প্রাথমিক চিকিৎসা - দ্বিতীয় বর্ষ - একাদশ অধ্যায়

 একাদশ অধ্যায়
প্রাথমিক চিকিৎসা
(First Aid)







প্রশ্ন- প্রাথমিক চিকিৎসা কাহাকে বলে? প্রাথমিক চিকিৎসার সময় কি কি বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি রাখিতে হইবে?
উত্তর: প্রাথমিক চিকিৎসা- কোন ব্যক্তি হঠাৎ দুর্ঘটনায় পতিত হইলে বা হঠাৎ
গুরুতরভাবে কোনও কারণে অসুস্থ হইয়া পড়িলে পরিপূর্ণ চিকিৎসার পূর্বে আপদকালীন অবস্থায় রোগীর প্রাণ বাঁচানোর ব্যবস্থাকে প্রাথমিক চিকিৎসা বলে।
প্রাথমিক চিকিৎসার সময় নিম্নলিখিত বিষয়গুলির প্রতি দৃষ্টি রাখিতে হইবে-
i) রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় আলো বাতাসের ব্যবস্থা করিতে হইবে।
ii) আহত ব্যক্তির পোষাক পরিচ্ছদ খোলার দরকার হইলে এমনভাবে খুলিতে হইবে যাহাতে রোগীকে নড়াচড়া করাইতে না হয়। প্রয়োজনবোধে সেলাই, খুলিয়া বা কাঁচি দ্বারা কাটিয়া পোষাক খুলিতে হইবে।
iii) শ্বাস-প্রশ্বাসে যাহাতে কোন বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়, সেদিকে প্রখর দৃষ্টি রাখিতে হইবে।
iv) যদি রক্তস্রাব বা রক্তক্ষরণ থাকে তবে তাহা বন্ধ করার দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে।
v) রোগীর আহত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কোন অবলম্বনের সাহায্যে বাঁধিয়া রাখিতে হইবে।
vi) আঘাতের পর রোগীর দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা যদি ৯৮.৪ এর নীচে কমিয়া যায় তবে তাপমাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরাইয়া আনার ব্যবস্থা করিতে হইবে।
vii) আঘাতের স্থান ঢাকিয়া রাখিতে হইবে এবং ক্ষতস্থান যাহাতে দূষিত না হয় সেদিকেও দৃষ্টি রাখিতে হইবে।
viii) রোগীর সর্বপ্রকার আরামের ব্যবস্থা করিতে হইবে।
ix) রোগীর অবস্থা বুঝিয়া সামান্য গরম দুধ বা চা ধীরে ধীরে পান করানো যাইতে পারে। অবস্থা বিশেষ চোখে মুখে ক্রমান্বয়ে ঠাণ্ডা বা গরম পানির ঝাপ্টা দেওয়া যায়।



প্রশ্ন- প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা কর।
উত্তর: প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা- বর্তমান যুগে মানুষ যে কোন সময়
যে কোন প্রকারের আকস্মিক দুর্ঘটনায় পতিত হইতে পারে। বাড়ীঘর রাস্তাঘাট, যানবাহন, কর্মস্থল যে কোন জায়গায় এই দুর্ঘটনা সৃষ্টি হওয়া বিচিত্র নয়। আকস্মিক বিপদে অনেক সময় চিকিৎসককে খবর দিতে বা চিকিৎসক আসিতে বিলম্ব হইতে পারে। এই অবস্থায় প্রাথমিক চিকিৎসার জ্ঞান সকলের জানা থাকা আবশ্যক। নতুবা অনেক সময় দেখা যায় সাধারণ দুর্ঘটনায়ও প্রাথমিক চিকিৎসার অভাবে রোগী মৃত্যুবরণ করে। তাই প্রত্যেক নাগরিকের প্রাথমিক চিকিৎসার জ্ঞান বা দুর্ঘটনায় পতিত রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দ্বারা জীবনরক্ষা করার কৌশল জানা থাকা একান্ত প্রয়োজন।



