িতে থাকে।
আক্রমণের তৃতীয় দিনে জ্বর ছাড়িয়া যায় এবং মুখে, কপালে, হাতে ছোট ছোট শক্ত গুটিকা দেখা যায়। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সর্বাঙ্গে গুটিকা ভরিয়া যায়। গুটিকাগুলি প্রথমে সরিষার ন্যায় ক্ষুদ্র থাকে, পরে সর্বাঙ্গের গুটিকাই বড় গোলাকার ও লাল আভাযুক্ত হয়। ৭/৮ দিনের মধ্যে গুটিকা খুঁজে ভর্তি হইয়া যায়। গুটিকা বেশী নির্গত হইলে একসঙ্গে জুড়িয়া যায় এবং অনেক স্থানে গুটিকা গলিয়া ক্ষত সৃষ্টি হয়।
৩) ক্ষতে মামড়ি পড়া অবস্থা- ৯/১০ দিন পর হইতে গুটিকাতে মামড়ি পড়িতে আরম্ভ করে।


প্রশ্ন- বসন্ত রোগের সৃষ্ট জটিলতাসমূহ কি কি?
উত্তর : বসন্ত রোগের সৃষ্ট জটিলতাসমূহ- বসন্ত রোগ নিম্নলিখিত জটিলতা সৃষ্টি করিয়া থাকে। যথা-
১) চর্ম হইতে পচন ক্রিয়া আরম্ভ হইতে পারে। শরীরে অজস্র ফোঁড়া উঠিতে পারে এবং শয্যাক্ষত হইতে পারে।
২) ব্রঙ্কাইটিস প্রভৃতি শ্বাসযন্ত্রের জটিলতা সৃষ্টি হইতে পারে। অন্ননালী ও বায়ুনালীতে ক্ষত হইতে পারে।
৩) হৃদপিণ্ডের ক্রিয়া বন্ধ হইয়া যাইতে পারে।
৪) চক্ষুর প্রদাহ আসিতে পারে। চক্ষুর মধ্যে ক্ষত হইতে পারে এবং অক্ষি গোলকের পশ্চাৎ ঝিল্লী হইতে রক্তস্রাব হইয়া দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হইতে পারে।
৫) মূত্রগ্রন্থি হইতে রক্তস্রাব হইতে পারে। অণ্ডকোষ প্রদাহ হইতে পারে। সম্ভান উৎপাদন ক্ষমতা বিনষ্ট হইতে পারে।
৬) সাময়িক স্নায়বিক গোলযোগ দেখা দিতে পারে।
৭) দৃষ্টি শক্তি ও শ্রবণ শক্তি বিলুপ্ত হইতে পারে। বসন্তের গুটির দাগ ও গর্তের জন্য চেহারার বিকৃতি ঘটিতে পারে।


প্রশ্ন-  বসন্তরোগ প্রতিরোধের উপায় বর্ণনা কর।
উত্তর : বসন্তরোগ প্রতিরোধের উপায়- বসন্তরোগ প্রতিরোধ করিতে হইলে নিম্নলিখিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক। যথা-
১) টিকাই বসন্ত রোগের একমাত্র প্রতিষেধক। রোগের প্রকোপের সময় সুস্থ ব্যক্তিদের হোমিওপ্যাথিক প্রতিরোধক ঔষধ সেবন করাইতে হইবে।
২) বসন্ত রোগ দেখা দিলে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংবাদ দিতে হইবে।
৩) রোগী বা সন্দেহযুক্ত ব্যক্তিকে স্বতন্ত্র রাখিতে হইবে যাহাতে সুস্থ ব্যক্তি তাহার সাথে মিশিতে না পারে।
৪) রোগীকে মশারীর মধ্যে পৃথক ঘরে রাখিতে হইবে। তাহার ব্যবহারের জন্য পৃথক থালা বাসন ও আসবাবপত্রের ব্যবস্থা করিতে হইবে।
৫) রোগীর গৃহে প্রচুর আলো বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা থাকিতে হইবে এবং দরজা জানালার পর্দায় ফরমালিন ছিটাইয়া ভিজাইয়া দিতে হইবে।
৬) রোগীর মল, মূত্র, থুথু ইত্যাদি বিশোধন করিতে হইবে।
৭) প্রত্যেক সুস্থ ব্যক্তি নাক ও গলা পরিষ্কার রাখিবে এবং কোন বিশোধন দ্রব্য গলা পর্যন্ত লইয়া কুল্লী করিবে।
৮) যাহারা রোগীর সংস্পর্শে আসিয়াছে তাহাদিগকে বসন্তের সর্বমোট উপ্তিকাল পর্যন্ত অন্য লোকের সঙ্গে ত্যাগ করিতে হইবে।
৯) বসন্তে মৃত ব্যক্তিকে ৪০% ফরমালিন সলিউশানে সিক্ত কাপড়ে আবৃত করিয়া যত শীঘ্র কবরস্থ বা দাহ করিতে হইবে। মৃতদেহ সাধারণের যানবাহনে বহন করা উচিত নয়।
১০) বসন্ত রোগীর ব্যবহৃত বিছানা, লেপ, বালিশ, কাপড়- চোপড়, পোড়াইয়া ফেলা উচিত।
১১) টিকা না লইয়া রোগীর সংস্পর্শে আসা সম্পূর্ণ নিষেধ। 


