প্রশ্ন- ডেমোগ্রাফি বা জনমিতি কাহাকে বলে? ডেমোগ্রাফির আলোচ্য বিষয়সমূহ কি কি?
উত্তর: জনমিতি বা ডেমোগ্রাফির সংজ্ঞা- ডেমোগ্রাফি বা জনমিতি বলিতে জনগণ সম্পর্কে বিজ্ঞান সম্মত জ্ঞান অর্জনকে বুঝায়। জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতা ও তাহার কারণ, জনসংখ্যা ও সম্পদের মধ্যে সম্পর্ক, উচ্চ জন্মহার ও-উচ্চ মৃত্যুহারের কারণ ও সমাধান, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক উন্নয়নে জনসংখ্যার প্রভাব, প্রভৃতি বিষয়ের আলোচনা জনমিতির অন্তর্ভূক্ত।
'জনমিতি বা ডেমোগ্রাফির আলোচ্য বিষয়- ডেমোগ্রাফি নিম্নলিখিত বিষয়গুলি আলোচনা করে। যথা-
i) প্রজনন ক্ষমতা (Fertility)
ii) মৃত্যুহার (Mortality)
iii) বিবাহ (Marriage)
iv) দেশান্তর গমন (Migration)
v) সামাজিক গতিশীলতা।
প্রশ্ন- বাংলাদেশের জনসংখ্যার গতিপ্রকৃতি সম্বন্ধে আলোচনা কর।
উত্তর : বাংলাদেশের জনসংখ্যার গতিপ্রকৃতি- বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ। জনসংখ্যার দিক হইতে বাংলাদেশ পৃথিবীর নবম বৃহত্তম দেশ। ১৯০১ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল ২.৮৯ কোটি। ১৯৫১ সালে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাইয়া ৪.৪১ কোটিতে দাঁড়ায়। ১৯০১ সাল হইতে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ ৫০ বৎসরে বাংলাদেশের জনসংখ্যা দ্বিগুণের কম বৃদ্ধি পায়। কিন্তু পরবর্তীকালে দেশে জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাইতে থাকে। ১৯৬১ সালে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাইয়া ৫.৫২ কোটি, ১৯৭৪ সালে ৭.৬৩ কোটি, ১৯৮১ সালে ৮.৯৯ কোটি, ১৯৯১ সালে ১১.১৪ কোটিতে দাঁড়ায়। অর্থাৎ ১৯৫১ সাল হইতে ১৯৯১ পর্যন্ত ৪০ বছরে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাইয়া দ্বিগুণ হয়। বর্তমানে ২০১৪ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬.৭৬ কোটি। বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হইল শতকরা ১.৫ ভাগ। এই হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাইতে থাকিলে আগামী ২০২০ সালে দেশের জনসংখ্যা ২০ কোটিতে দাঁড়াইবে।
প্রশ্ন- বাংলাদেশে জনাধিক্যজনিত সমস্যাগুলি কি কি?