প্রশ্ন- রক্তপাতের রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা কিভাবে করিতে হয়?
উত্তর : রক্তপাতের রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা- আজকাল যে কোন কারণে দুর্ঘটনায় দেহের কোন স্থান কাটিয়া গিয়া রক্তপাত হওয়ার ঘটনা অধিক দেখা যায়। এইরূপ অবস্থায় প্রথমে এক টুকরা তুলা স্পিরিটে ভিজাইয়া বা টিংচার আয়োডিন তুলতে ভিজাইয়া কাটা স্থানটি পরিষ্কার করিতে হইবে। তারপর রক্তপাত বন্ধের জন্য পরিষ্কার দুর্বা বা গাঁদা ফুলের পাতার রস লাগাইয়া পরিস্কার কাপড় দিয়া কাটা স্থানটি বাঁধিয়া দিতে হইবে। অতিরিক্ত রক্তপাত হইলে ক্ষত স্থান বা কাটা স্থানের উপরে বাঁধিয়া স্থানটি উপরের দিকে তুলিয়া ধরিতে হইবে। ক্ষতস্থান যাহাতে দূষিত না হয় সেদিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখিতে হইবে।



প্রশ্ন- আগুনে পোড়া রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা কিভাবে করিতে হয়?
উত্তর: আগুনে পোড়া রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা- যদি কোন ব্যক্তির জামা কাপড়ে আগুন ধরিয়া যায় তব এদিক সেদিক ছুটাছুটি না করিয়া মাটিতে বা মেঝেতে গড়াগড়ি দিয়া নিভানোর ব্যবস্থা করিতে হয়। মোটা কম্বল বা কাঁথা দিয়া চাপা দিলেও আগুন নিভিয়া যায়। পানি দ্বারা কখনও এই আগুন নিভানোর চেষ্টা - করা উচিত নয়। অগ্নিদগ্ধ স্থানে স্পিরিট, ডিমের সাদা অংশ অথবা চুনের পানি ও নারিকেল তৈল মিশাইয়া লাগাইয়া দিতে হয়। যদি বেশী পুড়িয়া যায় তবে যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করিতে হইবে।



প্রশ্ন-  বিষাক্ত সর্প দংশনের চিহ্ন কি? সর্প দংশনের প্রাথমিক চিকিৎসা লিখ?
উত্তর : বিষাক্ত সর্প দংশনের চিহ্ন বিষাক্ত সর্প দংশন করিলে দংশনের স্থানে এক ইঞ্চি বা তাহার সামান্য কম ব্যবধানে বিষ দাঁতের কাটা দাগ দুইটি ফোঁটার ন্যায় (০০) দেখা যায়।
সর্প দর্শনের প্রাথমিক চিকিৎসা- সাধারণতঃ পায়ে বা হাতে সর্প দংশন করিলে যে স্থানে দংশন করিয়াছে তাহার একটু উপরে দড়ি, রুমাল বা পরার কাপড় ছিঁড়িয়া শক্তভাবে পরপর তিনটি বাঁধন দিতে হইবে। ইহার নাম 'তাগা দেওয়া'। তাগা দেওয়ার পর দংশিত স্থানটি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে হইবে সাপটি বিষধর ছিল কিনা? যদি সাপটি বিষধর হইয়া থাকে তবে এক ইঞ্চি পরিমাণ ব্যবধানে বিষয় দাঁতের কাটা দুইটি দাগ (০০) ফোঁটার ন্যায় দেখা যায়। সাপটি বিষধর না হইলে দংশিত স্থানে কয়েকটি আঁচড়ের ন্যায় দেখা যাইবে। উপরোক্ত নিয়মে তাগা বাঁধিয়া গরম পানির ছিটা দিয়া টিপিয়া রক্ত বাহির করিয়া দিতে হয়। কিন্তু বিষধর সাপের দংশনে তাগা বাঁধার পর রোগীকে আরামপ্রদ স্থানে হেলান দিয়া বসাইয়া রাখিয়া বিষ নামানোর ব্যবস্থা করিতে হইবে। দংশিত স্থানের উপর ঠোঁট লাগাইয়া চুযিয়া রক্ত বাহির করা উত্তম। ইহার পর ক্ষত স্থানটি কার্বলিক এসিড বা স্পিরিট অব এমোনিয়া প্রয়োগ অথবা আগুনে পোড়া লাল লৌহ শলাকা দ্বারা দগ্ধ করিতে হইবে অথবা ক্ষত স্থানটি যাঁরালো ছুরি দ্বারা চিরিয়া তথায় গরম সেঁক দিতে হইবে। এই অবস্থায় ক্ষত স্থান হইতে রক্তস্রাব হইয়া রক্তের সহিত বিষ বাহির হইয়া আসিবে। তারপর কিছু পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট সামান্য পানিতে গুলিয়া ক্ষত স্থানে লাগাইয়া দিতে হইবে।