প্রশ্ন- বসন্তের টিকার রোগ নিবারণ ক্ষমতা সম্বন্ধে যাহা জান লিখ।
উত্তর : বসন্তের টিকার রোগ নিবারণ ক্ষমতা- টিকা বসন্ত রোগের একমাত্র প্রতিষেধক। বসন্তের টিকা নেওয়ার তিনদিন পর টিকা দেওয়ার স্থানটিতে প্রথমে গায়ে গায়ে লাগা কয়েকটি ফুস্কুড়ি দেখা যায়। ৪/৫ দিন পর ঐ ফুস্কুড়ির মধ্যে পাতলা পানির মত এবং ৭/৮ দিনের মধ্যে সাদা রস দেখা দেয়। টিকার চারিদিকে সামান্য লাল হইয়া ফুলিয়া উঠে। তারপর ফুস্কুড়িগুলির মাথা ২/১ দিনের মধ্যে ভিতর দিকে বসিয়া যায়। দশদিন পর ইহা শুকাইতে আরম্ভ করে এবং ২০ দিনের মধ্যে উপরের মামড়ি শুকাইয়া খসিয়া যায়। বসন্তর টিকার ফলে রক্তের মধ্যে ইচ্ছা বসন্তের জীবাণুগুলিকে প্রতিহত করার মত শক্তি জন্মে।
যেসব দেশে পূর্বে বসন্ত রোগে লক্ষ লক্ষ লোকের মৃত্যু হইত সেসব দেশে টিকার প্রচলন হওয়া অবধি এই রোগের প্রকোপ কমিয়া গিয়াছে। ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, রাশিয়া, অস্ট্রিয়া, জার্মানী, জাপান প্রভৃতি দেশে শিশু জন্মানোর তিন হইতে ছয় মাসের মধ্যে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক হওয়ায় ঐ দেশে এখন বসন্ত রোগ নাই বলিলেই চলে। জীবনে অন্ততঃ তিনবার যাহারা টিকা নিয়াছে বহুক্ষেত্রেই তাহাদের রোগাক্রমণ হয় না: অথবা হইলেও অত্যন্ত মৃদুভাবে প্রকাশ পায়। যেসব দেশে এই রোগটি মহামারীরূপে দেখা দেয় সেখানে প্রত্যেক লোকের প্রতি তিন বৎসর অন্তর টিকা নেওয়া উচিত। টিকা নিলে প্রায় ক্ষেত্রেই বসন্ত রোগ প্রতিহত হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে রোগ হইলেও তাহা মৃদু ধরণের ও কম যন্ত্রণাদায়ক হয়।


প্রশ্ন- গুটি বসন্ত ও পানি বসন্তের মধ্যে পার্থক্য কি?
বা, গুটি বসন্ত ও পানি বসন্ত খালি চোখে দেখিয়া বুঝিবার উপায় কি?
উত্তর: গুটি বসন্ত ও পানি বসন্তের মধ্যে পার্থক্য- গুটি বসন্ত ও পানি বসন্তের মধ্যে নিম্নলিখিত পার্থক্য বিদ্যমান। যথা-

প্রশ্ন- পানি বসন্তের কারণ ও লক্ষণসমূহ কি কি?
উত্তর: পানি বসন্তের কারণ- পানি বসন্তের ভাইরাস হারপিজ জোষ্টারের ভাইরাসের মত। রোগীর সংস্পর্শে এই ভাইরাস দেহের মধ্যে গিয়া সংক্রমণ ঘটায়। রোগীর পোষাক পরিচ্ছদ, বিছানা পত্রের দ্বারা ইহা সংক্রামিত হয়।
পানি বসম্ভের লক্ষণ- রোগীর প্রথমে সর্দি হয়, সর্বাঙ্গে বেদনা হয়, সেই সাথে সামান্য জ্বর হইতে পারে। এই জ্বর ৩/৪ দিনের বেশী থাকে না। উদ্ভেদগুলি প্রথম বা'দ্বিতীয় দিনে দেখা যায়। গুটিকাগুলি প্রথম বুকে ও পিঠে দেখা দেয়। পরে হাতে, পায়ে মুখমণ্ডলে বিস্তার লাভ করে। ৩/৪ দিন পর ঝাঁকে ঝাঁকে গুটিকা উঠিতে থাকে। গুটিগুলি ভাসাভাসা নরম। উহার ভিতর পানির ন্যায় একপ্রকার তরল পদার্থ থাকে। ইহার ক্ষত গভীর হয় না, শুকাইয়া গেলে দাগ বেশী দিন থাকে না। অনেক সময় কোন কোন ক্ষেত্রে ইহা সাংঘাতিক আকার ধারণ করিতে পারে। তিনটি অবস্থায় ইহা মারাত্মক হয়। যেমন-যন্ত্রণাদায়ক ফোস্কা, পচনশীল ফোস্কা ও রক্তস্রাবী ফোস্কা। ব্রঙ্কাইটিস, ল্যারিনজাইটিস প্রভৃতি রোগ পানি বসন্তের সহিত। হইয়া জটিলতা সৃষ্টি করিতে পারে।