অথবা, জনসংখ্যা সমস্যা বাংলাদেশের 'এক নম্বর সমস্যা'-কেন? আলোচনা কর।
উত্তর : বাংলাদেশে জনাধিক্যজনিত সমস্যাসমূহ- জনসংখ্যা বিস্ফোরণ বাংলাদেশের একনম্বর জাতীয় সমস্যা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে প্রতিবন্ধকতা স্বরূপ। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে প্রতিটি পরিবারই যে শুধু ক্ষতিগ্রস্ত হইতেছে তাহা নহে, বরং আমাদের জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হইতেছে। নিম্নে আমাদের সীমিত সম্পদের উপর জনাধিক্যের চাপ সম্পর্কে আলোচনা করা হইল। যথা-
i) দারিদ্র ও নিম্ন জীবনযাত্রার মান- বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার জাতীয় আয় বৃদ্ধির হার অপেক্ষা অধিক হওয়ার দরুণ মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির হাব কম। ফলে জীবন যাত্রার মান ও অতি নিম্নপর্যায়ে রহিয়াছে এবং দারিদ্র ক্রমশঃ বৃদ্ধি পাইতেছে।
ii) খাদ্য সমস্যা- বাংলাদেশে অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে প্রতি বৎসরই খাদ্য ঘাটতি দেখা দেয়। খাদ্য ঘাটতি পূরণের জন্য প্রতি বৎসর ১৫/২০ লক্ষ টন খাদ্য বিদেশ হইতে আমদানী করিতে হয়। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির হার অপেক্ষা জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার অধিক হওয়ায় দিনদিন মাথাপিছু-খাদ্যের পরিমাণ হ্রাস পাইতেছে।
iii) কৃষি জমির উপর চাপ- দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে কৃষি জমিগুলি
ক্রমাগত ও বিচ্ছিন্ন হইয়া পড়িতেছে। কৃষকদের ক্রমবর্ধমান দারিদ্র ও ভূমিহীনদের। সংখ্যা বৃদ্ধির মূলে রহিয়াছে কৃষি জমির উপর জনসংখ্যার চাপ।
iv) বেকার সমস্যা- দেশে যে হারে লোকসংখ্যা বৃদ্ধি পাইতেছে সেই হারে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি না পাওয়ায় দিনদিন বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাইতেছে।
হাইজিন এন্ড পাবলিক হেলথ ২০৩
৮) চিকিৎসা সমস্যা- জরাধিক্যজনিত সমস্যার কারণে চিকিৎসার সুযোগ
সকল নাগরিক পার না। হাসপাতালের স্বল্পতা, চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব, ডাক্তারের ও ঔষধের অভাব চিকিৎসা সমস্যাকে প্রকট করিয়া তুলিয়াছে।
vi) শিল্পায়ন ব্যাহত- ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা খাদ্য চাহিদা পূরণ করার জন্য
বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করিয়া খাদ্য আমদানী করিতে হয়। তাই শিল্পের যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল প্রভৃতি আমদানী করা সম্ভব হইতেছে না। ফলে দেশের শিল্পোন্নয়ন ও ব্যাহত হইতেছে।
প্রশ্ন- কোন কোন ব্যক্তি পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতিসমূহ ব্যবহারের উপযুক্ত নহে?
উত্তরঃ যে যে ব্যক্তি পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতিসমূহ ব্যবহারের উপযুক্ত নহে-নিম্নলিখিত অবস্থায় ও রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিগণ পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতিগুলি ব্যবহারের উপযুক্ত নহে। যথা-
1) পিউবার্টির পূর্বে।
ii) ক্যান্সার রোগ হইলে।
iii) হার্ট ডিজিজ হইলে।
iv) মানসিক ব্যধিগ্রস্ত হইলে।
v) ডায়বেটিস ও নেফ্রাইটিস রোগে।
vi) টিউবারকুলোসিস থাকিলে।
vii) হাইপারটেনশান থাকিলে।
viii) গর্ভাবস্থায় ও মেনোপোজের পর।
প্রশ্ন- একটি আদর্শ জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির কি কি বৈশিষ্ট্য থাকা উচিত?
উত্তর: আদর্শ জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির বৈশিষ্ট্যসমূহ- একটি আদর্শ জন্মনিয়ন্ত্রণ
পদ্ধতির নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্য থাকা উচিত। যথা-
ⅰ) গর্ভনিরোধ প্রায় ১০০% ভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়।
ii) যৌন উপভোগ ব্যাহত হয় না।
iii) গর্ভনিরোধক ঔষধপত্র ও সাজ সরঞ্জাম সস্তা ও সহজলভ্য।
iv) ব্যবহারে কোনরূপ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে না।
হাইজিন এন্ড পাবলিক হেলথ ২০৪
v) ব্যবহারে সহজ এবং কোনরূপ অসুবিধা হয় না।
vi) সন্তান ধারণের ক্ষমতাকে স্থায়ীভাবে প্রভাবিত করে না।
vii) পদ্ধতিগুলি জনপ্রিয়।
প্রশ্ন- একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক হিসেবে পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে তোমার অভিমত কি?
