নবম অধ্যায়
রোগ বহনকারী কীট পতঙ্গ
(Insects carrying diseases)
প্রশ্ন- রোগজীবাণু বাহক কীটপতঙ্গাদির বিবরণ দাও। কীটপতঙ্গ দ্বারা কি কি রোগের সংক্রমণ ঘটিয়া থাকে?
উত্তরঃ আমাদের দেশে এমন কতকগুলি কীটপতঙ্গ আছে যাহারা রোগ জীবাণু বাহক। ইহারা মানুষকে দংশন করিয়া বা অন্য উপায়ে মানুষের দেহে, জীবাণু ঢুকাইয়া নানা প্রকার সংক্রামক রোগের সৃষ্টি কুরিয়া থাকে। নিয়ে ইহাদের তালিকা প্রদান করা হইল। যথা-
উত্তর : মশা ও মাছি আমাদের যে যে ক্ষতি করে- মশার প্রভাব আমাদের দেশে বেশী। মশা দ্বারা অনেক রোগ বিস্তার লাভ করে। যেমন- এনোফিলিস মশা দ্বারা ম্যালেরিয়া, কিউলেক্স মশা দ্বারা ফাইলেরিয়া এবং এডিস মশা দ্বারা ডেঙ্গুজ্বর ও পীতজ্বর বিস্তার লাভ করে। একজন রোগগ্রস্ত ব্যক্তিকে দংশনের সময় মশা রক্তের সহিত রোগজীবাণু টানিয়া নেয় এবং অন্য সুস্থ ব্যক্তিকে দংশন করিবার সময় তাহার দেহে ঐ রোগজীবাণু প্রবেশ করাইয়া দেয়। ফলে দ্বিতীয় ব্যক্তিও ঐ রোগে আক্রান্ত হইয়া পড়ে। এইভাবে রোগের সংক্রমণ ঘটাইয়া মশা আমাদের ক্ষতি করিয়া থাকে।
মশা ও মাছি যেভাবে রোগের সংক্রমণ ঘটায়- অনিষ্টকারী কীটপতঙ্গাদির মধ্যে মাছিই সর্বাপেক্ষা অধিক রোগ বিস্তার করে। যেমন- কলেরা, টাইফয়েড, আমাশয়, উদরাময় প্রভৃতি রোগ মাছি দ্বারাই সংক্রামিত হয়। মল নিষ্পত্তির স্থান, আবর্জনার স্তূপ, আস্তাকুঁড়, পচা দুর্গন্ধযুক্ত স্থান প্রভৃতিতে মাছির জন্ম। ঐ সকল অপরিষ্কার ও দূষিত স্থানে যাতায়াতের সময় ইহার পায়ে ও ডানায় ময়লা ও রোগ জীবাণু বহন করিয়া লইয়া আসে। পরে ঐ স্থান হইতে মাছি বসতবাড়ীতে আসিয়া অরক্ষিত খোলা খাদ্যদ্রব্যের উপর বসিয়া উহার পা ও ডানায় বহনকৃত ময়লা রোগজীবাণু খাদ্যদ্রব্যের উপর ছড়াইয়া দেয় এবং জীবাণুর সংক্রমণ ঘটায়। এই প্রকার দূষিত খাদ্য আহার করিয়া সুস্থ ব্যক্তি কলেরা, টাইফয়েড, আমাশয় প্রভৃতি রোগে আক্রান্ত হইয়া পড়ে। এইভাবে মাছি আমাদের ক্ষতি করিয়া থাকে।
i) বাড়ীর নর্দমা পরিষ্কার রাখা উচিত যাহাতে বৃষ্টির পানি ও ব্যবহৃত পানি নিষ্কাশন বন্ধ না হয়।
ii) ভাঙ্গা হাঁড়ি, কলসী, বোতল, টিন প্রভৃতির মধ্যে যাহাতে বৃষ্টির পানি জমিতে না পারে। ঐগুলি ভাঙ্গিয়া গুঁড়া করিয়া ফেলা উচিত।
iii) বাড়ীর আশে পাশে গর্ত, ডোবা, খানাখন্দক, পচা পুকুর, নালা প্রভৃতি মাটি দ্বারা ভরাট করিয়া দিতে হইবে যাহাতে ঐ সকল স্থানে পানি জমিয়া থাকিতে না পারে।
iv) বাড়ীর আশে পাশের ঝোপ, জংগল, আগাছা কাটিয়া পরিষ্কার করিতে হইবে।