প্রশ্ন-  পানি বসন্ত কিভাবে সংক্রামিত হয়?
উত্তর: পানি বসন্ত যেভাবে সংক্রামিত হয়- একপ্রকার ভাইরাস দ্বারা এই রোগ সংক্রামিত হয়। রোগীর সংস্পর্শে দেহাভ্যন্তরে গিয়া সংক্রমণ সৃষ্টি করে। রোগীর পোষাক পরিচ্ছদ, বিছানা পত্রের দ্বারা, শ্লেষ্মা প্রভৃতির দ্বারা রোগ সংক্রামিত হইতে পারে। ইহা ছাড়াও যখন গুটিকার ক্ষত হইতে খোসা উঠিতে থাকে তখন রোগজীবাণু নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের সহিত অপরের শরীরে প্রবেশ করে। এই রোগের উত্তিকাল ২ সপ্তাহ।


প্রশ্ন-  হোমিওপ্যাথিক পদ্ধতিতে পানি বসন্তের চিকিৎসা ব্যবস্থা লিখ।
উত্তর: হোমিওপ্যাথিক পদ্ধতিতে পানি বসন্তের চিকিৎসা ব্যবস্থা- লক্ষণ অনুসারে নিম্নের ঔষধগুলি পানিবসন্তে ব্যবহৃত হয়।
একোনাইট, রাস টক্স, পালসেটিলা, এস্টিম টার্ট, ব্রায়োনিয়া, মার্ক সল প্রভৃতি।


প্রশ্ন- হাম কোন শ্রেণীর সংক্রামক ব্যাধি? হামের কারণ, রোগলক্ষণ, রোগ সংক্রমণ বা বিস্তার প্রণালী লিখ।
উত্তর : হামের শ্রেণী- হাম একপ্রকার ভাইরাসঘটিত অত্যন্ত ছোঁয়াচে সংক্রামক ব্যাধি।
হামের কারণ- একপ্রকার ভাইরাস দ্বারা এই রোগ সংঘটিত হয়। রোগীর সংস্পর্শে আসিলে তাহার হাঁচিল্কাশির মাধ্যমে সুস্থ দেহে রোগ সংক্রামিত হয়।
হামের রোগ লক্ষণ- প্রথমে সর্দি লাগে ও শীতবোধ হয় ও জ্বর হয়। নাক দিয়া
তরল সর্দি নির্গমণ ও চোখ দিয়া পানি পড়া। হাঁচি, শুষ্ক কাশি, চোখ মুখ লালবর্ণ হওয়া, চোয়ালের নিচে প্ল্যাণ্ড ফোলা, প্রভৃতি লক্ষণ সমূহ প্রকাশিত হয়। ৩য় দিনের শেষে বা ৪র্থ দিনে প্রথমে মুখ, কপাল ও গলায় পরে গায়ে এবং শেষে বাহুতে ও পায়ে উদ্ভেদ বাহির হয়। উদ্ভেদগুলি প্রথমে লাল ও ছোট থাকে পরে উহা সংযুক্ত হইয়া অর্ধবৃত্তাকার ধারণ করে, ঘোর লালবর্ণ হয়। ৩/৪ দিন পর উদ্ভেদগুলি স্নান হইয়া দুইদিনের মধ্যেই মিলাইয়া যায়। রোগ সংক্রমণ বা বিস্তার- এই ভাইরাসঘটিত রোগ রোগীর সংস্পর্শে আসিলে, তাহার হাঁচি কাশির মাধ্যমে সুস্থ দেহে সংক্রামিত হয়। নিঃশ্বাস, সর্দির তরল স্রাব ও উদ্ভেদের মামড়ি হইতেও রোগ সংক্রমণ হয়। ইহার উপ্তিকাল ৯-১৭ দিন। প্রথমে ইতস্তত প্রকাশ পাইয়া শীঘ্রই ব্যাপক আকার ধারণ করে।