উত্তর : একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক হিসেবে পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে আমার অভিমত- হোমিওপ্যাথিক প্রাকৃতিক চিকিৎসা বিজ্ঞান। ইহাতে প্রাকৃতিক নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয়। সন্তান জন্মগ্রহণ করাও প্রাকৃতিক স্বাভাবিক নিয়ম। যদিও জন্মনিয়ন্ত্রণ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের নীতির পরিপন্থী তথাপি মানব কল্যাণের জন্য হোমিওপ্যথিতেও জন্যানিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন রহিয়াছে। পরিবার পরিকল্পনা এমন একটি ব্যবস্থা যাহা গ্রহণ করিলে মানুষের প্রতিবৎসর সন্তান না হইয়া উপযুক্ত বিরতির পর অর্থাৎ মাতাপিতার ইচ্ছামত সময়ে সন্তান লাভ করা যায়। জন্মনিয়ন্ত্রণ মানে ভ্রুণ নষ্ট করা নয়। মাতৃগর্ভে ইহার আগমণ বন্ধ করা বা ইচ্ছামত আনয়ন করাই পরিবার পরিকল্পনার উদ্দেশ্য। তদুপরি পরিবার পরিকল্পনা বলিতে ইহাও বুঝা যায় যে, যেসব দম্পতি সন্তান জন্মদানে অক্ষম হইয়াছেন, তাহাদের সন্তান লাভের জন্য উপযুক্ত উপদেশ প্রদান ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। তাই আমার মতে পরিবার পরিকল্পনার সাথে ধর্মীয় নীতি বা দৃষ্টি ভঙ্গীর কোন বিরোধিতা নাই। সুস্বাস্থ্য, সুন্দর ও উন্নত জীবন যাপন ও সীমিত আয়তনের ছোট পরিবার গঠনের লক্ষ্যে পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত।
কর।
প্রশ্ন- হোমিওপ্যাথিক মতে জন্ম নিয়ন্ত্রণের ঔষধ কি কি? আলোচনা কর।
উত্তর : হোমিওপ্যাথিক মতে জন্ম নিয়ন্ত্রণ- ১৯৭৯ সালের আগষ্ট মাসের 'বহুব্রীহি' পত্রিকার ঈদ সংখ্যায় ড়াঃ প্রসাদ বন্দোপাধ্যায় 'জন্ম নিয়ন্ত্রণে হোমিওপ্যাথি' নামক প্রবন্ধে লিখিয়াছেন যে, নেট্রাম মিউর, প্লাম্বাম মেট এবং এপিস মেল প্রভৃতি হোমিওপ্যাথিক ঔষধ শীঘ্র গর্ভধারণ ক্ষমতা নষ্ট করে। তন্মধ্যে একমাত্র নেট্রাম মিউরই দীর্ঘদিন ব্যবহার করিলে কোন ক্ষতি আশংকা নাই, অথচ গর্ভ বন্ধ থাকে।
সেবনবিধি- হোমিওপ্যাথিক নেট্রাম মিউর অপেক্ষা বায়োকেমিক নেট্রাম মিউর সেবন করা আরও নিরাপদ।
মাসিকের ৫ম দিন হইতে পরবর্তী মাসিক না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যহ সন্ধ্যায় নেট্রাম মিউর ৩০ শক্তির ছয়টি টেবলেট সামান্য গরম পানিসহ বা শুধু মুখে ফেলিয়া চুষিয়া খাইতে হইবে। প্রথম একমাস এইভাবে চলিবে। দ্বিতীয় মাসে প্রতি সন্ধ্যায় নেট্রাম মিউর ৩০ শক্তির ৬টি টেবলেট খাইতে হইবে। তৃতীয় মাসে নেট্রাম মিউর ১২০ শক্তি প্রতি সন্ধ্যায় ৫টি টেষলেট এবং চতুর্থ মাসে ৩০% শক্তির প্রতি সন্ধ্যায় ৫টি টেবলেট খাইতে হইবে। ৫ম মাসে মাসিকের ৫ম দিনে সন্ধ্যায় নেট্রাম মিউর হোমিওপ্যাথিক ১০০০ শক্তির একমাত্রা সেবন করিতে হইবে। এ মাসে আর ঔষধ সেবনের প্রয়োজন নাই। ৬ষ্ঠ মাসে পুনরায় প্রথম মাসের ন্যায় ৩০ এবং পূর্বানুরূপ পদ্ধতিতে ঔষধ সেবন করিতে হইবে। ২/১ দিন ঔষধ সেবনে ভুল হইলে কোন আশংকার কারণ নাই।