প্রশ্ন-  অস্থিভঙ্গের প্রাথমিক চিকিৎসা লিখ।
উত্তর: অস্থিভঙ্গের প্রাথমিক চিকিৎসা- দেহের কোনও স্থানের অস্থি ভাঙ্গিয়া গেলে রোগীকে শোয়াইয়া স্থিরভাবে রাখিতে হইবে। কোনস্থানে স্থানান্তর করিতে হইলে স্পিন্ট বা বাড় ব্যবহার করা উচিত। পায়ের অস্থি বা হাতের অস্থি ভাঙ্গিলে দুই ইঞ্চি চওড়া ও মোটামুটি লম্বা বাঁশের বা কাঠের টুকরা যোগাড় করিতে হইবে।
তাহা না করা গেলে পীচ বোর্ড কাটিয়া স্পিন্ট তৈরী করা যায়। পায়ের স্প্রিন্টগুলি পায়ের পাতা হইতে বস্তিদেশ পর্যন্ত দীর্ঘ এবং হাতের স্প্রিন্টগুলি প্রায় একফুট দীর্ঘ করিতে হইবে। স্পিন্ট লাগাইবার পূর্বে ভগ্ন হাত কিংবা পা খুব সাবধানে টানিয়া একটু সোজা করিতে হইবে। আহত স্থানে হাত রাখিয়া ভগ্ন অস্থির প্রান্তদ্বয় মিলাইয়া দিতে হইবে। ইহাতে সমস্ত হাড়টি সোজা থাকিবে। তৎপর আহত স্থান ন্যাকড়া কিংবা ভুলার প্যাড দিয়া আবৃত করিয়া স্প্রিন্টগুলি উহার উপর এবং নিচে সাজাইয়া শক্তভাবে বাঁধিয়া দিতে হইবে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর রোগীকে আবশ্যক হইলে হাসপাতালে অথবা অভিজ্ঞ চিকিৎসকের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।