প্রশ্ন-  হামের রোগ নিবারণ ব্যবস্থা লিখ।.
উত্তর : রোগ নিবারণ ব্যবস্থা- নিচে হামের রোগ নিবারণ ব্যবস্থা উল্লেখ করা হইল। যথা-
i) হামের রোগীকে যতদিন কাশি ও রোগ সারিয়া না যায় ততদিন স্বতন্ত্র করিয়া রাখিতে হইবে।
ii) রোগীর ব্যবহৃত কাপড়-চোপড়, তৈষজপত্র এবং অন্যান্য দ্রব্য বিশোধন করিয়া পৃথক রাখিতে হইবে।
iii) রোগাক্রান্ত বা সন্দেহজনক শিশুর স্কুলে আসা বন্ধ করিতে হইবে। রোগ ব্যাপক আকার ধারণ করিলে কিছু দিনের জন্য স্কুল বন্ধ করিয়া দেওয়া উচিত।
iv) রোগীর যাহাতে কোন ঠাণ্ডা না লাগে তাহার ব্যবস্থা করিতে হইবে। বিশুদ্ধ বায়ু ও আলোকযুক্ত ঘরে রাখিতে হইবে।
v) গরম পানিতে গামছা ভিজাইয়া তাহা নিংড়াইয়া লইয়া গা মোছাইয়া দেওয়া ভাল। ইহাতে উদ্ভেদ বাহির হওয়ায় সহায়তা করে।


প্রশ্ন-  হামের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা লিখ।
উত্তর: হামের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতি- হামের প্রধান ঔষধ একোনাইট, বেলেডোনা, ব্রায়োনিয়া, এন্টিম টার্ট, হিপার প্রভৃতি।
ইহাছাড়া প্রয়োজনবোধে লক্ষণানুসারে চায়না, সালফার, ক্যামোমিলা, সাইলিসিয়া, কফিয়া, নাক্সভম, ফসফরাস, ওপিয়াম, ডিজিটেলিস প্রভৃতি প্রযোজ্য।


প্রশ্ন- মাম্পস কি? মাম্পস বা কর্ণমূল প্রদাহের লক্ষণ লিখ।
উত্তর : মাম্পস- কর্ণমূলের নিম্নে অবস্থিত দুইটি লালাস্রাবী প্যারাটড গ্রন্থির বৈশিষ্ট্যমূলক প্রদাহযুক্ত জীবাণুঘটিত তরুণ সংক্রামক ব্যাধিকে মাম্পাস বা কর্ণমূল প্রদাহ বলে। মাম্পসের লক্ষণ- প্রথমে লালা নিঃস্রাবী গ্রন্থি ও কর্ণমূল ফুলিয়া উঠে। সঙ্গে সঙ্গে একটু জ্বরও হইতে পারে। কিছু চিবাইবার বা গিলিবার সময় বেদনা বৃদ্ধি পায়। কর্ণমূলের স্ফীতি ক্রমশঃ বৃদ্ধি পাইতে থাকে। অল্পদিনের মধ্যে ইহা কমিতে শুক করে এবং এক সপ্তাহের মধ্যে একেবারে বিলুপ্ত হয়। অনেক সময় হাম, টাইফয়েড প্রভৃতি রোগের সাথেও এই রোগ জটিলতা সৃষ্টি করে।


প্রশ্ন-  মাম্পসের রোগ সংক্রমণ বা বিস্তার প্রণালী ও রোগ নিবারণ পদ্ধতি লিখ।
উত্তর: মাম্পসের রোগ সংক্রমণ- এই রোগের জীবাণু সর্দি, মুখের লালা, মূত্র প্রভৃতি হইতে নির্গত হইয়া অন্য ব্যক্তিকে সংক্রামিত করে। যাহার দেহে রোগ লক্ষণ প্রকাশ পায় নাই তাহার মাধ্যমেও রোগ সংক্রমিত হইতে পারে।
মাম্পসের রোগ নিবারণ- শিশুদের যাহাতে ঠাণ্ডা না লাগে সেদিকে দৃষ্টি রাখিতে হইবে। এই রোগের উপ্তিকাল ১৭ হইতে ২৩ দিন। যাহাতে অন্য কেহ রোগীর সহিত মিশিতে না পারে তজ্জন্য কর্ণমূল ফোলার সাথে' সাথে রোগীকে পৃথক রাখিতে হইবে। সম্ভব হইলে হাসপাতালে পাঠানো শ্রেয়।


প্রশ্ন- মাম্পসের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতি সম্বন্ধে লিখ।
উত্তর : মাম্পসের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা- হোমিওপ্যাথিতে লক্ষণানুসারে
নিম্নের ঔষধগুলি ব্যবহৃত হয়। যথা-
একোনাইট- জ্বর, পিপাসা, অস্থিরতা, উৎকণ্ঠা ও ব্যথা।
কার্বোভেজ- কর্ণমূলের ফোলা, কমিয়া বালিকার স্তন, বালকের পুংঅও কুলিয়া উঠে। কঠিন স্ফীতিসহ জ্বর।
জ্যাবোরাত্তি প্রচুর পুধু নির্গত হইলেও মুখের ভিতর শুষ্কতাবোধ।।
পালসেটিলা- রোগ জটিল হইয়া অণ্ডকোষের বীচি, ওভেরী বা স্তন আক্রান্ত হয়।
ব্রোমিয়াম- বামদিক আক্রান্ত। গ্রীষ্মকালে গ্রন্থি ফুলিয়া খুব শক্ত হয়।
ইহা ছাড়া অরাম মিউর, ফেরাম ফস, হিপার, প্যারোটাইডিনাম, বেলেডোনা, এন্টিম টার্ট, মার্ক কর, ডাল্কামারা প্রভৃতি লক্ষণানুসারে ব্যবহৃত হয়।
 