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া- এই ঔষধ সেবনে ব্লাড প্রেসার সামান্য বৃদ্ধি পাইতে পারে। যদি তাশ হয় তবে সিপিয়া ৩০. বা ক্যাক্ষর ৩x দুই ঘন্টা অন্তর ৩/৪ মাত্রা সেবন করিতে হইবে। উদরাময় দেখা দিলে ফেরাম ফস ৩x তিনটি বটিকা ও কেলি ফস ৩. তিনটি বটিকা একঘন্টা অন্তর সেবন করিতে হইবে। তবে মাঝে মাঝে নেট্রাম ফস ও নেট্রাম সালফ ৬x খাওয়া যায়।
উত্তর : হোমিওপ্যাথিক মতে জন্ম নিয়ন্ত্রণ- ১৯৭৯ সালের আগষ্ট মাসের 'বহুব্রীহি' পত্রিকার ঈদ সংখ্যায় ড়াঃ প্রসাদ বন্দোপাধ্যায় 'জন্ম নিয়ন্ত্রণে হোমিওপ্যাথি' নামক প্রবন্ধে লিখিয়াছেন যে, নেট্রাম মিউর, প্লাম্বাম মেট এবং এপিস মেল প্রভৃতি হোমিওপ্যাথিক ঔষধ শীঘ্র গর্ভধারণ ক্ষমতা নষ্ট করে। তন্মধ্যে একমাত্র নেট্রাম মিউরই দীর্ঘদিন ব্যবহার করিলে কোন ক্ষতি আশংকা নাই, অথচ গর্ভ বন্ধ থাকে।
সেবনবিধি- হোমিওপ্যাথিক নেট্রাম মিউর অপেক্ষা বায়োকেমিক নেট্রাম মিউর সেবন করা আরও নিরাপদ।
মাসিকের ৫ম দিন হইতে পরবর্তী মাসিক না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যহ সন্ধ্যায় নেট্রাম মিউর ৩০ শক্তির ছয়টি টেবলেট সামান্য গরম পানিসহ বা শুধু মুখে ফেলিয়া চুষিয়া খাইতে হইবে। প্রথম একমাস এইভাবে চলিবে। দ্বিতীয় মাসে প্রতি সন্ধ্যায় নেট্রাম মিউর ৩০ শক্তির ৬টি টেবলেট খাইতে হইবে। তৃতীয় মাসে নেট্রাম মিউর ১২০ শক্তি প্রতি সন্ধ্যায় ৫টি টেষলেট এবং চতুর্থ মাসে ৩০% শক্তির প্রতি সন্ধ্যায় ৫টি টেবলেট খাইতে হইবে। ৫ম মাসে মাসিকের ৫ম দিনে সন্ধ্যায় নেট্রাম মিউর হোমিওপ্যাথিক ১০০০ শক্তির একমাত্রা সেবন করিতে হইবে। এ মাসে আর ঔষধ সেবনের প্রয়োজন নাই। ৬ষ্ঠ মাসে পুনরায় প্রথম মাসের ন্যায় ৩০ এবং পূর্বানুরূপ পদ্ধতিতে ঔষধ সেবন করিতে হইবে। ২/১ দিন ঔষধ সেবনে ভুল হইলে কোন আশংকার কারণ নাই।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া- এই ঔষধ সেবনে ব্লাড প্রেসার সামান্য বৃদ্ধি পাইতে পারে। যদি তাশ হয় তবে সিপিয়া ৩০. বা ক্যাক্ষর ৩x দুই ঘন্টা অন্তর ৩/৪ মাত্রা সেবন করিতে হইবে। উদরাময় দেখা দিলে ফেরাম ফস ৩x তিনটি বটিকা ও কেলি ফস ৩. তিনটি বটিকা একঘন্টা অন্তর সেবন করিতে হইবে। তবে মাঝে মাঝে নেট্রাম ফস ও নেট্রাম সালফ ৬x খাওয়া যায়।
0 মন্তব্যসমূহ