প্রশ্ন- জলমগ্ন রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা লিখ।
বা, কিভাবে জলে ডুবা রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা করিতে হইবে?
উত্তর: জলমগ্ন রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা- জলমগ্ন ব্যক্তিরে উপরে তুলিলে অনেক সময় মৃত বলিয়া মনে হয়। শ্বাসরোধের কারণে রোগীর শরীরে মৃতব্যক্তির লক্ষণসমূহ প্রকাশ পায়। কিন্তু ইহাতে ভীত না হইয়া ধৈর্যের সাথে চিকিৎসা করিলে অনেক সময় রোগীর প্রাণ রক্ষা পায়। জলমগ্ন ব্যক্তিকে উপরে তোলার পর যদি তাহার নাকে মুখে কাদা থাকে তবে নাক মুখ হইতে পানি ও কাদা মুছিয়া পরিস্কার করিয়া দিতে হইবে। দেহে কোন পোষাক পরিচ্ছদ থাকিলে তাহা খুলিয়া ফেলিতে হইবে। মুখ হাঁ করাইয়া দুই পাটি দাঁতের মধ্যে ছোট একখণ্ড কাঠ দিয়া মুখ খোলা অবস্থায় রাখিয়া রোগীর দেহের মাঝামাঝি অংশ ধরিয়া তাহাকে তুলিতে হইবে, যাহাতে তাহার মাথা নিচের দিকে থাকে। এইরূপ করিলে তাহার নাক ও মুখ দিয়া ফুসফুস ও পেটের পানি বাহির হইয়া যাইবে। পানি পড়া বন্ধ হইলে রোগীকে চিৎ করিয়া শোয়াইয়া তাহার কোমরের নিচে একটা বালিশ রাখিতে হইবে। শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ থাকিলে নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে কৃত্রিম শ্বাসক্রিয়া চালাইতে হইবে।
কৃত্রিম শ্বাসক্রিয়ার পদ্ধতি- প্রথমে রোগীর দুই হাত টানিয়া তাহার মাথার উপরের দিকে নিতে হইবে। একজন রোগীর সামনে বসিয়া জিহ্বাটি টানিয়া বাহির করিবে। তারপর হাত দুইটি ভাঁজ করিয়া পাঁজরের উভয় পার্শ্বে আনিতে হইবে। চাপ দিলে ফুসফুস হইতে বায়ু নির্গত হইবে এবং চাপ ছাড়িয়া হাত দুইটি মাথার উপর নিলে ফুসফুসে বায়ু প্রবেশ করিবে। প্রতি মিনিটে ১০/১২ বার এই প্রক্রিয়া চালাইলে স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস চালু হইবে।
 



প্রশ্ন- খাদ্যের বিষক্রিয়া বলিতে কি বুঝ? খাদ্যের বিষক্রিয়ার রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা সম্বন্ধে আলোচনা কর।
উত্তর : খাদ্যের বিষক্রিয়া- কোন সুস্থ ব্যক্তি যদি দূষিত খাদ্য বা পানীয় গ্রহণ করার পর তাহার দেহে অসুস্থকর লক্ষণ প্রকাশ পায় তাহাকে খাদ্যের বিষক্রিয়া বলে।
খাদ্যের বিষক্রিয়ার কারণ- বাসি পচা খাদ্য দ্রব্য, পচা মাছ মাংস প্রভৃতি খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করা খাদ্যের বিষক্রিয়ার সাধারণ কারণ।
খাদ্যের বিষক্রিয়ার রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা- বাসি পচা বা দূষিত খাদ্য গ্রহণ
করার পর খাদ্যের বিষক্রিয়া সৃষ্টি হইলে প্রথমতঃ রোগীকে বমি করাইতে হইবে যাহাতে বিষাক্ত খাদ্যদ্রব্য বমির সাথে বাহির হইয়া যায়। রোগীর দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা কমিয়া গেলে রোগীর পায়ের তলায় গরম সেঁক দিতে হইবে। যদি শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হইয়া যাওয়ার উপক্রম হয় তবে কৃত্রিম উপায়ে শ্বাস চালানোর ব্যবস্থা করিতে হইবে। রোগী বেশী দুর্বল হইয়া পড়িলে গরম দুধ পান করানো যাইতে পারে।