প্রশ্ন- টিটেনাস বা ধনুষ্টংকার কোন শ্রেণীর সংক্রামক ব্যাধি? এই রোগের কারণ ও রোগ বিস্তার প্রণালী বর্ণনা কর।

উত্তর : টিটেনাস যে শ্রেণীর সংক্রামক ব্যাধি টিটেনাস মৃত্তিকাবাহিত সংক্রামক ব্যাধি।
রোগের কারণ- কৃষ্টিডিয়াম টিটানি নামক এক প্রকার জীবাণু সংক্রমণ এই রোগের কারণ।
রোগবিস্তার প্রণালী- গরু বা ঘোড়ার অস্ত্রের মধ্যে ধনুষ্টংকার জীবাণু দেখিতে পাওয়া যায়। সুতরাং উহাদের বিষ্ঠাই এই প্রকার জীবাণুর স্বাভাবিক বাসস্থান। এই মল রাস্তাঘাটে, গোয়ালে, আস্তাবলে বা ভিজায়াটির সাথে মিশিলে জীবাণুগুলি সেখানে দ্রুত বাড়িতে থাকে। এইরূপ স্থানে পড়িয়া গিয়া কাহারো কোন স্থান কাটিয়া গেলে জীবাণু সেই ক্ষত স্থান দিয়া রক্তের সাথে মিশিয়া যায়। তারপর জীবাণুগুলি বিষ নিঃসরণ করে। এই বিষ রক্তের সাথে মিশিয়া সমস্ত দেহে ছড়াইয়া পড়ে এবং রোগের বিস্তার ঘটায়।


প্রশ্ন- টিটেনাস বা ধনুষ্টংকারের লক্ষণাবলী ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা লিখ।
উত্তর : টিটেনাসের লক্ষণাবলী- কোনস্থানে পড়িয়া গিয়া কাটিয়া গেলে রোগ জীবাণু ক্ষতস্থান দিয়া রক্তের সাথে মিশিয়া যায়। সাধারণতঃ ৮/১০ ঘণ্টার মধ্যে এইরোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। তবে জীবাণু সংক্রমণের ২ হইতে ২১ দিনের মধ্যেও রোগের লক্ষণ প্রকাশ পাইতে পারে। প্রথমে রোগীর দাঁতকপাটি লাগে এবং মুখ খুলিতে পারে না। তারপর জ্বরে পেশীসমূহ আড়ষ্ট হওয়ায় সে ধনুকের মত বাঁকিয়া যায় ও অজ্ঞান হইয়া পড়ে। রোগীর শ্বাস নিতে এবং কথা বলিতে কষ্ট হয়। সময় মত চিকিৎসা না হইলে রোগী মারা যায়।
টিটেনাসের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা-
১) রাস্তায়, আস্তাবলে, গোয়ালে কেহ পড়িয়া গিয়া কোন স্থান কাটিয়া গেলে তাহার ক্ষতস্থান হাইড্রোজেন পার অক্সাইড দিয়া ধুইয়া টিংচার আয়োডিন লগাইয়া ব্যাণ্ডেজ বাঁধিয়া দিতে হইবে।
২) দুর্ঘটনার পর যতশীঘ্র সম্ভব ইনজেকশান দেওয়া উচিত।
৩) গোয়াল, আস্তাবল প্রভৃতিস্থান ফিনাইল দিয়া পরিষ্কার করা দরকার। এই সকল স্থানে কখনও নগ্ন পদে যাওয়া উচিত নয়।
৪) বসতবাড়ী ও সাধারণের রাস্তা প্রভৃতি হইতে গরু, ঘোড়ার গোবর দ্রুত দূরীকরণের ব্যবস্থা করিতে হইবে।


প্রশ্ন- টিটেনাসের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা সম্বন্ধে যাহা জান লিখ।
উত্তর : টিটেনাসের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা- লক্ষণানুসারে নিম্নের ঔষধগুলি ব্যবহৃত হয়। যথা-
একোনাইট- ঠাণ্ডা লাগার ফলে পীড়া।
এঙ্গাটুরা- আঘাত হেতু। পিঠের পেশীর ঝাঁকানি। দাঁত বাহির হয়।
বেলেডোনা- অত্যন্ত অস্থিরতা, হাতে পায়ে খিল ধরাসহ কাঁপুনি।
সাইকিউটা- মাথায় ও মেরুদণ্ডে আঘাতহেতু পীড়া!
এসিড হাইড্রো- দেহ আড়ষ্ট হইয়া পিছন দিকে বাঁকিয়া যায়।
হাইপেরিকাম- স্নায়ুময় অংশে আঘাতজনিত পীড়া।