v) ডোবা, বদ্ধ পুকুর বা জলাশয়, নর্দমা প্রভৃতি স্থানে সপ্তাহে একবার কেরোসিনের সাথে ডিডিটি মিশাইয়া দিতে হইবে। বাসগৃহে ও গোয়ালঘরেও এইরূপভাবে কেরোসিন ছিটানো উচিত।
উত্তর: মাছি নিবারণের উপায়- মাছি নিবারণের উপায় নিম্নরূপ। যথা-
i) পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা মাছির বংশবৃদ্ধি রোধের প্রধান উপায়। মাছি সাধারণতঃ মল, গোবর, পচা জন্তু ও উদ্ভিজ্জ পদার্থে ডিম পাড়ে। সুতরাং ঐসব আবর্জনা যাহাতে বাড়ী বা আশেপাশের জমিতে না পড়ে তাহার ব্যবস্থা করা উচিত।
এই সকল ময়লা আবর্জনা স্বাস্থ্যসম্মতভাবে দূরীকরণের ব্যবস্থা করিতে হইবে।
ii) প্রত্যেক বাড়ীতে স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা থাকিতে হইবে এবং বালক বালিকাসহ সকলেরই পায়খানায় মল ত্যাগের অভ্যাস করিতে হইবে।
iii) মাছির উৎপত্তি স্থান তথা মাছির ডিম বা শূক অবস্থা নষ্ট করার জন্য কার্বলিক এসিড, ফিনাইল, সোহাগা, ডিডিটি বা গ্যামাক্সিন পাউডার বিশেষ উপকারী।
iv) মাছি নিবারণের বিষয়ে সাধারণকে শিক্ষা দেওয়া যেমন- যেখানে সেখানে
আবর্জনা না ফেলিয়া পুঁতিয়া বা পোড়াইয়া ফেলা, নিয়মিতভাবে আবর্জনা পরিষ্কার করা প্রভৃতি।
উত্তর: বালি মক্ষিকার বিবরণ- বালি মক্ষিকা বা স্যাণ্ড ফ্লাই আকারে ক্ষুদ্র। ইহারা হুল দ্বারা রক্ত শোষণ করে। আকারে ক্ষুদ্র হওয়ায় ইহারা মশারীর ফাঁক দিয়া অনায়াসে প্রবেশ করিতে পারে। বালু মক্ষিকা সাধারণত ঘরের অন্ধকার কোণে, সিঁড়ির নিচে, রান্নাঘরের চতুষ্পাস্থ আর্দ্রস্থানে বা মুরগী ও ছাগল ভেড়া রাখিবার স্থানে ডিম পাড়ে। ডিমগুলি ফুটিয়া প্রথমতঃ শূককীট এবং ক্রমশঃ মূককীট ও পূর্ণাঙ্গ স্যাও ফ্লাই এ পরিণত হয়।
বালি মক্ষিকার নিবারণ- ইহাদের জন্মরোধ করিতে হইলে বসতবাড়ী পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখিতে হইবে। ফর্মালিন, ক্রিস্স বা ডিডিটি মাঝে মাঝে ইহাদের আশ্রয় স্থানে ছড়াইতে হইবে।
প্রশ্ন- উকুন কিভাবে কি কি রোগ বিস্তার করে। উকুন নিবারণের উপায় কি?
উকুন নিবারণের উপায়-
i) মাথার চুল ছোট করিয়া কাটিতে হইবে ও পরিষ্কার রাখিতে হইবে। সর্বদা ভালভাবে গোসল করিতে হইবে এবং চুল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখিতে হইবে। নিয়মিত মাথা আঁচড়াইতে হইবে।
ii) কাপড় চোপড় ও বিছানার চাদর সোডা মিশ্রিত পানিতে সিদ্ধ করিতে হইবে।
iii) গরমে উকুন ও উকুনের ডিম-ধ্বংস হয়। অতএব বিছানা ও জামা-কাপড়ে স্টীম দেওয়া প্রয়োজন। বিছানায় ন্যাপথলিন ব্যবহারে উকুন ধ্বংস হয়।

0 মন্তব্যসমূহ