প্রশ্ন-  সংজ্ঞাহীনতার প্রাথমিক ব্যবস্থাপনা লিখ।
উত্তর : সংজ্ঞাহীনতার প্রাথমিক ব্যবস্থাপনা- কোন কারণে রোগী সংজ্ঞাহীন হইয়া পড়িলে নিম্নোক্ত ব্যবস্থাপনাসমূহ গ্রহণ করিতে হইবে। যথা-
i) যত দ্রুত সম্ভব রোগীকে হাসপাতালে বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠাইতে হইবে।
ii) রোগীর গলার ভিতর পরিস্কার রাখিতে হইবে।
iii) প্রয়োজনে অক্সিজেন প্রয়োগ করিতে হইবে।
iv) পাকস্থলী ধৌত করার প্রয়োজন হইলে পাকস্থলী ধৌত করিতে হইবে।
v) প্রয়োজন হইলে শিরার মধ্যে দিয়া স্যালাইন ও গ্লুকোজ দিতে হইবে।
vi) রোগীকে শয্যায় পূর্ণ বিশ্রামে রাখিতে হইবে।
vii) রোগীর জিহ্বা যাহাতে পিছন দিকে উল্টিয়া না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখিতে হইবে।
viii) শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি, নাড়ীর গতি, গাত্রতাপ, ব্লাড প্রেসার প্রতি ১ ঘণ্টা পরপর রেকর্ড করিতে হইবে।
ix) ইনটেক এবং আউটপুট চার্ট লক্ষ্য রাখিতে হইবে।
x) শয্যাক্ষত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে।
xi) খাদ্যনালী দিয়া খাইতে না পারিলে ন্যাজোগ্যাষ্ট্রিক দিতে হইনে।




প্রশ্ন- কার্ডিয়াক ম্যাসেঞ্জ কাহাকে বলে? কার্ডিয়াক ম্যাসেজ দেওয়ার পদ্ধতি বর্ণনা কর।
উত্তর: কার্ডিয়াক ম্যাসেজ- হৃদপিণ্ডের গতিরোধ বা কার্ডিয়াক এরেস্ট হইলে
যে প্রক্রিয়ায় রোগীকে বাঁচাইয়া রাখা হয় তাহাকে কার্ডিয়াক ম্যাসেজ বলে। সাধারণতঃ ড্রাগ সেনসিটিভিটি, টক্সিক ইফেক্ট অব ড্রাগস, এ্যানাসথেসিয়া, মেজর সার্জিক্যাল অপারেশন, মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন, হার্টব্লক প্রভৃতি কারণে কার্ডিয়াক এরেস্ট হইতে পারে। এই অবস্থায় কার্ডিয়াক ম্যাসেজ দেওয়া আরম্ভ করিতে হয়।
কার্ডিয়াক ম্যাসেজ দেওয়ার পদ্ধতি-
i) রোগীকে চিৎভাবে মেঝেতে শোয়াইতে হইবে।
ii) যদি শ্বাস প্রশ্বাস বন্ধ থাকে তবে অন্য কেহ মুখে কৃত্রিম শ্বাস প্রশ্বাস দেওয়া। শুরু করিবে।
iii) রোগীর নাকে মুখে যাহাতে বায়ু প্রবেশ করিতে পারে সেজন্য মাথা পিছনে এবং মুখ উপর দিকে থাকিবে।
iv) রোগীর পা দুইটি অন্য একজন উঁচু করিয়া ধরিয়া রাখিবে।
v) যে চিকিৎসক ম্যাসেজ করিবেন তিনি রোগীকে বুকের সম্মুখে হাড়ের (স্টার্নম) অংশ নিচে বাম পার্শ্বে এক হাতের উপর অন্যহাত স্থাপন করিয়া উপর হইতে নিচের দিকে সমস্ত শরীর ওজনে তালে তালে চাপ দিতে হইবে এবং প্রতি মিনিটে ইহা কমপক্ষে ৬০ বার করিতে হইবে।




প্রশ্ন-  প্রাথমিক চিকিৎসায় যে সকল হোমিওপ্যাথিক ঔষধ ব্যবহৃত হয় ইহাদের নাম লিখ।
উত্তর : প্রাথমিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত হোমিওপ্যাথিক ঔষধসমূহ- একোনাইট, আর্নিকা, ক্যালেন্ডুলা, লিডাম, হাইপেরিকাম, হ্যামামেলিস, এমিল নাইট, দুর্বা প্রভৃতি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