প্রশ্ন- ডিপথেরিয়া কোন শ্রেণীর সংক্রামক ব্যাধি? এই রোগের কারণ ও রোগ সংক্রমণ প্রণালী বর্ণনা কর।
ব্যাধি। 
উত্তর: ডিপথিরিয়া যে শ্রেণীর ব্যাধি ইহা শ্লেস্মাকণা ও বায়ুবাহিত সংক্রামক ডিপথিরিয়া রোগের কারণ- ক্রেবস লোফার ব্যাসিলাস নামক এক প্রকার জীবাণু সংক্রমণ এই রোগের কারণ। রোগাক্রান্ত ব্যক্তি দ্বারা প্রত্যক্ষভাবে চুম্বন, হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে অথবা পরোক্ষভাবে খাদ্য, পানীয়, কাপড় চোপড়, খেলনা ইত্যাদির মাধ্যমে রোগজীবাণু দেহাভ্যন্তরে প্রবেশ করে।
ডিপথিরিয়ার সংক্রমণ প্রণালী- রোগীর হাঁচি, কাশি, থুথু, শ্লেষ্মা ও কফের সহিত রোগ জীবাণু নির্গত হয় এবং শ্বাস প্রশ্বাসের সময় উহারা সুস্থ লোকের দেহে প্রবেশ করিয়া রোগ বিস্তার লাভ করে। রোগীর শ্লেষ্মা, কফ ইত্যাদি দ্বারা দুধ, রোগীর ব্যবহৃত থালাবাসন, কাপড়চোপড়, আসবাবপত্র ইত্যাদি সংক্রামিত হইয়া রোগ বিস্তার লাভ করে। তাহা ছাড়া বিড়াল রোগীর উচ্ছিষ্ট খাইয়া অন্য খাদ্য বা দুধে মুখ দিলে সেই খাদ্য ও দুধ পানেও রোগ বিস্তার লাভ করে। প্রত্যক্ষ চুম্বনের মাধ্যমেও রোগ সংক্রমিত হয়।
 


প্রশ্ন-  ডিপথিরিয়া রোগের লক্ষণ ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা লিখ।
উত্তর : ডিপথিরিয়া রোগের লক্ষণ- সর্দি, কাশি ও জ্বর এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণ। গলার ভিতর আলাজিব ও তাহার চারিপার্শ্বে এবং টনসিলের উপর সাদা রঙের ছোট ছোট সরের কুঁচির মত একপ্রকার পদার্থ দেখা যায়। মুখ দিয়া লালা পড়ে। ২/৩ দিন পরেই ঐ সমস্ত সাদা পদার্থ একত্রে মিলিত হইয়া একটা সাদা পর্দার মত হয়। এই সময় রোগীর কোন দ্রব্য গিলিতে কষ্ট হয়, গলায় অত্যন্ত বেদনা হয়। জ্বর ১০২০-১০৪০ পর্যন্ত হইতে পারে।
ডিপথিরিয়ার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা-
i) রোগীকে হাসপাতালে পাঠাইতে হইবে। তাহা না হইলে আলাদা ঘরে স্বতন্ত্রভাবে তাহাকে রাখিতে হইবে।
ii) রোগাক্রমণের সাথে সাথে কালবিলম্ব না করিয়া সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করিতে হইবে।
iii) রোগীর কক্ষ, কাশি, থুথু ইত্যাদি বিশোধন করিতে হইবে।
iv) শিশুরা যাহাতে রোগীর সংস্পর্শে না আসে সেদিকে সাবধানতা অবলম্বন করিতে হইবে।
v) রোগীর পোষাক পরিচ্ছদ, স্লেট-পেন্সিল, থালা-বাসন প্রভৃতি অন্য কেহ ব্যবহার করিবে না।
vi) রোগীর সঙ্গীরা কেহ এই রোগ জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হইয়াছে কিনা তাহা পরীক্ষা করিতে হইবে।
vii) রোগীর যাহাতে ঠাণ্ডা না লাগে সেদিকে লক্ষ্য রাখিতে হইবে।
হইবে। 
viii) যাহাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নাই তাহাদিগকে টিকা লইতে


প্রশ্ন- ডিপথিরিয়ার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা সম্বন্ধে যাহা জান লিখ।
উত্তর : ডিপথিরিয়ার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা- লক্ষণানুসারে নিম্নের ঔষধগুলি এই রোগে ব্যবহৃত হয়। যথা-
ডিপথেরিনাম- প্রথম হইতেই রোগীকে মৃত্যুপথ যাত্রী মনে হইলে এবং পক্ষাঘাত লক্ষণ থাকিলে ইহা উৎকৃষ্ট।
ল্যাকেসিস- ইহা ডিপথিরিয়ার শ্রেষ্ঠ ঔষধ। গলদেশের অতিশয় স্পর্শকাতরতা, প্রথমে বামদিকে আক্রান্ত হইয়া ডানদিকে প্রসারিত হয়। নাক দিয়া পাতলা ক্ষতকর স্রাব নির্গমন।
আর্সেনিক- গলার ভিতর ও বাহিরে স্ফীতি, কৃষ্ণবর্ণ পর্দা, অতিশয় দুর্গন্ধ এবং শোথবৎ স্ফীতিসহ সাংঘাতিক ডিপথিরিয়া। রোগীর অন্তিম অবস্থায়।
মার্ককর- গলার মধ্যে তীব্র প্রদাহ ও জ্বালাসহ সংকোচনবোধ, প্রচুর লালা নিঃসরণ।
এপিস- গলমধ্যে শোথবৎ স্ফীতি। ফুস্কুড়ি ও ক্ষত যুক্ত জিহ্বা। গিলিতে কষ্ট। অবসাদ ও অস্থিরতা।
ইহা ছাড়া ব্যাপটিসিয়া, ক্রোটেলাস, নেট্রাম আর্স, ফাইটোলাক্কা, নাইট্রিক এসিড, এরাম ট্রাই প্রভৃতি ঔষধগুলি লক্ষণানুসারে ব্যবহৃত হয়।


প্রশ্ন-  ইনফ্লুয়েঞ্জা কোন শ্রেণীর সংক্রামক ব্যাধি? এই রোগের কারণ ও রোগ বিস্তারপ্রণালী বর্ণনা কর।
উত্তর : ইনফ্লুয়েঞ্জা- ইনফ্লুয়েঞ্জা শ্লেষ্মা কণা ও বায়ুবাহিত সংক্রামক ব্যাধি।
ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগের কারণ- ইহা ভাইরাস-জাতীয় জীবাণুঘটিত রোগ।
Bacillus Pieiffer নামক একপ্রকার রোগজীবাণু সংক্রমণ এই রোগের কারণ। উক্ত রোগজীবাণুর সাথে নিউমোকক্কাস এবং স্ট্রেপটোকক্কাস নামক রোগজীবাণু যোগ দিলে পীড়ার জটিল লক্ষণসমূহ প্রকাশ পায়।
ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগ-বিস্তার প্রণালী- রোগাক্রান্ত ব্যক্তির শ্লেষ্মা, থুথু, হাঁচি ইত্যাদির সহত রোগজীবাণু নির্গত হইয়া সুস্থ লোকের নাক মুখ দিয়া শরীরে প্রবেশ করিয়া রোগ সংক্রমণ করে। অপ্রশস্ত বদ্ধস্থানে কাশি, হাঁচির মাধ্যমে রোগজীবাণু সহজে দেহে প্রবেশ করে। রোগীর ব্যবহৃত দ্রব্যাদি যেমন কাপড় চোপড়, রুমাল ইত্যাদির সহিত রোগজীবাণু মিশিয়া রোগ বিস্তার করিতে পারে।



প্রশ্ন- ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগের লক্ষণাবলী ও রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থা লিখ।
উত্তর : ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগের লক্ষণাবলী- জ্বর, মাথাব্যথা, শীতশীত বোধ, সর্বাঙ্গে বেদনা, চোখের পাতায় বেদনা, গলা বেদনা, হাঁচি, কাশি চোখ দিয়া পানি পড়া, নাক দিয়া অনবরত তরল সর্দি নির্গমন প্রভৃতি ইহার প্রধান লক্ষণ। ইহাতে শ্বাসযন্ত্র, পরিপাক ও স্নায়ুতন্ত্র আক্রান্ত হয়। জ্বর সাধারণত ১০২০ বা তাহার বেশীও হয়। নাড়ীর স্পন্দন ধীর বা সামান্য দ্রুত হয়।
ইনফ্লুয়েঞ্জার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা-
i) রোগাক্রান্ত ব্যক্তির সংস্রব ত্যাগ করিতে হইবে এবং রোগীকে পৃথকভাবে রাখিতে হইবে।
ii) রোগের প্রাথমিক অবস্থা বেশী সংক্রমণ সৃষ্টি করে। কাশি বা হাঁচির দ্বারা যাহাতে অপরে সংক্রামিত না হয় সেজন্য রুমাল দ্বারা কাশি বা হাঁচি হইতে নিক্ষিপ্ত সর্দিকণা আটকাইতে হইবে।
iii) রোগীর ব্যবহৃত রুমাল, কাপড় চোপড় কেহ ব্যবহার করিতে পারিবে না।
iv) কফ, শ্লেষ্মা ইত্যাদি বিশোধনের ব্যবস্থা করিতে হইবে।
v) বাসগৃহে প্রচুর আলো বাতাসের ব্যবস্থা করিতে হইবে।
vi) জনাকীর্ণ স্থান, বদ্ধ কক্ষ বা যানবাহন বর্জন করিতে হইবে। ঠাণ্ডা লাগানো নিষিদ্ধ।
vii) মুখাবরণ (Musk) ব্যবহার করিলে সংক্রমণের আশংকা কম থাকে। শুশ্রূষাকারীদের জন্য ইহা প্রয়োজন।


প্রশ্ন-  ইনফ্লুয়েঞ্জার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বর্ণনা কর।
উত্তর: ইনফ্লুয়েঞ্জার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা- নিম্নের ঔষধগুলি লক্ষণানুসারে ব্যবহৃত হয়। যথা-
একোনাইট- সর্দির প্রথমাবস্থায় শীতশীত বোধ। জ্বরভাব, মাথাবেদনা, হাত পায়ে ব্যথা, অস্থিরতা।
আর্সেনিক- সর্দিসহ হাঁচি। বিরক্তিকর কাশি, রাত্রে বৃদ্ধি। পিপাসা, অস্থিরতা, মৃত্যু ভয়। ইনফ্লুয়েঞ্জার উৎকৃষ্ট ঔষধ।
ব্রায়োনিয়া- সর্বাঙ্গে বেদনা, শিরঃপীড়া, কাশিতে বুকে ব্যথা।
রাস টক্স-সর্বাঙ্গে বেদনা, স্থির থাকিলে বৃদ্ধি, অস্থিরতা প্রভৃতি।
ব্যাপটিশিয়া- সর্বাঙ্গে বেদনা, শিরঃপীড়া, চক্ষুতে জল, অপরিস্কার জিহ্বা, অস্থিরতা তন্দ্রালুতা।
ইউপেটো পার্কো- পিঠে শীত শীত বোধ, হাড়ে ব্যথা।
ইহা ছাড়া হিপার, পালসেটিলা, মার্কসল, নাক্সডম, জেলাসিমিয়াম, বেলেডোনা প্রভৃতি ঔষধসমূহও লক্ষণানুসারে প্রযোজ্য।


প্রশ্ন-  কালাজ্বর আবিষ্কারকের নাম কি? এই রোগের কারণ ও রোগ লক্ষণসমূহ কি কি?
উত্তর: কালাজ্বরের আবিষ্কারক- লিসম্যানিয়া ও ডোনোভ্যানি নামক দুইজন বিজ্ঞানী এইরোগ আবিষ্কার করেন।
কালাজ্বরের কারণ- লিসম্যানিয়া ডোনোভ্যানি নামক একপ্রকার ক্ষুদ্রজীবাণু সংক্রমণ এই রোগের কারণ। এই জীবাণু রোগীদেহের সর্বত্র ব্যাপ্তি লাভ করে।-
কালাজ্বরের লক্ষণ- অনিয়মিত জ্বর, প্লীহা খুব বড় ও শক্ত হওয়া, রক্তহীনতা, শীত, কম্প, শিরঃপীড়া, শরীর ক্রমশঃ কৃশ হওয়া, নিশাঘর্ম, নাক ও দাঁতের মাড়ি দিয়া রক্ত পড়া, শরীরের রং পাংশু বর্ণ ধারন করা। নিম্নাঙ্গ ফোলা, সামান্য পেট ফোলা প্রভৃতি লক্ষণাবলী দৃষ্ট হয়। কোন কোন রোগীর লিভারও বৃদ্ধি পায়, গায়ে জ্বালা ও অত্যন্ত ক্ষুধা হয়।


প্রশ্ন- কালাজ্বর কোন শ্রেণীর সংক্রামক ব্যাধি? এই রোগের সংক্রমণ প্রণালী, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা লিখ।
উত্তর: কালাজ্বর যে শ্রেণীর রোগ- কালাজ্বর কীটপতঙ্গ বাহিত সংক্রামক ব্যাধি।
কালাজ্বরের রোগসংক্রমণ প্রণালী- স্যাণ্ড প্লাই বা বালি মক্ষিকা নামক এক প্রকার পতঙ্গ এই জীবাণু বহণ করে। এই পতঙ্গ যখন কালাজ্বরগ্রস্ত রোগীকে দংশন করে তখন জীবাণু বহন করিয়া নিয়া আসে। তারপর এই পতঙ্গ সুস্থ ব্যক্তিকে দংশন করিলে সুস্থ ব্যক্তির দেহে রোগজীবাণু প্রবিষ্ট হয়। এইভাবে কালাজ্বর সংক্রামিত হয়।
কালাজ্বরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা-
i) একই গৃহে অনেকে ঐ রোগে আক্রান্ত হয়। অতএব রোগাক্রান্ত গৃহগুলির সংস্রব ত্যাগ করিতে পারিলে সংক্রমণের আশংকা কমিয়া যাইবে।
হাইজিন এন্ড পাবলিক হেলথ ১৯৬
ii) কালাজ্বরগ্রস্ত রোগীর সত্বর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করিতে হইবে।
iii) বালি মক্ষিকা আর্দ্র, ছায়াযুক্ত, শীতল জায়গায় থাকে। আনাগারে, ইটের নিচে, রান্নাঘরের নর্দমা প্রভৃতি স্থানে ডিম পাড়ে এবং বংশ বৃদ্ধি করে। এই সকল স্থানে ইহাদেরকে বিনাশ করিতে হইবে যাহাতে বংশবৃদ্ধি করিতে না পারে। ডিডিটি ছড়াইয়া বংশবৃদ্ধি বিনাশ করা যায়।
iv) সুস্থ ব্যক্তিকে যাহাতে স্যাণ্ড ফ্লাই দংশন করিতে না পারে সেজন্য প্রত্যেককে মশারীর ভিতরে শয়ন করিতে হইবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